বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স হ্যান্ডলে করা পোস্টে অবসরের কথা জানিয়ে দিয়েছেন পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক বিসমাহ মারুফ। ৩২ বর্ষী তারকা লিখেছেন, ‘যে খেলাটিকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি, তা থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটি চ্যালেঞ্জ, জয় এবং অবিস্মরণীয় স্মৃতিতে ভরা একটি অবিশ্বাস্য যাত্রা ছিল। পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই, যারা আমার ক্রিকেট যাত্রায় শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সমর্থন করেছে।’
‘আমার উপর বিশ্বাস রাখার জন্য এবং আমার প্রতিভা প্রদর্শনের সুযোগ দেয়ার জন্য পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। পিসিবির থেকে যে সমর্থন পেয়েছি, সেটি অমূল্য, বিশেষ করে তারা আমার জন্য প্রথমবারের মতো প্যারেন্টাল নীতি বাস্তবায়ন করেছে। তাতে মায়ের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সর্বোচ্চ পর্যায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরেছি।’
২০২২ নারী বিশ্বকাপের আগে বিসমাহর জন্য প্রথমবার ১২ মাসব্যাপী বেতনভুক্ত ছুটির নীতি কার্যকর করে পিসিবি। প্রশংসিত নীতিটির অধীনে সুবিধা পাওয়া প্রথম ক্রিকেটার বিসমাহ। পাশাপাশি চুক্তি নবায়নের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।
পিসিবির সমর্থনে শিশুকন্যা ফাতিমাকে নিয়ে নিউজিল্যান্ডে ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলতে গিয়েছিলেন বিসমাহ। মেয়েকে নিয়ে টিম হোটেলে ছিলেন। সাথে ছিলেন তার মা’ও। একই বছর ইংল্যান্ডে কমনওয়েলথ গেমসে ফেডারেশনের কাছে বিসমাহর মেয়ে ও মায়ের জন্য প্রবেশ অনুমতি চেয়েছিল পিসিবি। ফেডারেশন থেকে ভিলেজে থাকার অনুমতি না মিললেও ভিলেজের বাইরে তাদের থাকার ব্যবস্থা করেছিল পিসিবি।
সতীর্থদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বিসমাহ। বলেছেন, আমার সতীর্থদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। যারা আমার পরিবারের মতো। মাঠে এবং মাঠের বাইরে আমরা যে বন্ধুত্ব গড়েছি, তা চিরকাল ধরে রাখব।’

২০০৬ সালে জয়পুরে ভারতের বিপক্ষে ১৫ বছর বয়সে পাকিস্তানের হয়ে অভিষেক হয় বিসমাহর। অভিষেকে করেছিলেন ৪৩ রান। তারকা অলরাউন্ডার ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টিতে পাকিস্তানের শীর্ষ রান সংগ্রাহক। ১৩৬ ওয়ানডেতে ২৯.৫৫ গড়ে ৩,৩৬৯ রান করেছেন, যার মধ্যে আছে ২১ ফিফটি। টি-টুয়েন্টিতে ১৪০ ম্যাচে ২৭.৫৫ গড়ে করেছেন ২,৮৯৩ রান, ফিফটি ১২টি।
বল হাতেও দারুণ করেছেন লেগ স্পিনে। ওয়ানডেতে ৭০ ইনিংসে বল করে ৪ ইকোনমিতে ২৬.৬৮ গড়ে নিয়েছেন ৪৪ উইকেট। টি-টুয়েন্টিতে ৬৩ ইনিংসে ৫.৬২ ইকোনমিতে ২২.৭৭ গড়ে উইকেট নিয়েছেন ৩৬টি।
দুই ফরম্যাট মিলিয়ে ৯৬ ম্যাচে পাকিস্তানের অধিনায়কত্ব করেছেন বিসমাহ। ৬২ টি-টুয়েন্টিতে ২৭টি এবং ৩৪ ওয়ানডেতে ১৬টি জয় আসে তার নেতৃত্বে। টি-টুয়েন্টিতে বিসমাহর চেয়ে বেশি নেতৃত্ব দিয়েছেন কেবল সানা মীর (৬৫ ম্যাচ)। ওয়ানডে তৃতীয় সর্বোচ্চ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। তার বেশি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন সানা মীর (৭২ ম্যাচ) এবং শাইজা খান (৩৯ ম্যাচ)।









