হাঙ্গেরির কিংবদন্তী চলচ্চিত্র নির্মাতা বেলা তার আর নেই। বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্র ‘তুরিন হর্স’ নির্মাতা মঙ্গলবার ৭০ বছর বয়সে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
হাঙ্গেরির জাতীয় সংবাদ সংস্থা এমটিআই জানায়, পরিবারের পক্ষ থেকে পরিচালক বেন্সে ফ্লিগাউফ এক বিবৃতিতে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টেলেক্স ওই বিবৃতি উদ্ধৃত করে জানায়, দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থতায় ভোগার পর মঙ্গলবার ভোরে বেলা তার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
১৯৫৫ সালে হাঙ্গেরির দক্ষিণাঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয় শহর পেচে জন্মগ্রহণ করেন বেলা তার। মাত্র ১৬ বছর বয়সে বাবার উপহার দেওয়া একটি ক্যামেরা দিয়ে অপেশাদারভাবে চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু করেন তিনি।
পরবর্তীতে তিনি হাঙ্গেরির অন্যতম পরীক্ষামূলক চলচ্চিত্র প্রতিষ্ঠান বেলা বালাজ স্টুডিওতে যোগ দেন। সেখান থেকেই ১৯৭৭ সালে নির্মাণ করেন তার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ফ্যামিলি নেস্ট’।
১৯৮৮ সালে তার নির্মিত ‘ড্যামনেশন’ চলচ্চিত্রটি বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়, যা হাঙ্গেরির প্রথম স্বাধীন পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ছবিটি তিনি যৌথভাবে লেখেন বিখ্যাত সাহিত্যিক লাসলো ক্রাসনাহোরকাইয়ের সঙ্গে। এই লেখকের সঙ্গেই বেলা তার আজীবন ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন। যিনি ২০২৫ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
বেলা তার সবচেয়ে বেশি পরিচিত তার সাত ঘণ্টা দীর্ঘ চলচ্চিত্র ‘সাতানতাঙ্গো’ (১৯৯৪)–এর জন্য। পূর্ব ইউরোপে কমিউনিজমের পতন এবং তার পরবর্তী সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়কে কেন্দ্র করে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি ক্রাসনাহোরকাইয়ের একটি জনপ্রিয় উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত।
২০১১ সালে ‘দ্য তুরিন হর্স’ নির্মাণের পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে চলচ্চিত্র নির্মাণ থেকে অবসর নেওয়ার ঘোষণা দেন। তবে এরপরও ২০১৭ ও ২০১৯ সালে দুটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।
জীবনের শেষ দিকে তিনি নতুন প্রজন্মের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের প্রশিক্ষণে নিজেকে নিয়োজিত করেন। হাঙ্গেরি, জার্মানি ও ফ্রান্সের বিভিন্ন চলচ্চিত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেন তিনি।
২০১৯ সালে হাঙ্গেরির সাপ্তাহিক পত্রিকা এইচভিজি–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেলা তার বলেছিলেন, “আমি যা করতে চেয়েছিলাম, তার সবই করেছি।”
দীর্ঘ শট, সাদা–কালো ভিজ্যুয়াল এবং পরিত্যক্ত, বিষণ্ন প্রেক্ষাপটের চলচ্চিত্র নির্মাণে বিশ্বজুড়ে পরিচিত ছিলেন বেলা তার। বিশ্ব চলচ্চিত্র অঙ্গনে তার মৃত্যু এক অপূরণীয় ক্ষতি বলে মনে করছেন চলচ্চিত্রপ্রেমী ও সমালোচকরা। ফ্রান্স ২৪









