গাজার পর ইসরায়েল পূর্ব এশিয়ার দেশ লেবাননে স্থল হামলার ঘোষণা দিলেও লেবাননে খাদ্য ও মৌলিক সুযোগ-সুবিধা ছাড়াই খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন বেশ কিছু বাংলাদেশি অভিবাসী।
গতকাল ১ অক্টোবর মঙ্গলবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে সংবাদ মাধ্যম নিউ এইজ জানিয়েছে, ১ লাখের বেশি বাংলাদেশি নাগরিক লেবাননে অভিবাসী শ্রমিক হিসেবে বসবাস করছেন। বেশ কয়েকটি দাতব্য সংস্থা এবং স্থানীয় ব্যক্তিরা তাদের সীমিত ক্ষমতা নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ালেও সবার কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হচ্ছেন না।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের অভিযোগ, তারা বৈরুতে বাংলাদেশ মিশনে খাদ্য সহায়তা এবং প্রদত্ত পরিস্থিতিতে কী করনীয় তার নির্দেশনা পাওয়ার চেষ্টা করছেন কিন্তু প্রত্যাশিত সমর্থন পাননি। লেবাননে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জাভেদ তানভীর খান বা সেখানকার প্রথম সচিব (শ্রম) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা যায়নি।
লেবাননে বাংলাদেশি অভিবাসী মো. ফিরুজ ডাকুয়া বলেন, গত সোমবার রাতে খোলা আকাশের নিচে থাকা মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে বৃষ্টি। শুধু বাংলাদেশি নয়, অন্যান্য দেশের নাগরিকরাও তাদের আবাসস্থল আক্রমণ বা আক্রমণের ঝুঁকিতে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে। এখনও কোন বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি তবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি নিখোঁজ এবং আহত হয়েছেন।
শামীম আহমেদ নামে আরেক বাংলাদেশি অভিবাসী জানান, সোমবার রাতে অন্তত তিনবার বৈরুতে হামলা চালায় ইসরায়েল। আতঙ্কিত অভিবাসীরা উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত দেশের দক্ষিণাঞ্চল ছেড়ে চলে যায় এবং রাস্তা, মসজিদ, অস্থায়ী কেন্দ্র এবং অন্যান্য খোলা জায়গায় আশ্রয় নেয়।
রাষ্ট্রদূত জাভেদ তানভীর খান রবিবারের প্রথম দিকে একটি ভিডিও বার্তায় বাংলাদেশী অভিবাসীদের যে কোন ধরণের সহায়তার জন্য দূতাবাসের হেল্পলাইন এবং হটলাইন নম্বরগুলোতে তাদের সাথে যোগাযোগ করতে বলেছিলেন। তিনি বলেন, দূতাবাস তাদের ঢাকা অফিসে বর্তমান পরিস্থিতি অবহিত করেছে এবং অভিবাসীদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।
দূতাবাস জরুরি ফোন নম্বর চালু করে এবং বাংলাদেশি অভিবাসীদের সাহায্যের জন্য কল করতে বলে। ফোন নম্বরগুলো হল ৭১২১৭১৩৯ (দূতাবাসের ফ্রন্ট ডেস্ক), ৭০৬৩৫২৭৮ (হটলাইন), ৮১৭৪৪২০৭ (হেল্পলাইন)। তাদের বৈরুত মিশনের ইমেল ‘mailto: Beirut.mission@mofa.gov.bd’ এর মাধ্যমেও যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
বৈরুতে বাংলাদেশ দূতাবাস গত ২৭ সেপ্টেম্বর এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে লেবাননে বাংলাদেশিদের নিরাপদ এলাকায় থাকার পরামর্শও দিয়েছিল। যদিও অভিবাসীরা অভিযোগ করেছে যে দূতাবাসের কেউ টেলিফোনে তাদের কলে সাড়া দেয়নি।








