তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের অধ্যাদেশটি চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া একটি ইতিবাচক দিক, এখন দ্রুততম সময়ের মধ্যে এটি গেজেট আকারে প্রকাশ করা জরুরি বলে মনে করেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।
সোমবার ২৯ ডিসেম্বর, গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রগতির জন্য জ্ঞান (প্রজ্ঞা) এবং অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স (আত্মা) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানানো হয়।
গবেষণার প্রতিবেদন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, এই প্রক্রিয়ায় আর কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ কাম্য নয়।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ সূচক, বাংলাদেশ ২০২৫ গবেষণা ফল প্রকাশে সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ৬৯। এই সূচকে স্কোর যত বেশি হয়, তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ তত বেশি হিসেবে গণ্য করা হয়। বৈশ্বিক এই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৬৬তম, যা প্রতিবেশী দেশ নেপাল, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং মালদ্বীপের তুলনায় অনেক খারাপ। সূচকে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে ব্রুনাই এবং সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে আছে ডোমিনিকান রিপাবলিক।
অনুষ্ঠানে প্রজ্ঞার পক্ষ থেকে ‘তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ সূচক, বাংলাদেশ ২০২৫’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন হাসান শাহরিয়ার। গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, বিশ্বের যে ১০০টি দেশে তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ সবচেয়ে বেশি, বাংলাদেশ তার মধ্যে অন্যতম। মূলত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনীকে কেন্দ্র করে কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে হস্তক্ষেপের ঘটনাগুলো বেশি ঘটেছে।
প্রজ্ঞা ২০১৮ সাল থেকে ব্লুমবার্গ ফিল্যানথ্রপিসের সহায়তায় এই গবেষণা পরিচালনা করে আসছে। এবারের গবেষণাটি এপ্রিল ২০২৩ থেকে মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত সময়ের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, বাংলাদেশে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট আচরণবিধি বা নীতিমালা না থাকায় তামাক কোম্পানিগুলো নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পাচ্ছে। কোম্পানিগুলো লবিং, গোলটেবিল বৈঠক, তথাকথিত গবেষণা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর কার্যক্রমের মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ হাসিলে সক্রিয় রয়েছে।
প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের উদ্যোগ ব্যাহত করতে কোম্পানিগুলো নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন, অনলাইন পিটিশন এবং গণমাধ্যমে প্রচারণা চালিয়েছে। এছাড়া বহুজাতিক তামাক কোম্পানিতে সরকারের অংশীদারিত্ব এবং এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে বর্তমান ও সাবেক সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় স্বার্থের সংঘাত তৈরির ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
গবেষণার সুপারিশে তামাক কোম্পানির প্রভাবমুক্ত থেকে দ্রুততম সময়ে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর গেজেট প্রকাশের দাবি জানানো হয়। এছাড়া নতুন তামাক কোম্পানির অনুমোদন বন্ধ করা, সিগারেটকে নিত্যপণ্যের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া এবং তামাক কোম্পানিতে সরকারের বিনিয়োগ প্রত্যাহারের সুপারিশও করা হয়েছে।
আত্মার কো-কনভেনর নাদিরা কিরণের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জিজিটিসি-এর হেড অব গ্লোবাল রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি ড. মেরি আসুন্তা, বিসিআইসি-এর সাবেক চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমান, জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল-এর সাবেক সমন্বয়কারী মুহাম্মদ রূহুল কুদ্দুস, ডব্লিউবিবি ট্রাস্ট-এর নির্বাহী পরিচালক সাইফুদ্দিন আহমেদ, ভাইটাল স্ট্রাটেজিস বাংলাদেশ-এর জ্যেষ্ঠ কারিগরি পরামর্শক সৈয়দ মাহবুবুল আলম, প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের ও আত্মা’র কনভেনর মতুর্জা হায়দার লিটন।









