প্রথম ম্যাচের হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশ। সিরিজের তৃতীয় ও শেষটিতে গুরবাজের সেঞ্চুরি ও ওমরজাইয়ের ৭০ রানের ইনিংসে ৫ উইকেটে হার দেখেছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি ২-১ ব্যবধানে সিরিজও হাতছাড়া হয়েছে টাইগারদের। আফগানদের বিপক্ষে ওয়ানডেতে টানা দ্বিতীয় সিরিজ হার দেখেছে টিম টাইগার্স। গতবছর জুলাইয়ে ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের সিরিজে ২-১ ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ।
টসে জিতে আগে ব্যাট করা বাংলাদেশ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মিরাজের দৃঢ়তায় ৮ উইকেটে ২৪৪ রান সংগ্রহ করে। জবাবে নেমে ৪৮.২ ওভার ব্যাট করে ৫ উইকেট হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছায়। ক্যারিয়ারের শততম এবং অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক ম্যাচে হার দেখলেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
প্রথম দুই ম্যাচে ব্যাট হাতে ব্যর্থ ছিলেন রহমানুল্লাহ গুরবাজ। তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে দারুণ প্রত্যাবর্তন করেছেন। ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন আফগান ওপেনার। ১১৭ বলে শতরান ছোঁয়া ইনিংসটিতে ছিল ৫টি চার ও ৭টি ছক্কার মার। প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। প্রথম দুই ম্যাচে কোনো রান না পাওয়া এ পেস অলরাউন্ডার তুলে নিয়েছেন ফিফটি। তার ৭০ রানের ইনিংসের আগে বল হাতে ৩ উইকেট নেন। মোহাম্মদ নবী ২৭ বলে ৩৪ রানের ইনিংস খেলেছেন।
অভিষিক্ত নাহিদ রানা ১০ ওভার বল করে ৪০ রান খরচায় নিয়েছেন ২ উইকেট। দুটি উইকেট নিয়েছেন আরেক পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। মিরাজের পকেটে ঢুকেছে সেঞ্চুরিয়ান গুরবাজের উইকেট।
ক্যারিয়ারের শততম ম্যাচে মিরাজ টসে জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন। দুই ওপেনার সৌম্য সরকার ও তানজিদ হাসান তামিম শুরুটা দারুণ করেন, ৫৩ রানের জুটি আসে তাদের থেকে। একই ওভারে আউট হন দুই ওপেনার। পরে হাল ধরেন মিরাজ, সঙ্গে ছিলেন রিয়াদ। মিরাজ ১১৯ বলে ৬৬ রান করেন। বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৮ উইকেট হারিয়ে ২৪৪ রান।
সিরিজ নির্ধারণী লড়াইয়ে বুড়ো হাড়ের ভেল্কি দেখিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, ৯৮ বলে ৯৮ রানের ইনিংসে খেলেছেন তিনি। যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক হওয়া মেহেদী হাসান মিরাজ। নয় ইনিংস পর ফিফটি পান মাহমুদউল্লাহ। গত বছরের অক্টোবরে ওয়ানডে বিশ্বকাপে ওয়াংখেড়েতে সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছিলেন ডানহাতি ব্যাটার। পরে নয় ইনিংসে ফিফটি পেরোতে পারেননি। শেষ চার ইনিংসে তার স্কোর ছিল- ০,১,২,৩ রান।
অধিনায়ক হিসেবে অভিষেকে ফিফটি করেছেন মিরাজ। নাজমুল হোসেন শান্তর চোটে অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক হয়েছে তার। তৃতীয় বাংলাদেশি হিসেবে অধিনায়ক অভিষেকে ফিফটি করেছেন। মিরাজের আগে আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও হাবিবুল বাশার অভিষেক নেতৃত্বে ফিফটি করেছিলেন। মিরাজের ১০৬ বলে স্পর্শ করা ফিফটিতে ছিল দুটি চারের মার।
ওপেনার সৌম্য সরকার করেন ২৪ রান, আরেক ওপেনার তানজিদ তামিমের থেকে আসে ১৯ রানের ইনিংস। আফগান পেসার আজমতউল্লাহ ওমরজাই নেন ৩ উইকেট। মোহাম্মদ নবী ও রশিদ খান নিয়েছেন একটি করে উইকেট।









