গ্যালারি জুড়ে দুয়োধ্বনি, ভুয়া…সাকিব..ভুয়া। দর্শকদের দুয়োর জবাব দিয়েছেন সাকিব ব্যাটে-বলে। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে সাকিব ফিরেছেন চিরচেনা রূপে। চোখের সমস্যায় ভুগতে থাকা টাইগার অলরাউন্ডার রান পাচ্ছিলেন না বিপিএল জুড়ে। দুর্দান্ত ঢাকার বিপক্ষে রানে ফিরেছেন দেশসেরা ক্রিকেটার। আর বল হাতে আগুনঝরিয়ে বিধ্বস্ত করেছেন ঢাকার ব্যাটিং লাইনআপ। সাকিব আল হাসানের অলরাউন্ড নৈপুন্যে ৬০ রানের বড় জয়ে শীর্ষস্থান নিজেদের দখলে রাখলো রংপুর রাইডার্স।
মঙ্গলবার ঢাকার আকাশ ছিল কুয়াশাচ্ছন্ন। ফ্লাডলাইটের আলোতে গড়ায় লড়াই। টসে জিতে রংপুরকে ব্যাটে আমন্ত্রণ জানান ঢাকার অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। নির্ধারিত ওভার শেষে ৪ উইকেটে ১৭৫ রানের সংগ্রহ গড়েছে নুরুল হাসান সোহানের দল। জবাবে নেমে ১৮ ওভারে ১১৫ রানে গুটিয়ে যায় ঢাকার ইনিংস।
চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুটা ভালো হয়নি ঢাকার। ৪ রানে দুই ব্যাটারকে হারায় তারা। এরপর নাঈম শেখ একপ্রান্ত আগলে রেখে রানের গতি বাড়ান। দলীয় ৫৭ রানে নাঈম ফিরে গেলে ধুঁকতে থাকে ঢাকা। চাপ কাটিয়ে ওঠা আর সম্ভব হয়নি মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতদের। সাকিব-মেহেদিদের তোপে ১১৫ রানে গুটিয়ে যায় ঢাকার ইনিংস।
তিনটি করে চার ও ছক্কায় ঢাকার হয়ে সর্বোচ্চ ৩১ বলে ৪৪ রান করেন নাঈম। বাকীদের মধ্যে ইরফান শুক্কর ১৫ বলে ২১, তাসকিন আহমেদ দুই ছক্কায় ৮ বলে ১৫ ও ১৮ বলে ১৩ রান করেন গুলবাদিন নাইব। এছাড়া অন্যরা কেউ পৌঁছাতে পারেননি দুই অঙ্কের ঘরে।
রংপুরের জার্সিতে ৪ ওভার বল করে ১৬ রান খরচায় ৩ উইকেট নেন সাকিব। এছাড়া শেখ মেহেদী, হাসান মাহমুদ ও সালমান ইরশাদ নেন একটি করে উইকেট।
এর আগে ব্যাটে নেমে রংপুরকে ঝড়ো শুরু এনে দেন দুই ওপেনার রনি তালুকদার ও বাবর আজম। ৭.৪ ওভারে ৬৭ রানে জুটি ভাঙে রনি ফিরে গেলে। ছয়টি চার ও এক ছক্কায় ২৪ বলে ৩৯ রান করেন টাইগার ওপেনার। তিনে ব্যাটে আসেন সাকিব। শুরু দিকে কিছুটা স্ট্রাগল করতে হয়েছে টাইগার অলরাউন্ডারকে।
১৪তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ১৫ রানে আউট হয়ে ফিরতে পারতেন সাকিব। মিডউইকেট অঞ্চলে বাউন্ডারি লাইনের কাছে ক্যাচ তালুবন্দি করতে না পেরে সাকিবকে ছক্কা উপহার দেন গুলবাদিন নাইব। পরের বলেও একই অঞ্চল দিয়ে ছক্কা হাঁকান সাকিব।
১৫তম ওভারের প্রথম বলে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের বল উড়ান স্কয়ার লেগ অঞ্চলে। এবারও ফিল্ডার ছিলেন গুলবাদিন। এ যাত্রায় অবশ্য ভুল করেননি এই আফগান। তালুবন্দি করে ফেরান বাবর আজমকে। পাঁচটি চারে ৪৩ বলে ৪৭ রান করে ফেরেন পাকিস্তান ওপেনার।
ওভারের তৃতীয় বলে স্ট্রাইকে যান সাকিব। মোসাদ্দেকের ডেলিভারি পাঠান মিডউইকেটের উপর দিয়ে। পরের বলও একইভাবে উড়িয়ে মারতে যান সাকিব। তবে এবার আর মাঠ পার করতে পারেননি। ধরা পড়েন নাইম শেখের হাতে। একটি চার ও তিনটি ছক্কায় ২০ বলে ৩৪ রান করেন সাকিব। আসরে এটাই সাকিবের সর্বোচ্চ রান।
১৬.২ ওভারে ১৩১ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় রংপুর। নামের সাথে সুবিচার না করেই ফিরে যান প্যাভিলিয়নে। ৭ বলে ৩ রান করেন এই আফগান। পরে শেষ ওভারে মোহাম্মদ নবীর তিন ছক্কায় ১৭৫ রানে থামে রংপুরের ইনিংস। তিন ছক্কায় ১৬ বলে ২৯ রানে অপরাজিত ছিলেন নবী, আর ১০ বলে ১৬ রানে সোহান।
ঢাকার হয়ে সৈকত নিয়েছেন দুটি, এছাড়া আরাফাত সানি ও সাব্বির হোসেন একটি করে উইকেট নেন।







