এবারের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে আফগানিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দল পারফরম্যান্সে মুগ্ধ করেছে। দুই দশক ধরে টেস্ট খেলা বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ছিল হতাশার। স্বর্ণযুগের ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক ক্লাইভ হিউবার্ট লয়েডও হতাশ। ১৯৭৫ ও ১৯৭৯’তে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বিশ্বকাপ জেতানো লয়েড মনে করেন, শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে বেশি বেশি খেললে নবীন দলের ক্রিকেটারদের টেকনিকের উন্নতি হবে।
জন্মভূমি গায়ানায় টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত-ইংল্যান্ডের সেমিফাইনাল বার্বাডোজের রস ইউনিভার্সিটি কনভেনশন হলে আইসিসির অস্থায়ী মিডিয়া সেন্টারে বসে দেখেন জীবন্ত কিংবদন্তি লয়েড। মিডিয়া ও ক্রিকেট নিয়ে একটি সেশনে যোগ দিতে এসেছিলেন ক্যারিবীয় ক্রিকেটের স্বর্ণযুগের অ্যান্ডি রবার্টস, ভিভ রিচার্ডস, গর্ডন গ্রিনিজদের মতো ক্রিকেট নক্ষত্রদের অধিনায়ক। ক্রিকেট দুনিয়ায় ‘বিগ-ক্যাট’ নামে পরিচিত ৭৯ বর্ষী লয়েড সেখানে আসরে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স নিয়ে দিয়েছেন মতামত।
‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশ দৃঢ় পদক্ষেপে এসেছিল। তবে ২০ বছরের টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতায় পুষ্ট বাংলাদেশ এবার টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ভালো করতে পারেনি। তাদের কাছে আরও ভালো ফলাফল আশা করেছিলাম। তাদের বেশি বেশি করে ম্যাচ খেলতে হবে। দুই টেস্ট নয়, পাঁচ টেস্টের সিরিজ খেলতে হবে। ১২ হাজার মাইল ভ্রমণ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজে এসে দুই টেস্টের সিরিজ খেলা বোকামি। আমার মনে হয় সব দলগুলোর উচিত একসাথে বসে আন্তর্জাতিক সূচি চূড়ান্ত করা। যেখানে সবার কাছে বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ থাকবে।’
বাংলাদেশ নিয়ে কণ্ঠে হতাশা ঝরলেও আফগানিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো নবীন দলগুলোর পারফরম্যান্সে আশাবাদী লয়েড। জানালেন, প্রচুর লম্বা ইনিংসের ম্যাচ খেললে টেকনিকের উন্নতি হয়। সব দেশ সবার সাথে বেশি বেশি করে ম্যাচ খেললে সামগ্রিকভাবেই এগোবে ক্রিকেট।
‘এবারের বিশ্বকাপে আফগানিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দলগুলো ভালো খেলেছে। ক্রিকেটের উন্নতি চাইলে এসব সম্ভাবনাময় দলকে বেশি বেশি করে ম্যাচ খেলার সুযোগ দিতে হবে। আফগানিস্তান মাত্র ২০ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলে এতটা এগিয়েছে। শক্তিশালী দলগুলোর সাথে বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেলে আরও আগাবে। এসব দলগুলোর জন্য বেশি বেশি টেস্ট এবং ওয়ানডে খেলার ব্যবস্থা করতে হবে। আমার কাছে টেস্ট হল আসল ক্রিকেট। টেস্ট ম্যাচ হল যোগ্যতা প্রমাণের আসল পরীক্ষা। টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট হল প্রদর্শনী। পরীক্ষা ও প্রদর্শনীর মধ্যে পার্থক্য বোঝা জরুরি।’
আসরের উইকেট নিয়ে ওঠা সমালোচনার সাথে একমত অবসরের পর আইসিসি’র ম্যাচ রেফারি হিসাবে খ্যাতি কুড়ানো লয়েড। ক্রিকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পুনরুত্থানে আশাবাদী গায়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পাওয়া এ সাবেক।
‘এবারের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের উইকেট নিয়ে সবারই কম-বেশি অভিযোগ ছিল। স্লো উইকেটে রান ওঠেনি, দর্শক হতাশ হয়েছে। আমি নিজেও হতাশ। উইকেট তৈরিতে যত্ন নেয়া হয়নি।’
‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল আবারো উঠে দাঁড়িয়েছে। মাঝে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছিল। সেই বিপর্যয় কাটানো গেছে। আমাদের এখানকার জনগোষ্ঠী আবারো ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহী হয়েছে। আশা করছি, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট আবারো শীর্ষে উঠবে।’
হাজারো ক্রিকেট ভক্তের ভালোবাসায় সিক্ত ক্লাইভ লয়েডের কাছে সেরা’র সেরা সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার স্যর গ্যারি সোবার্স। এ যুগে ভারতের বিরাট কোহলির খেলায় মুগ্ধ তিনি।









