দুবাইয়ে বেনজীর জামিনে মুক্ত, জানে না পুলিশ

Benzer Jahangir in a red shirt and straw hat, standing outdoors near a black metal fence. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ
দুর্নীতি ও অর্থপাচারসহ একাধিক মামলার আসামি বাংলাদেশের সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বলে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়ার কথা জানাতে পারেনি বাংলাদেশ পুলিশ।
গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আইনি প্রক্রিয়া শেষে কারামুক্ত হন বেনজীর আহমেদ। এর আগে ২৭ জুলাই সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) আদালত তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।
এদিকে তার মুক্তির বিষয়ে ঢাকায় পুলিশ সদরদপ্তরে ইন্টারপোল শাখা ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো বা এনসিবি জানে না বলে সেখানকার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। দুপুর পর্যন্ত এ নিয়ে পুলিশের কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলতেও রাজি হননি।
রোববার পুলিশ সদরদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, বেনজীর আহমেদের জামিনে মুক্তির বিষয়ে তাদের কাছে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি বা আনুষ্ঠানিক তথ্য পৌঁছেনি।
এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর আমরা দেখেছি। তবে সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষ বা কূটনৈতিক মাধ্যমে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা এখনও পাইনি। তাই এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রত্যর্পণসংক্রান্ত নথিপত্র এবং আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে দুবাইয়ের আদালতে উভয়পক্ষের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। পরে শর্তসাপেক্ষে বেনজীরকে জামিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন আদালত।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি মামলায় দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হন সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ। দুবাই পুলিশের সহায়তায় এবং আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ১২ জুন এক চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে অবহিত করে দুবাই পুলিশ।
বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থপাচার এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের পর তিনি দেশ ত্যাগ করেন বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সেই তদন্তের ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
এর আগে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা (ইন্টারপোল) এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগের কথা জানিয়েছিল বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ। তবে তার অবস্থান, গ্রেপ্তার বা মুক্তির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য আদান-প্রদান সংশ্লিষ্ট দেশের আইন ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে।
এদিকে, দুবাইয়ে তার জামিনে মুক্তির খবর প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে।
২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশের মহাপরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করেন বেনজীর আহমেদ। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার এবং র্যাবের মহাপরিচালক ছিলেন। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র র্যাবের সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে সেই তালিকায় তার নামও ছিল।
২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের কয়েক মাস আগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে এলে তদন্ত শুরু করে দুদক। অভিযোগ ওঠার পর তিনি দেশ ত্যাগ করেন। পরে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয় এবং আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়।
গত বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন আদালত।







