ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার জাহানারা আলম। গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এবার বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানালেন, যেকোন ধরনের হেনস্থার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখাবে বোর্ড।
রোববার ক্রিকেট কনফারেন্সের প্রথম দিন শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। সঙ্গে ছিলেন আরও দুই পরিচালক- মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন ও ফ্যাসিলিটিজ ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান শাহনিয়ান তানিম। সেখানে বিসিবি সভাপতি জানান, যৌন হয়রানির আনুষ্ঠানিক অভিযোগ না পেয়েও তদন্ত করছে বিসিবি।
আমিনুল বলেন, ‘যেহেতু ২০২১-২২ এর ঘটনা ছিল, এবং আমরা যতদূর জানি ২০২১-২২ সালে এটা শেষ হয়ে গিয়েছিল আর আমরা খবরগুলো পাচ্ছি কিছু জায়গা থেকে। ক্রিকেট বোর্ডে লিখিত কিছু বা মৌখিক কোন অভিযোগ আসেনি। তারপরও আমরা ব্যাপারগুলো দেখছি। অনেক কিছুই তো দেখছি, তবে তারপরও কেউ যদি অভিযোগ করে সেটা বোর্ডে লিখিতও আসতে পারে বা মৌখিকভাবেও আসতে পারে। তখন বোর্ড ব্যপারটা আরো গুরুত্ব দিয়ে দেখবে কারণ খবরে তো অনেক কিছুই থাকে। আমরা বলছি না কোনটা অসত্য আর কোনটা সত্য। জাহানারার যে অভিযোগ সেটা লিখিত এসেছিল ২০২১ সালে। সেটা খুব সম্ভবত ২০২১ সালেই সমাধান হয়ে গিয়েছিল। নতুন করে যেটা এসেছে (অভিযোগ), সেটা আমাদের কাছে কিছু আসেনি এখনো।’
তদন্ত কমিটি গঠন করার কথা জানিয়ে আমিনুল বলেন, ‘ভিডিও সাক্ষাৎকারটি দেখার পর আমরা তাৎক্ষণিকভাবে একটা তদন্ত কমিটি গঠন করি। আপিল বিভাগের একজন বিচারকের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি পুরোপুরি স্বাধীনভাবে কাজ করবে এবং যেভাবে বলা হয়েছে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তারা একটা পূর্ণ রিপোর্ট এবং সুপারিশ জমা দেবেন।’
‘বিসিবিতে জমা দেয়ার পর এনএসসিতে দেবে। ওই কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে কীভাবে কী করা হবে। কমিটির সদস্যরা যথেষ্ট অভিজ্ঞ। তারা ভালোভাবেই বিচার-বিবেচনা করবেন। তাদের কাজের ক্ষেত্রে শুধু জাহানারা আলমের ঘটনাটাই নয়, এই ধরনের আরও যত অভিযোগ আছে সবগুলোই তারা খুঁজে বের করার চেষ্টা করবেন।’- যোগ করেন বিসিবি সভাপতি।
বিসিবি সভাপতির কাছে জানতে জানতে চাওয়া হয়, জাহানারা আলম এবং নারী ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানির মতো অভিযোগে বোর্ডের অবস্থান কী? এমন ঘৃণ্য আচরণকারী ও কথাবার্তা বলা কেউ যদি বোর্ডের লোক কিংবা অন্য কেউ হন, তাহলে বিসিবি কী করবে?
আমিনুল ইসলাম বুলবুল এক কথায় উত্তর দেন, ‘জিরো টলারেন্স।’
পাশে থাকা বিসিবির আরেক পরিচালক শাহনিয়ান তানিম বিষয়টি আরও পরিস্কার করে বলেন, ‘পরিচালক হোক বা কর্মকর্তা, আমাদের তদন্ত কমিটি আছে তারা সিদ্ধান্ত দেওয়ার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত। যেহেতু তদন্ত কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে আমরা বোর্ড এখন তাদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। আমরা কিন্তু বোর্ড, সভাপতি কিংবা কোনো পরিচালক কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার রাখি না। তদন্ত কমিটি যদি চারজন কর্মকর্তাকে ওএসডি করতে বলে তাহলে আমরা চারজনকে ওএসডি করবো।’
‘তদন্ত কমিটি কিন্তু পরিচালককে নিয়েও তদন্ত করবে। কাউকে ছেড়ে তদন্ত করবে না। যদি আমার বিরুদ্ধেও কোনো অভিযোগ উঠত তাহলে আমাকে নিয়েও তাদের তদন্ত করতে হতো। তদন্তের প্রয়োজনে যদি তারা আমাকে সরিয়ে দিতে বলে তাহলে আমাকে সরিয়ে দিতে হবে। যেই অভিযোগটা এসেছে সেটা যদি সত্যি হয় তাহলে সহ্য করা হবে না।’-যোগ করেন তিনি।
বিসিবির গঠন করা তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিতে আছেন পরিচালক রুবাব দৌলা। বিসিবির একজন পরিচালক কমিটিতে থাকায় তদন্ত কোনোভাবে প্রভাবিত হতে পারে কিনা, এমন প্রশ্নও উঠেছে। জবাবে মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন জানিয়েছেন, তদন্ত কমিটি স্বাধীনভাবে কাজ করবে।
বলেছেন, ‘বিসিবি’র পক্ষ থেকে একজন পরিচালককে তদন্ত কমিটিতে রাখা হয়েছে বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য, বিসিবি কি ভাবে কাজ করে সেটা বোঝানোর জন্য এবং তিনি নারী হবেন এটা শ্রেয়তর বিকল্প। তাই রুবাবা দৌলাকে রাখা হয়েছে। কাউকে ওএসডি বা বরখাস্ত করা হয়েছে এমন কিছু ঘটেনি, তদন্তের সময় তদন্তকে প্রভাবিত করতে পারেন এমন কেউ ঐ বিভাগে কর্মরত থাকলে তখন তাকে বদলী বা সাময়িকভাবে ছুটিতে পাঠানো যেতে পারে, এমনটা এখন পর্যন্ত কিছু হয়নি।’
‘তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি স্বাধীনভাবে কাজ করবে। ১৫ দিনের মধ্যে তাদের রিপোর্ট জমা দেবে। সেই রিপোর্টের একটা কপি বিসিবিতে, এবং একটা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদেও জমা দেওয়া হবে। তার ভিত্তিতেই পরের সিদ্ধান্তগুলো নেবে বোর্ড।’- যোগ করেন তিনি।









