দুই দিনের সফরে গতকাল সোমবার সকালে ঢাকায় পৌঁছেছেন তুরস্কের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী এ বেরিস একিনচি। তার সফরকালে আজ মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম, আর তুরস্কের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী একিনচি। আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
পাঁচ বছরেরও বেশি সময় পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দুই দেশের পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের এ চতুর্থ বৈঠক। আলোচনার পর একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশের কথা রয়েছে, যেখানে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে অংশীদারত্বে উন্নীত করার দিকগুলো প্রতিফলিত হবে।
রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক
সফরের প্রথম দিন সোমবার একিনচি বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করেছেন। আজ পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠক শেষে তিনি পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
আলোচনায় যেসব বিষয়
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সব দিক নিয়েই আলোচনা হবে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ব্যবসা ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে জোর দেওয়া হবে।
প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দৃশ্যমানভাবে বেড়েছে—এই খাতও আলোচনায় গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়েও কথা হবে দুই পক্ষের মধ্যে। আলোচনার খসড়া সূচিতে রয়েছে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, উন্নয়ন, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি, অভিবাসন ও যোগাযোগ খাতের সহযোগিতা।
এ ছাড়া সন্ত্রাসবাদ দমন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা ও রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান বিষয়েও আলোচনা হবে।
আঞ্চলিক ইস্যুর মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক পরিবর্তন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন থাকবে আলোচনায়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ডি-৮, ওআইসি, জাতিসংঘ ও অন্যান্য সংস্থায় পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের দিকগুলোও গুরুত্ব পাবে।
ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক যোগাযোগ
গত এক বছরে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের একাধিক সফর বিনিময় হয়েছে। গত জানুয়ারিতে তুরস্কের বাণিজ্যমন্ত্রী ওমের বোলাটের ঢাকা সফরের পর ফেব্রুয়ারিতে আঙ্কারা সফর করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব) নজরুল ইসলাম। এপ্রিল মাসে আনতোলিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামে তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের বৈঠকও দুই দেশের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করেছে।
এ ছাড়া জুলাইয়ে ঢাকায় আসেন তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প সংস্থার প্রধান হালুক গরগুন, যিনি অধ্যাপক ইউনূস ও সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, এই ধারাবাহিক উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের পর এ বেরিস একিনচির সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের ধারাবাহিকতা ও ভবিষ্যৎ অংশীদারত্ব দৃঢ় করার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সফরের প্রথম দিন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে একিনচির বৈঠকও সেই ইঙ্গিত বহন করছে।









