বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, একটি দল স্বৈরাচারী ভাষায় বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে এবং বিএনপিকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বলে আখ্যায়িত করছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি সরকারের সময়ে ওই দলের দুজন নেতা মন্ত্রিসভায় ছিলেন। “যদি বিএনপি দুর্নীতিগ্রস্ত হতো, তাহলে তারা কেন তখন পদত্যাগ করেননি?”- এ প্রশ্নও তোলেন তিনি। তারেক রহমান দাবি করেন, ওই দলের কোনো রাজনৈতিক জনভিত্তি নেই, তাই তারা মিথ্যাচারের আশ্রয় নিচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহ সার্কিট হাউস ময়দানে আয়োজিত বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে এবং বেকার সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, দেশের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা শুধু বিএনপিরই আছে। এজন্য দেশের ভবিষ্যতের জন্য ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়াই একমাত্র বিকল্প।

তারেক রহমান আরও অভিযোগ করেন, একটি দল দুর্নীতি নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে উপেক্ষা করে উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ কারণে ফ্যামিলি কার্ডের মতো জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আই-ডামি ও নিশিরাতের ভোটের মাধ্যমে সাধারণ জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
বক্তব্যের আগে বিকেল চারটার পর ময়মনসিংহ সার্কিট হাউস ময়দানে জনসভা শুরু হয়। জেলার বাইরের নেতাকর্মীরা বাস ও মাইক্রোবাসে মিছিল করে সমাবেশস্থলে প্রবেশ করেন। নেতাকর্মীরা জানান, চেয়ারম্যানকে কাছ থেকে দেখার জন্য আগেভাগেই জনসভাস্থলে উপস্থিত হন।
এর আগে সকাল ১১:০৫ মিনিটে তারেক রহমান গুলশান থেকে ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে রওনা হন। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুল আলম জানান, সর্বশেষ ২০০৪ সালে তারেক রহমান ময়মনসিংহে ইউনিয়ন প্রতিনিধি সভায় অংশ নিয়েছিলেন। প্রায় ২২ বছর পর নেতার এই আগমন এলাকায় উৎসবের মতো উদ্দীপনা তৈরি করেছে। জনসভায় তিনি ময়মনসিংহ, শেরপুর, নেত্রকোনা ও জামালপুর বিভাগের ২৪টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীদেরও পরিচয় করিয়ে দেবেন।
সফর শেষে ঢাকায় ফেরার পথে তারেক রহমান আরও দুটি সমাবেশে অংশ নেবেন-রাজবাড়ী মাঠে সন্ধ্যা ৬টায় এবং উত্তরা আজমপুর ঈদগাঁও মাঠে সন্ধ্যা ৭টায়।









