উত্তর আমেরিকায় একটি রক্ত পরীক্ষায় বিভিন্ন ধরণের ক্যান্সার শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে, যার মধ্যে তিন-চতুর্থাংশের কোনও ধরণের স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম নেই। এক গবেষণায় এ ফল দেখা গেছে।
শনিবার (১৮ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন এই তথ্য জানা গেছে।
এ পরীক্ষায় অর্ধেকেরও বেশি ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা হয়েছিল। এর ফলে অনেকের ক্যান্সার চিকিৎসা করা সহজ এবং নিরাময়যোগ্য হবে।
আমেরিকান ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি গ্রেইল এর গ্যালারি পরীক্ষা ক্যান্সারজনিত ডিএনএর অংশ শনাক্ত করতে পারে, যা টিউমার ভেঙে রক্তে সঞ্চালিত করে। এটি বর্তমানে এনএইচএস দ্বারা পরীক্ষা করা হচ্ছে।
এক বছর ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার ২৫ হাজার প্রাপ্তবয়স্কদের উপর এই পরীক্ষা চালানো হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১০০ জনের মধ্যে একজন পজিটিভ ফলাফল পেয়েছে। এই পরীক্ষায় ৬২ শতাংশ ক্ষেত্রে, ক্যান্সার পরে নিশ্চিত করা হয়েছিল।
ওরেগন হেলথ অ্যান্ড সায়েন্স ইউনিভার্সিটির রেডিয়েশন মেডিসিনের সহযোগী অধ্যাপক ও প্রধান গবেষক ড. নিমা নবভিজাদেহ বলেন, এই পরীক্ষাটি ক্যান্সার স্ক্রিনিংয়ের ক্ষেত্রে অনেকের দৃষ্টিভঙ্গি মৌলিকভাবে পরিবর্তন করতে পারে বলে।
তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, এটি অনেক ধরণের ক্যান্সার শনাক্ত করতে সাহায্য করতে পারে, যখন সফল চিকিৎসা, এমনকি নিরাময়ের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।”
পরীক্ষাটিতে ৯৯ শতাংশেরও বেশি ক্ষেত্রে ক্যান্সারের ফলাফল নেগেটিভ এসেছে।
স্তন, অন্ত্র এবং জরায়ুমুখের স্ক্রিনিংয়ের ক্ষেত্রে এটি মোট শনাক্ত হওয়া ক্যান্সারের সংখ্যা সাতগুণ বৃদ্ধি করে।
তিন-চতুর্থাংশ গুরুতর ক্যান্সারের কোনও স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম ছিল না, যেমন ডিম্বাশয়, লিভার, পাকস্থলী, মূত্রাশয় এবং অগ্ন্যাশয় ক্যান্সার। এই রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ১০ টির মধ্যে নয়টিতে ক্যান্সারের উৎপত্তি সঠিকভাবে চিহ্নিত করা গেছে।
এই ফলাফলগুলো ইঙ্গিত দেয়, এই রক্ত পরীক্ষাটি ক্যান্সার নির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
তবে এই গবেষণায় জড়িত নন এমন বিজ্ঞানীরা বলছেন, রক্ত পরীক্ষা ক্যান্সার থেকে মৃত্যু হ্রাস করে কিনা তা দেখানোর জন্য আরও প্রমাণ প্রয়োজন।
লন্ডনের ইনস্টিটিউট অফ ক্যান্সার রিসার্চের ট্রান্সলেশনাল ক্যান্সার জেনেটিক্সের অধ্যাপক ক্লেয়ার টার্নবুল বলেছেন: “মৃত্যুর হারকে শেষ বিন্দু হিসেবে বিবেচনা করে রান্ডমাইজড স্টাডি থেকে প্রাপ্ত তথ্য, আপাতদৃষ্টিতে গ্যালারি পরীক্ষার প্রাথমিক পর্যায়ের শনাক্তকরণ ক্যন্সারে মৃত্যুহারকে নিরাময়যোগ্য করে কিনা তা নির্ধারণের জন্য একেবারে অপরিহার্য।”
ইংল্যান্ডে ১ লক্ষ ৪০ হাজার এনএইচএস রোগীর উপর তিন বছরের পর্যবেক্ষণের ফলাফলের উপর অনেক কিছু নির্ভর করবে, যা আগামী বছর প্রকাশিত হবে।
এনএইচএস বলেছে, ফলাফল সফল হলে, আরও দশ লক্ষ লোকের কাছে এই পরীক্ষাগুলো প্রসারিত করবে।
গ্রেইলের বায়োফার্মার সভাপতি স্যার হরপাল কুমার বলেছেন, ” এর ফলাফল খুবই আকর্ষণীয়।”
তিনি বলেন, “এটি আরও অনেক আক্রমণাত্মক ক্যান্সার, অনেক প্রাথমিক পর্যায়ে খুঁজে বের করার সুযোগ প্রদান করে যখন আমাদের আরও কার্যকর এবং সম্ভাব্য নিরাময়মূলক চিকিৎসা রয়েছে।”
কিন্তু ক্যান্সার রিসার্চ ইউকে এর নাসের তুরাবি সতর্ক করে বলেছেন, “ক্ষতি নাও করতে পারে এমন অতিরিক্ত ক্যান্সার নির্ণয় এড়াতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, “যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্ক্রিনিং কমিটি ফলাফল পর্যালোচনা এবং এই পরীক্ষাগুলো এনএইচএস দ্বারা গ্রহণ করা উচিত কিনা তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।”









