সিলেট থেকে: দীর্ঘদিন জাতীয় দলে নেই তামিম ইকবাল। এনসিএল টি-টুয়েন্টি দিয়ে মাঠের খেলায় ফিরেছেন। বিপিএলে ফরচুন বরিশালের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আসন্ন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলবেন কিনা তা নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। বিষয়টি নিয়ে প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ লিপু বসেছিলেন তামিমের সাথে। বৈঠক শেষে জানালেন, ফেরার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বিসিবি থেকে সময় নিয়েছেন তামিম।
আগামী ১২ জানুয়ারির মধ্যে আইসিসির কাছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রাথমিক দলের তালিকা দিতে হবে বিসিবিকে। তার চারদিন আগে বুধবার সকালে ঢাকা থেকে সিলেটে আসেন লিপু। নির্বাচক হান্নান সরকারকে নিয়ে তামিমের সাথে বৈঠক করেন ফরচুন বরিশালের টিম হোটেলে। শেষে তামিমের সময় চাওয়ার কথা জানান প্রধান নির্বাচক।
গাজী আশরাফ বলেছেন, ‘আসলে আমাদের নির্বাচক মন্ডলীর একটা বৈঠক ছিল তামিম ইকবালের সঙ্গে। সেই বৈঠকটা খুব সুন্দরভাবে, আন্তরিকভাবে হয়েছে। বেশকিছু ব্যাপার নিয়ে আমরা খোলামেলা আলোচনা করেছি এবং ক্রিকেট নিয়ে কথা হয়েছে। দ্যাটস ইট! যা হয়। কারণ আমরা নির্বাচক হলেও সবাই সাবেক ক্রিকেটার। তামিমের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি, বাংলাদেশ ক্রিকেট, জাতীয় ক্রিকেট, জাতীয় দল, বিপিএল, সবকিছু নিয়েই খোলামেলা আলোচনা হয়েছে।’
তামিমের ফেরা না ফেরাটা দেশের ক্রিকেটের একটি বড় বিষয়। তাই দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে চায় না বিসিবি। প্রধান নির্বাচক বললেন, ‘তামিম ইকবালের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিয়ে আপনাদের একটা আগ্রহ থাকবে। এটা খুবই স্বাভাবিক। এ ব্যাপারটা নিয়ে এরআগেই হয়তো তামিমের সঙ্গে আমাদের আরেকটু আলোচনা হতে পারত। যাই হোক, সামনে আমাদের একটা বড় ইভেন্ট আছে। আলোচনা হয়েছে। কিন্তু কোনো আলোচনাতেই সঙ্গে সঙ্গে ওই মুহূর্তে একটা সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় না। কারণ এটা অনেক বড় একটা সিদ্ধান্ত।’
এরপর জাতীয় দলে ফেরার বিষয়ে তামিমের সময় নেয়ার কথা জানান প্রধান নির্বাচক, ‘আমাদের যেমন আমাদের উপর বোর্ড আছে। বোর্ডের তরফ থেকে আমরা এসেছি। এখানে কোনো অসুবিধা নাই। একইসঙ্গে খেয়াল করতে হবে একটা খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রে অনেক সময় এসমস্ত ইস্যুতে ফেরত আসার ব্যাপারে। তার ঘনিষ্ঠজন, পরিবার, বন্ধু-বান্ধব অনেক সময়, কিংবা তার প্রিয় কোচ অথবা শুভাকাঙ্ক্ষী, তাদের সঙ্গে আলাপ আলোচনার একটা ব্যাপার থাকে। সেক্ষেত্রে একটু সময় নেয়ার তো ব্যাপার এসেই যায়। আমাদের যেহেতু ১২ তারিখে দল ঘোষণা করতে হবে, তার আগেই আমাদের দলটা দিতে হবে বোর্ডের কাছে। আমাদের কাছে মনে হয়েছে সময় আছে, লেট হিম টেক টাইম, তাড়াহুড়ার কিছু নাই। তিনি একটা টুর্নামেন্ট খেলছেন, আমাদের প্রাথমিক আলোচনা আমরা সেরে নিয়েছি।’
তামিম চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলবেন কিনা তা অবশ্য স্পষ্ট করেননি গাজী আশরাফ, ‘আমাদের আলোচনার বিষয় আমাদের মধ্যেই থাক। প্রশ্নটা আপনার, উত্তরটাও আপনার। আমি সরাসরি উত্তরটা দেবো। যেহেতু বললাম ব্যাপারটা আলোচনা করেছি। এবং এব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আমাদের একটু অপেক্ষা করতে হবে। সিদ্ধান্তের জন্য তামিম ইকবালকে একটু সময় দিতে হবে।’
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য প্রাথমিক দল দিতে এখনও চারদিন সময় আছে বিসিবির হাতে। তামিমের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য এ সময়টাকে যথেষ্ঠ মনে করছেন প্রধান নির্বাচক। বলেছেন, ‘এটা তো খুব পরিষ্কার ব্যাপার, চারদিন তো অনেক সময় আমাদের জন্য। আমাদের তো একটা হোমওয়ার্ক করা আছে কেমন হতে পারে। কিংবা ছকটা তো আমাদের তৈরি করা আছে। সেই ছকটা পূরণ করে বোর্ডের কাছে দেয়া আমাদের জন্য খুব বেশি একটা সময়ের ব্যাপার না। আমরা তামিম ইকবালের মতো একজন খেলোয়াড়কে সম্মান জানাই। তার সিদ্ধান্তেরও সম্মান জানাই আমরা। সেজন্য তিনি যদি একটু সময় নিতে চান আমাদের কাছ থেকে, আমার মনে হয় এটা ফেয়ার এনাফ। আমি বোর্ডের সঙ্গে কথা বলেছি, তাদেরও কোনো অসুবিধা নেই। কাজেই আপনাদেরকে কিছুক্ষণ সময় ধৈর্যশীল থাকতে হবে। অনেকদিন তো আপনারা অপেক্ষা করলেন সিদ্ধান্তের জন্য। এখানে তাড়া নেই। বেশি তাড়াহুড়া করলে কিন্তু রান আউট হতে হয়!’
ফেরার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে তামিমের পরিবারের সাথে পরামর্শ করার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন প্রধান নির্বাচক, ‘তামিম কী করতে চান, সে ব্যাপারে তিনি আগে থেকেই ভেবে রেখেছেন আমার বিশ্বাস। এত বড় প্লেয়ার। তারপরও কোনো একটা কিছুর ক্ষেত্রে কিছু কিছু সময় সংশয় সৃষ্টি হয় তখন পরিবার থেকে, পরিবারকে কে না সম্মান করে, প্রত্যেকেই করে। কাজেই কোনো একটা বিষয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার ক্ষেত্রে পরিবারের কাছ থেকে একটা মতামতের বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায়। যদি স্টেটমেন্ট দেই, এটা একটা ঘোষণার মতো হয়ে যাবে তামিমের পক্ষে। আমি ব্যক্তিগতভাবে চাইবো এ ঘটনাটা, ফেরত আসা অথবা না আসা, আপনারা যে দোদুল্যমান অবস্থায় আছেন, সেটা তামিম ইকবালের কাছ থেকে আসুক। এবং তিনি যেহেতু তার পরিবারের কাছ থেকে দূরে আছেন, সিলেটে আছেন, চিটাগাংয়ে তার পরিবার থাকে, সে কারণেই আমার মনে হয় যে এটা ফেয়ার কল।’









