ত্রুটিপূর্ণ অ্যাকশনের কারণে দুদিন আগেই বোলিংয়ে ইল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন সাকিব আল হাসান। বোলিং অ্যাকশন না শুধরে আপাতত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ও দেশের বাইরে কোনো ধরনের ক্রিকেটেই বল করতে পারবেন না টাইগার তারকা।
রোববার বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ও দেশের বাইরে কোনো ক্রিকেটে বোলিং করতে না পারলেও বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে বোলিং করতে পারবেন ৩৭ বর্ষী বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক। অবশ্য সকল ধরণের ক্রিকেটে ব্যাটার হিসেবে খেলতে মানা নেই টাইগার অলরাউন্ডারের।
আইসিসির বোলিং বিধিনিষের সংক্রান্ত আইনের ১১.৩ ধারায় বলা হয়েছে, ‘একটি জাতীয় ক্রিকেট ফেডারেশন যদি কোনো বোলারকে তাদের নিজস্ব নীতিমালার অধীনে ঘরোয়া ক্রিকেটে নিষিদ্ধ করে এবং সেই নিষেধাজ্ঞা যদি স্বীকৃত পরীক্ষাগারে মানসম্মত বিশ্লেষণ-বিধি অনুযায়ী করা হয়, তাহলে সেই নিষেধাজ্ঞাকে আইসিসি আমলে নেবে এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আরোপ করবে।’
একই অনুচ্ছেদের শেষদিকে বলা হয়েছে, ‘অতিরিক্ত কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া সব জাতীয় ক্রিকেট ফেডারেশন এবং তাদের অধীনস্থ ঘরোয়া ক্রিকেটেও একই নোটিশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে। আইসিসি এবং জাতীয় ক্রিকেট ফেডারেশনগুলো সিদ্ধান্ত আরোপ ও কার্যকরের জন্য সব পদক্ষেপ বিধিসম্মতভাবে নেবে।’
বিসিবি জানিয়েছে, বোলিং বিধিনিষের সংক্রান্ত আইনের ১১.৪ ধারা অনুযায়ী সাকিবকে আইসিসি অনুমোদিত পরীক্ষা আবার বোলিং অ্যাকশন পরীক্ষা করাতে হবে। সেই পরীক্ষায় যদি সাকিব উত্তীর্ণ হন তাহলে সব ধরণের ক্রিকেটে আবার বোলিং শুরু করতে পারবেন।
সাকিব শিগগিরই স্বীকৃত পরীক্ষা কেন্দ্রে তার বোলিং অ্যাকশন পুনর্মূল্যায়নের জন্য উপস্থিত হবেন জানিয়েছে বিসিবি। এই প্রক্রিয়া চলাকালীন ইসিবি, আইসিসি এবং সাকিবের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করছে দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
গত সেপ্টেম্বরে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে একটি ম্যাচ খেলেছিলেন সাকিব আল হাসান। টাইগার কিংবদন্তির ওই সময়ের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। পরে শুক্রবার এক বিবৃতিতে সাকিবের বোলিং নিষিদ্ধ করার কথা জানায় ইসিবি
২০১০-১১ মৌসুমের পর গত সেপ্টেম্বরে কাউন্টিতে ফেরেন সাকিব। প্রায় ১৩ বছর পর কাউন্টিতে ফিরে সারে’র হয়ে সামারসেটের বিপক্ষে বল হাতে দারুণ করেন টাইগার তারকা। সামারসেটের ঘরের মাঠ টনটনে ৯ উইকেট নেন। প্রথম ইনিংসে ৩৩.৫ ওভারে ৯৭ রান খরচায় নেন ৪ উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৯.৩ ওভার বল করে ৯৬ রান খরচ করে নেন পাঁচ উইকেট। যদিও তার দল সারে হেরে যায় ১১১ রানে।
দুই ইনিংস মিলিয়ে ৬৩.২ ওভার বল করলেও বোলিং অ্যাকশনের জন্য কোনো ‘নো বল’ ডাকেননি আম্পায়াররা। তবে গত নভেম্বরে জানা যায়, ওই সময়ে সাকিবের বোলিং অ্যাকশনে সন্দেহ প্রকাশ করেন ম্যাচের দায়িত্বে থাকা দুই আম্পায়ার স্টিভ ও’শনেসি ও ডেভিড মিল্নস। এরপর সাকিবের বোলিং অ্যাকশন পরীক্ষার বিষয়টি আলোচনায় আসে। যদিও কাউন্টি খেলে ফেরার পর ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের জার্সিতে দুটি টেস্টও খেলেন সাকিব। এরপর বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে খেলছেন তিনি।
ইসিবি জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা বাতিলের জন্য সাকিবকে তার বোলিং অ্যাকশনের পরীক্ষা দিতে হবে। সেখানে উত্তীর্ণ হতে হবে। অর্থাৎ, পরীক্ষায় সাকিব কনুই বাড়ানোর ব্যাপারটি প্রাথমিক মান ১৫ ডিগ্রি’র নিচে থাকতে হবে।









