ক্ষমতার পালাবদলের পর দেশের ক্রীড়াঙ্গনে অস্থিরতা বিরাজ করছে। শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব ও শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র ক্লাব থেকে আর্থিক বিনিয়োগ তুলে নিয়েছে একযুগের অধিক সময় ধরে পৃষ্ঠপোষকতা করা প্রতিষ্ঠান। দুটি ক্লাবের নাম আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনার ভাইয়ের নামে হওয়াতে এমন হয়েছে বলে আলোচনা রয়েছে। তবে ক্লাব দুটির নাম নিয়ে আপত্তি নেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ক্লাব দুটির নাম সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের কোনো আপত্তি নেই বলে বাফুফেকে আশ্বস্ত করেছেন। রোববার যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টার সঙ্গে ঘরোয়া ফুটবলে তৈরি হওয়া জটিলতার বিষয়ে কথা বলেছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার। আলোচনা শেষে সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি জানান তিনি।
বাফুফে সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, ’ক্রীড়া উপদেষ্টা আশ্বস্ত করেছেন, নামের কারণে শেখ রাসেল ও শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের ফুটবল লিগে খেলার ব্যাপারে সরকারের কোনো আপত্তি নেই। এ দুটি ক্লাব যদি নিজেদের নাম পরিবর্তন করতে চায় তাহলে সেটি তাদের ব্যাপার। তবে ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেছেন, নামের কারণে তাদের দেশের ফুটবলে খেলতে কোনো সমস্যা নেই। ক্লাবগুলোর নিরাপত্তাসহ যেকোনো সহযোগিতা তারা করবেন।’
‘খেলোয়াড় ও ক্লাব কর্মকর্তারা আন-অফিসিয়ালি যে কথাগুলো বলেছেন, সেখানে নাম নিয়েই সংশয় ছিল। এরমধ্যে আবার শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবে ভাংচুর হয়েছে। সে কারণে নামের প্রসঙ্গটি এসেছে। অনেকে আন-অফিসিয়ালি বলেছে নামটা পরিবর্তন করা যায় কিনা। এটা একটা প্রক্রিয়ার বিষয়। ক্লাবের যে বোর্ড আছে তাদের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নাম পরিবর্তন হতে পারে। সেটা করতে গেলে যে সহযোগিতা দরকার সেটা আমরা করবো। সোমবার প্রফেশনাল লিগ কমিটির সভা আছে। এই সভার পর আরো আপডেট জানাতে পারবো।’
গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দেশ ছেড়েছেন শেখ হাসিনা। ওই দিন বিকেলে হামলা হয় বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের তিন ক্লাব আবাহনী, শেখ জামাল ও ফর্টিস এফসিতে। সরকার পরিবর্তন, ক্লাবে হামলার ঘটনার পর প্রিমিয়ার লিগে সব দলের অংশগ্রহণ এখন অনিশ্চিত। শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র বাফুফেকে ইতিমধ্যে জানিয়েছে, এ মৌসুমে দল গঠন করবে না বলে। শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবকে নিয়েও শঙ্কা রয়েছে। একইসঙ্গে অনিশ্চিত চট্টগ্রাম আবাহনীর অংশগ্রহণও।









