বছরের প্রথম এক ক্ল্যাসিকোয় মুখোমুখি হতে চলেছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা। একঝাঁক তরুণ খেলোয়াড় নিয়ে মাদ্রিদে এসেছে বার্সা। অন্যদিকে অভিজ্ঞতায় ঠাসা রিয়াল। গত মৌসুমে বার্সার সঙ্গে সুবিধা করতে না পারা রিয়ালের লক্ষ্য থাকবে ঘুরে দাঁড়ানোর। বিপরীতে বার্সা চাইবে চলতি মৌসুমেও জয়ের ধারা ধরে রাখতে।
সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে রোববার রাতে রিয়ালের বিপক্ষে লড়বে বার্সা। বাংলাদেশ সময় রাত সোয়া ৯টায় শুরু হবে খেলা। ম্যাচের আগে দেখে নেয়া যাক দুদলের পরিসংখ্যান।
এল ক্ল্যাসিকোর বয়স ১২৩ বছর। ফুটবলের সবচেয়ে প্রাচীন লড়াইগুলোর একটি এ মহারণ। এপর্যন্ত ২৬৩টি ম্যাচ খেলেছে রিয়াল-বার্সা। মুখোমুখি লড়াইয়ে দুদলই সমানে সমান। লস ব্লাঙ্কোসদের ১০৫ জয়ের বিপরীতে কাতালুনিয়ার ক্লাবটি জিতেছে ১০৪ ম্যাচ। বাকি ৫৪টি ড্র হয়েছে।
লা লিগায় গত মৌসুমে দুই লেগেই বার্সার কাছে হেরেছিল রিয়াল। এমনকি লিগ শিরোপাও নিজেদের করে নিয়েছিল বার্সা। শুধু তাই নয়, স্প্যানিশ সুপার কাপ আর কোপা ডেল রেতেও বার্সার কাছে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করে রিয়াল। সব মিলিয়ে বার্সার বিপক্ষে মৌসুমজুড়ে চার ম্যাচে হেরে ঘরোয়া তিনটি ট্রফিই হারিয়েছে রিয়াল। তাই এবারের মৌসুমেও এই ম্যাচই হয়তো নির্ধারণ করবে লা লিগার ভাগ্য। ফলে দুই দলই মরিয়া, মাঠে লড়বে নিজেদের সবটা উজাড় করে।
টানা চার জয়-এই পরিসংখ্যানই যেকোনো দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়। গত মৌসুমে রিয়ালের বিপক্ষে বার্সা ছিল দারুণ উজ্জীবিত এক দল। হার না মানার মানসিকতা দিয়েই তারা ম্যাচগুলো নিজেদের করে নিয়েছিল। এমনকি একবার ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও ৪-৩ গোলে জিতে নিয়েছিল রোমাঞ্চকর এক ম্যাচ। এমন প্রত্যাবর্তন আত্মবিশ্বাস ছাড়া সম্ভব নয়। আজ রাতেও সেই আত্মবিশ্বাসই বাড়তি জ্বালানি দেবে হ্যান্সি ফ্লিকের শিষ্যদের।
রিয়াল মাদ্রিদ আজ নামছে প্রায় পূর্ণ শক্তি নিয়ে। দলে আছে ভিনিসিয়াস জুনিয়র, কাইলিয়ান এমবাপে, জুড বেলিংহাম। সবাই ফিট এবং ছন্দে আছেন। চোটের কারণে নেই শুধু আন্তোনিও রুডিগার ও ডেভিড আলাবা।
অন্যদিকে বার্সার অবস্থা একেবারে উল্টো। বড় ধাক্কা রবার্ট লেভান্ডোভস্কি ও রাফিনহাকে পাওয়া যাবে না এই ম্যাচে। সঙ্গে মার্ক টের স্টেগেন, গাভি, দানি অলমো ও কুন্দেও নেই। এমন অবস্থায় বার্সা যে পিছিয়ে থাকবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
লা লিগায় জিরোনার বিপক্ষে লাল কার্ড দেখে নিষিদ্ধ হয়েছেন হ্যান্সি ফ্লিক। আপিল করেও লাভ হয়নি, এল ক্ল্যাসিকোর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তিনি থাকছেন না ডাগআউটে। এমন চাপের ম্যাচে কোচের তাৎক্ষণিক নির্দেশনা না পেলে দল ভুগতে পারে। বিশেষ করে যখন হঠাৎ কৌশল বদলানো বা পজিশন ঠিক করার দরকার হয়, তখন লামিন ইয়ামালরা নিশ্চয়ই মিস করবেন ফ্লিককে।
চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে শেষ ১০ ম্যাচে কেবল একটিতে হেরেছে রিয়াল। অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে লা লিগার সেই ম্যাচে ৫-২ ব্যবধানে হেরেছিল জাবি আলোনসোর দল। বিপরীতে শেষ ম্যাচে লা লিগার দল সেভিয়া ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পিএসজির সঙ্গে হারের মুখ দেখতে হয়েছে বার্সেলোনার।









