রংপুরের বিপক্ষে ম্যাচে নামার আগেই প্লে-অফ নিশ্চিত হয়েছিল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের। প্রথম কোয়ালিফায়ারে খেলার জন্য তাদের দরকার ছিল কেবল একটি জয়। পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থানে থাকা দলটিকে হারিয়ে তা নিশ্চিত করেছে লিটন দাসের দল। প্রথম কোয়ালিফায়ারে ফের মুখোমুখি হতে চলেছে কুমিল্লা ও রংপুর।
বিপিএলের চলতি আসরে সবার আগে প্লে-অফ নিশ্চিত করেছে রংপুর রাইডার্স। দুইয়ে থাকা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স এগিয়ে থাকলেও সিলেটের কাছে হেরে অপেক্ষা করতে হয়েছিল তাদের। তবে দিনের প্রথম ম্যাচে খুলনা টাইগার্সকে হারিয়ে নিজেদের পাশাপাশি কুমিল্লার প্লে-অফও নিশ্চিত করেছে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স।
লিগপর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে কুমিল্লার কাছে ৬ উইকেটে পরাজয় দেখেছে রংপুর। ১২ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে এখনও শীর্ষে বহাল রয়েছে রংপুর। ১১ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে কুমিল্লা। ১২ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে তিনে চট্টগ্রাম। এই তিন দলের প্লে-অফ নিশ্চিত। ১১ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে চারে ফরচুন বরিশাল।
পাঁচে থাকা খুলনার প্লে-অফের আশা এখনও শেষ হয়ে যায়নি। সেজন্য অবশ্য সমীকরণ মেলাতে হবে রূপসাপাড়ের দলটির। ১১ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট তাদের। কুমিল্লার কাছে বরিশাল হারলে আর সিলেটকে খুলনা হারাতে পারলে রানরেটে এগিয়ে থাকা দলটি যাবে প্লে-অফে।
চট্টগ্রাম পর্বের শেষ ম্যাচে টসে জিতে আগে রংপুরকে ব্যাটে পাঠান কুমিল্লার অধিনায়ক লিটন কুমার দাস। ইনিংসের এক বল বাকী থাকতে ১৫০ রানে গুটিয়ে যায় রংপুর। জবাবে নেমে ১৭.৩ ওভারে ৬ উইকেট হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছায় কুমিল্লা।
কুমিল্লার বোলার সামনে অবশ্য ব্যর্থ হয়েছেন রংপুরের ব্যাটাররা। জেমস নিশাম টেনে নিয়েছেন দলকে। তার দুর্দান্ত ইনিংসে চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে তিস্তাপাড়ের দলটি। দুটি ছক্কা ও ৯টি চারে ৪২ বলে ৬৯ রান করেন কিউই অলরাউন্ডার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান করেন সাকিব আল হাসান। তিনটি চারে ১৯ বলে ২৪ রান করেন টাইগার অলরাউন্ডার। ৮ বলে ১৪ রান করেন রনি তালুকদার। বাকীদের কেউই পৌঁছাতে পারেনি দুই অঙ্কের ঘরে।
২.৫ ওভার বল করে ২০ রান খরচায় তিন উইকেট নেন কুমিল্লার আন্দ্রে রাসেল। ৪ ওভারে ১৮ রান খরচায় মুশফিক হাসানও নেন তিন উইকেট। ম্যাথু ফোর্ড দুটি ও তানভীর ইসলাম নেন এক উইকেট।
জবাবে নেমে উড়ন্ত শুরু পায় কুমিল্লা। ৫ম ওভারের প্রথম বলে ৩৬ রানে ব্রেক থ্রু এনে দেন সাকিব আল হাসান। শামীম পাটোয়ারীর দুর্দান্ত ক্যাচে ফিরে যান সুনিল নারিন। ক্যারিবীয় অলরাউন্ডার ১১ বলে ১৫ রান করেন। এক বল পরেই তাওহীদ হৃদয়কে ফেরান রনি তালুকদারের ক্যাচ বানিয়ে।
দুই ব্যাটারকে হারানোর পর মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনকে নিয়ে হাল ধরেন লিটন দাস। দুজনে মিলে যোগ করেন ৬৫ রান। ১৩.৪ ওভারে ১০১ রানে ফের ব্রেক থ্রু এনে দেন সাকিব। লিটনকে বানান নিজের তৃতীয় শিকার। চারটি চার ও এক ছক্কায় ৪২ বলে ৪৩ রান করেন লিটন।
পরের ওভার চতুর্থ ব্যাটারকে হারায় কুমিল্লা। অঙ্কনকে ফেরান আবু হায়দার রনি। চারটি চার ও এক ছক্কায় ২৯ বলে ৩৯ রান করেন এই ব্যাটার। পরে মঈন আলীকে সঙ্গী করে ঝড় তোলেন আন্দ্রে রাসেল। সেসঙ্গে জয়ও নিশ্চিত করেন দলের। ৪টি করে চার ও ছক্কায় ১২ বলে ৪৩ রান করেন রাসেল, মঈন আলী করেন ৯ বলে ৬ রান।
৪ ওভারে ২০ রান খরচায় সাকিব তিন উইকেট নেন। বাকী এক উইকেট নেন আবু হায়দার রনি।








