ছেলেদের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভালো শুরু করেছিল বাংলাদেশ। আল ফাহাদের আগুনঝরা বোলিংয়ে ৫ উইকেটের পর ব্যাটিংটাও ভালো শুরু করেছিল যুবা টাইগারেরা। তবে মাঝে বাধ সাধে বৃষ্টি, আজিজুল হাকিম তামিমের দল সহজ সমীকরণ থেকে রানের চাঁপায় পড়ে। নিজেদের কাজটা ঠিকঠাক করতে না পারায় বৃষ্টি আইনে ভারতের কাছে হেরেছে ১৮ রানে।
কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব বুলাওয়েতে টসে জিতে আগে বল করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক জাওয়াদ আবরার। আগে ব্যাট করা আয়ুস মাহাত্রের ভারত ৪৮.৪ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২৩৮ রান তোলে। জবাব দিতে নেমে ২৮.৩ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৪৬ রানে আটকে যায় বাংলাদেশ। ১৮ রানের জয় তোলে ভারত।
আগে ব্যাট করা ভারতের ওপেনিং জুটিতে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি ভারত। দলটির অধিনায়ক মাহাত্রে মাত্র ৬ রান করে আল ফাহাদের বলে আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন। বেশ খানিকটা ভুগিয়েছে অপর ওপেনার বৈভব সূর্যবশংশী। ৬৭ বলে ৭২ রান করে আউট হন তিনি।
ভারতের পক্ষে সর্বোচ্চ ৮০ রানের ইনিংসটি খেলেছেন অভিজ্ঞান কুণ্ডু। তিনি ১১২ বলে চারটি ৪ ও দুটি ছক্কার মাধ্যমে এ রান করেন। তৃতীয় সর্বোচ্চ ২৮ রান আসে কানিসক চৌহানের থেকে। শেষ ব্যাটার হিসেবে দিপেশ দেবেন্দ্র ১১ রান করেন। এছাড়া ভারতের আর কোনো ব্যাটার বাংলাদেশের বোলিংতোপে দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেনি।
বাংলাদেশের পেসার আল ফাহাদ সর্বোচ্চ ৪টি উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া ২টি করে উইকেট নিয়েছেন ইকবাল হোসেন ইমন ও আজিজুল হাকিম তামিম। একটি উইকেট পেয়েছেন শেখ পারভেজ জীবন।
জবাব দিতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। প্রথম ওভারেই ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক আবরার জাওয়াদ ৫ রান করে সাজঘরে ফিরে যান। দলের হাল ধরেন রিফাত বেগ ও নিয়মিত অধিনায়ক আজিজুল হাকিম তামিম। তাদের থেকে আসে ৫৬ রানের জুটি। এ জুটির পর রিফাত ৩৭ বলে ৩৭ রান করে সাজঘরে ফিরে যান।
অধিনায়ক তামিম এরপর কালাম সিদ্দিকি এলিনের সাথে জুটি গড়েন। ম্যাচের ১৭.২ ওভারের সময় বৃষ্টি নামে, বাংলাদেশের রান তখন ২ উইকেটে ৯০। বৃষ্টি থামার পর ম্যাচের আকার ছোট হয়ে আসে, বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৯ ওভারে ১৬৫ রান। অর্থাৎ বাংলাদেশের ৩.৪ ওভার কমার সাথে সাথে রানের সংখ্যা বা লক্ষ্য বেড়ে যায় ১৭টি।
তামিম এরপর নিজের ফিফটি তুলে নেন। ৫১ রান করে আউট হওয়ার পর এলিন ১৫ করে আউট হন। পরে রানের চাপায় অন্য ব্যাটাররা আসা-যাওয়ার মাঝে ছিল। শেখ পারভেজ জীবন ৭, সামিউন বশির ২, ফরিদ হাসান ১ রান করে আউট হন। রিজান হোসেন ১৫ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছিলেন, তবে দলকে কাঙ্খিত জয়ের দিকে নিতে পারেননি।
ভারতের বিহান মালহোত্রা ৪ ওভারে ১২ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন। খিলান প্যাটেল নিয়েছেন ২টি উইকেট এবং দিপেশ ও চৌহান একটি করে উইকেট নিয়েছেন।









