১৯৯৯ সালে কাজী হায়াতের পরিচালনায় ‘আম্মাজান’ ছবিতে সর্বশেষ দেখা যায় কিংবদন্তী অভিনেত্রী শবনমকে! এরপর গত ২৫ বছর ধরে আর কোনো সিনেমায় দেখা যায়নি তাকে।
উপমহাদেশের অন্যতম মহাতারকা বলা হয় এই শবনমকে। যিনি বাংলাদেশের পাশাপাশি সমানতালে পাকিস্তানেও জনপ্রিয়। ১৯৪৬ সালের ১৭ আগস্ট ব্রিটিশ-ভারতের ঢাকায় জন্মেছিলেন বাংলা সিনেমার বর্ষীয়ান তারকা।
এতো জনপ্রিয় হয়েও কেন তাকে দীর্ঘদিন ধরে সিনেমায় দেখা যায়নি, সে বিষয়ে তার নিজস্ব ব্যাখ্যাও আছে। ২০২২ সালে শিল্পী সমিতির আয়োজনে তৎকালীন সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চনের আমন্ত্রণে ইফতার অনুষ্ঠানে এসেছিলেন শবনম। যেখানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকাই সিনেমার নতুন পুরনো বহু তারকা।
সেই অনুষ্ঠানে তিনি জানিয়েছিলেন, কেন ‘আম্মাজান’ এর পর আর তিনি অভিনয় করেননি। অভিনেত্রী বলেছিলেন, কাজী হায়াতের ‘আম্মাজান’ এর পর আর কোনো চলচ্চিত্রে উপযুক্ত চরিত্রের অভাবে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো হয়নি। এরইমধ্যে চলচ্চিত্রে দেখা দেয় গভীর সংকট। এমনাবস্থায় অভিনয়ের ইচ্ছে পোষণ করলেও ভালো চিত্রনাট্যের অভাবে আর তা হয়ে ওঠেনি।
এসময় আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি আরও বলেন, ‘প্রায় দুই যুগ সিনেমার বাইরে, তারপরও আপনারা আমাকে মনে রেখেছেন, এটাই আমার অনেক বড় প্রাপ্তি।’ গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে এসময় গুণী এই অভিনেত্রী বলেন, ‘সাংবাদিক ভাইদের প্রতি অনুরোধ, চলচ্চিত্রের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরুন। আমাদের ভুল শুধরে দিন।’
‘নাচের পুতুল’ খ্যাত বাংলাদেশের কিংবদন্তী এই অভিনেত্রী ১৯৬০-এর দশক থেকে ১৯৮০’র দশক পর্যন্ত একাধারে সক্রিয় অভিনয় চর্চা করে গেছেন। ষাটের দশকে বাংলা চলচ্চিত্রে শবনম-রহমান জুটি বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করে।
পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানি সিনেমার পোস্টার গার্ল হয়ে ওঠেন তিনি। ক্রীড়া জগতে বিখ্যাত ননী বসাকের দ্বিতীয় কন্যা জন্মেছিলেন ঝর্না বসাক নাম নিয়ে। প্রখ্যাত নির্মাতা এহতেশামের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে আসেন। মুস্তাফিজ পরিচালিত ‘হারানো দিন’চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে ১৯৬১ সালে নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন শবনম। এ সিনেমাতেই তিনি শবনম নাম ধারণ করেন। পরবর্তী সময়ে পরিচিতি পান ‘শবনম’ নামে।









