মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা টেক বিশ্ববিদ্যালয়ে (এলএটেক) অনুষ্ঠিত বার্ষিক গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ সিম্পোজিয়ামে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সায়েন্স আয়োজিত এই মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন বিভাগে তারা একাধিক শীর্ষ পুরস্কার জিতে নিজেদের মেধা ও গবেষণার প্রতিভা প্রমাণ করেছেন।
সোমবার (২৮ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং ভবনে ‘বার্ষিক গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ সিম্পোজিয়াম’ অনুষ্ঠিত হয়। দিনব্যাপী এই আয়োজনে শিক্ষার্থীরা তাদের গবেষণা কাজ পোস্টার এবং মৌখিক উপস্থাপনার মাধ্যমে তুলে ধরেন। এবারের সিম্পোজিয়ামে মোট ২১টি পোস্টার এবং ৩৪টি মৌখিক উপস্থাপনা স্থান পায়, যেখানে বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পুরস্কার জিতে নেন।
মৌখিক উপস্থাপনা বিভাগে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের সাফল্য ছিল চোখে পড়ার মতো। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের পিএইচডি শিক্ষার্থী মোসাম্মৎ নুসরাত ইয়াসমিন এবং মাইক্রো-ম্যানুফ্যাকচারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের পিএইচডি শিক্ষার্থী তুলি চাকমা যৌথভাবে প্রথম স্থান অধিকার করে বাংলাদেশের জন্য গৌরব বয়ে আনেন। ম্যাটেরিয়ালস অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সিস্টেমস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চূড়ান্ত বর্ষের পিএইচডি শিক্ষার্থী মোঃ রিয়াজুল ইসলাম জামিল দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। এছাড়া, মাইক্রো-ম্যানুফ্যাকচারিং বিভাগের চূড়ান্ত বর্ষের পিএইচডি শিক্ষার্থী অনিরুদ্ধ চৌধুরী তৃতীয় স্থান লাভ করে সাফল্যের ধারাকে আরও শক্তিশালী করেন।
পোস্টার উপস্থাপনা বিভাগেও পিছিয়ে ছিলেন না বাংলাদেশী গবেষকরা। মলিকুলার সায়েন্সেস অ্যান্ড ন্যানোটেকনোলজি বিভাগে চূড়ান্ত বর্ষে অধ্যয়নরত পিএইচডি শিক্ষার্থী মোহাম্মদ তারিকুজ্জামান তৃতীয় স্থান অর্জন করে নিজের গবেষণার উৎকর্ষতা প্রমাণ করেন।
লুইজিয়ানা টেক বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ৫০ জনেরও বেশি বাংলাদেশী শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিভাগে অধ্যয়নরত আছেন। এদের মধ্যে বেশিরভাগই পিএইচডি গবেষণারত, তবে মাস্টার্স এবং স্নাতক পর্যায়েও বেশ কিছু শিক্ষার্থী রয়েছেন।
জানা গেছে, এসব শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে এখানে এসেছেন। তারা শুধু একাডেমিক ক্ষেত্রেই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখছেন।
এই সিম্পোজিয়ামে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা আমেরিকানসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতিযোগিতা করে এই সাফল্য অর্জন করেছেন, যা তাদের মেধা, কঠোর পরিশ্রম এবং গবেষণার প্রতি একাগ্রতার প্রতিফলন। বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের এই ধারাবাহিক সাফল্য নিঃসন্দেহে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছে এবং প্রমাণ করছে যে সুযোগ পেলে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে সক্ষম। তাদের এই অর্জন লুইজিয়ানা টেক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অন্যান্য বাংলাদেশী এবং ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা।









