চট্টগ্রাম থেকে: জয়ের জন্য শেষ ওভারে খুলনার দরকার ছিল ২৫ রান। স্ট্রাইকে ছিলেন নাঈম শেখ। ফরচুন বরিশালের হয়ে বলে আসেন রিপন মণ্ডল। প্রথম ডেলিভারি স্টাম্পে করেন এ পেসার। শর্ট ফাইন লেগে পাঠান নাঈম, কোনো রান নেননি। পরের দুটি বলে ছক্কা হাঁকান নাঈম। সমীকরণ দাঁড়ায় ৩ বলে ১৩ রান। চতুর্থ বলে অফস্টাম্পের বাইরের ডেলিভারি নাঈমের ব্যাটে লাগেনি ঠিকঠাক। আউটসাইড এজ হয়ে যায় ডিপ থার্ড ম্যান অঞ্চলে, ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে ভাসতে থাকা বল তালুবন্দি করেন ডেভিড মালান। পরে পঞ্চম বলে চার এবং ষষ্ঠ বলে সিঙ্গেল নিয়ে থামতে হয় খুলনাকে। ১৭ রান তুলে খুলনা হেরে যায় ৭ রানে।
আসরে খুলনার অষ্টম ম্যাচে পঞ্চম হার এটি। ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের পাঁচে অবস্থান তাদের। অন্যদিকে টানা তৃতীয় জয়ের দেখা পেল বরিশাল। সিলেটপর্ব হার দিয়ে শেষ করলেও চট্টগ্রামে নিজেদের তিনটি ম্যাচেই জিতেছে বরিশাল। আট ম্যাচে ছয় জয়ে প্লে-অফের পথে অনেকটা এগিয়ে থাকল টেবিলের দুইয়ে থাকা বরিশাল। ৮ ম্যাচে ৮ জয়ে ইতিমধ্যেই প্লে-অফ নিশ্চিত করেছে রংপুর রাইডার্স।
জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে বরিশালকে ব্যাটে পাঠায় খুলনা। নির্ধারিত ওভার শেষে ৯ উইকেটে ১৬৭ রান তোলে বরিশাল। জবাবে নেমে ৬ উইকেটে ১৬০ রানে থামে খুলনার ইনিংস।
আগে ব্যাটে নেমে বরিশালের শুরুটা ভালো হয়নি। ১৬ রানে তিন ব্যাটারকে হারিয়ে চাপে পড়ে তারা। রানের খাতা খোলার আগেই ফিরে যান তামিম ইকবাল ও ডেভিড মালান। মুশফিক ফিরে যান ৫ রানে।
মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে নিয়ে হাল ধরেন ওপেনিংয়ে নামা তাওহীদ হৃদয়। দলীয় ৬৩ রানে হৃদয় ফিরে যান ৩০ বলে ৩৬ রান করে। পরে দ্রুত আরও দুই ব্যাটার হারায় দলটি। মোহাম্মদ নবী ১ রানে এবং ফাহিম আশরাফ ৯ রানে আউট হন। ৮৭ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর রিশাদ হোসেন ও মাহমুদউল্লাহ সপ্তম উইকেট জুটিতে বরিশালকে পথ দেখান। ২৮ বলে ৪৭ রানের জুটি গড়েন দুজনে। ৪৫ বলে ৫০ রান করে মাহমুদউল্লাহ ফিরে যান। পরে লড়াই করার মতো স্কোরে পৌঁছিয়ে ইনিংসের একবল বাকি থাকতে আউট হন রিশাদ। ১৯ বলে ৩৮ রান করেন। এছাড়া তানভীর ইসলাম ১২ রান এবং জাহানদাদ খান ১০ রান করেন।
খুলনার অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ৩ উইকেট নেন। সালমান ইরশাদ নেন দুটি উইকেট।
জবাবে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি খুলনারও। ইমরুল ফিরে যান প্রথম ওভারেই। পরে মিরাজ ও নাঈম মিলে দ্বিতীয় উইকেটে যোগ করেন ৫৯ রান। ২৯ বলে ৩৩ রান করে মিরাজ ফিরে গেলে জুটি ভাঙে। পরপরই ফিরে যান অ্যালেক্স রোজ। পরে আফিফ আর নাঈম মিলে ২৭ বলে ৫৫ রানের জুটি গড়েন। দলীয় ১২৯ রানে আফিফ ফিরে গেলে জুটি ভাঙে। তিন বল পরেই ফিরে যান মাইদুল ইসলাম অঙ্কন। পরে নাঈম একাই লড়াই চালিয়ে যান। তবে ব্যর্থ হন দলকে জেতাতে। চারটি চার ও ৬ ছক্কায় ৫৯ বলে ৭৭ রান করেন।
বরিশালের হয়ে জাহানদাদ খান দুটি উইকেট নেন। রিশাদ, তানভীর ও নবী নেন একটি করে উইকেট।









