দীর্ঘ প্রায় তিন বছর পর সেন্ট্রাল এশিয়ান ভলিবল অ্যাসোসিয়েশন (কাভা) কাপ দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফিরেছিল বাংলাদেশ জাতীয় দল। উদ্বোধনী ম্যাচে মালদ্বীপকে ৩-০ সেটে হারিয়ে আসরে শুভ সূচনা করে হরোশিত বিশ্বাসের দল। পরে নেপাল ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পাঁচ সেটের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে দুটিই জিতে আসরের শিরোপা দাবিদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
চতুর্থ ম্যাচে র্যাঙ্কিংয়ে ৬৭তে থাকা তুর্কমেনিস্তানের বিপক্ষে শ্বাসরুদ্ধকর খেলে র্যাঙ্কিংয়ের বাইরে থাকা বাংলাদেশ। পাঁচ সেটের ম্যাচে চারটিতে সেট পয়েন্ট পর্যন্ত গিয়েছিল দলটি। তবে স্নায়ু উত্তেজনা ধরে রাখতে পারেনি স্বাগতিকরা, তুর্কমেনিস্তানের বিপক্ষে হারে ৩-২ সেটে। সেই ছন্দপতন, আফগানিস্তানের বিপক্ষে অলিখিত সেমিতে ৩-১ সেটে হেরে ফাইনালে যাওয়া হয়নি বাংলাদেশের। পরে ব্রোঞ্জ নির্ধারণী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে ৩-০ সেটে হেরেছে কোচ রায়ান মাসাজেদীর শিষ্যরা।
এক নজরে দেখে আসা যাক কাভা কাপ-২০২৫ ভলিবলের আন্তর্জাতিক আসরে বাংলাদেশের কাণ্ডারী ছিলেন কারা।
হরোশিত বিশ্বাস: হরোশিত বাংলাদেশ জাতীয় ভলিবল দলের অধিনায়ক। বর্তমান দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ খেলোয়াড় তিনি। জাতীয় দলে অভিষেক হয়েছিল ২০১৪ সালে। ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার হরোশিত ডানহাতে সার্ভ করেন এবং দলে আউটসাইডার হিটার হিসেবে খেলেন। নড়াইলের লোহাগড়ার ছেলে হরোশিত খেলার পাশাপাশি চাকরি করেন ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, খুলনাতে।
হরোশিত ফুটবল খেলাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন, তবে ভলিবলকে বেছে নিয়েছেন। জাতীয় দলের খেলোয়াড় হয়ে ওঠার পেছনে তার মা-বাবা, ভাই-বোন সবার ভূমিকা দেখছেন। সবচেয়ে বেশি অবদান বাবার। খেলা ছেড়ে দিয়ে ভবিষ্যতে কোচ হতে চান তারকা হিটার।

হরোশিতের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা বেশ সমৃদ্ধ। ২০১৬ সালে ভারতে হওয়া জিএম গেমসে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। সাউথ কোরিয়ার ইনচনে বিচ ভলিবলে এবং ২০১৮ সালে ভিয়েতনামে খেলেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। একই বছর শ্রীলঙ্কায় খেলার অভিজ্ঞতা আছে। সবশেষ ২০২৩ সালে ইরানে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন।

বাংলাদেশে এবার আয়োজিত ছেলেদের কাভা কাপ আসরে প্রথম ম্যাচেই ঝলক দেখিয়ে শুরু করেছিলেন হরোশিত। মালদ্বীপকে ৩-০ সেটে হারানোর অন্যতম কারিগর এ হিটার নিজের পারফরম্যান্সে খুশি, তবে নিজেকে আরও শাণিত করতে চান, আরও ভালো পারফর্ম করতে চান। বাংলাদেশকে নিয়ে বিশ্বকাপে খেলতে চান। সেজন্য বাংলাদেশে ভলিবলে জাগরণ ঘটাতে হবে। ফেডারেশনের কাছে আশা করেন আরও বেশি টুর্নামেন্ট আয়োজনের এবং দেশের বাইরে খেলোনোর ব্যবস্থা করার।
মো. নাঈম হোসেন: একসময় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৬ জাতীয় ফুটবল দলের সাথে ক্যাম্প করেছেন। কিন্তু ফুটবল ছেড়ে দিয়ে এখন খেলছেন বাংলাদেশ জাতীয় ভলিবল দলে। ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার মিডল ব্লকার ও কুইক অ্যাটাকার হিসেবে খেলেন মো. নাঈম হোসেন। ছেলেদের কাভা কাপ ২০২৫ আসরে প্রতিপক্ষকে নাস্তানাবুদ করে সবার নজরকাড়া নাঈমের ২০২০ সালে জাতীয় দলে অভিষেক।

নাঈমের গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরার দেবহাটায়। জাতীয় দলে খেলার পাশাপাশি স্বশস্ত্র বাহিনী বাংলাদেশ আর্মিতে কর্মরত আছেন। পরিবারে মা-বাবা, ভাই-বোন সবাই আছেন এবং তার খেলাকে সবসময় সমর্থন দিয়ে চলেছেন। ভলিবল খেলতে আসার পেছনের কাহিনী অনেক লম্বা। যখনই কোন জাতীয় বা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন- শিরোপাজয়ী, রানার্সআপ বা ব্রোঞ্জপদক উঠেছে পকেটে।
কাভা কাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩-২ সেটের শ্বাসরুদ্ধকর জয়ে ম্যাচ সেরা খেলোয়াড় নাঈম নিজের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট। তবে আরও উন্নতি করতে চান, দলের জয়ে অবদান রাখতে চান। ভলিবলের পরবর্তী আন্তর্জাতিক আসরে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় দেখতে চান। খেলাটি নিয়ে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এখনও ঠিক করেননি। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ খেলাটির প্রতি ভালোবাসা দেখালে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে হাজির হবেন মাঠে।

নাঈমের মতে বাংলাদেশে ভলিবলের জাগরণ ঘটাতে হলে খেলোয়াড়দের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে। তাহলে খেলোয়াড়রা নিজ উদ্যোগেই উন্নতির জন্য চেষ্টা করবেন। ভলিবল খেলোয়াড়রা যেন এখানে এসে ভবিষ্যত দেখতে পান, এমন উদ্যোগ ফেডারেশনকে নিতে হবে বললেন।
মো. শাওন আলী: বাংলাদেশ জাতীয় ভলিবল দলের লিবারু মো. শাওন আলীর সুযোগ ছিল ভলিবল বাদে অন্য খেলা বেছে নেয়ার। সেটা না করেননি। কেন বেছে নিয়েছিলেন ভলিবল, সেটা তার বিভিন্ন জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার ফলাফল দেখলেই স্পষ্ট বোঝা যায়। ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি উচ্চতার শাওন হতে চান এশিয়ার সেরা লিবারু, নৌবাহিনীর এ সদস্য সেই পথেই এগোচ্ছেন।
বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে কর্মরত শাওনের ২০১৯ সালে জাতীয় দলে অভিষেক। ২০২১-২০২৫ সাল পর্যন্ত জাতীয় পর্যায়ে তিনবার সেরা লিবারু নির্বাচিত হয়েছেন, তার দল নৌবাহিনীকে তিনবার চ্যাম্পিয়ন করেছেন, দুবার রানার্সআপের তকমা পকেটে নিয়েছেন। ২০২৪ সালে আন্তঃবাহিনী ভলিবল আসরে চ্যাম্পিয়ন নৌবাহিনীর সদস্য তিনি।

আন্তর্জাতিক আসরে তার সাফল্য আরও সমৃদ্ধ। তিনটি আন্তর্জাতিক আসরের সেরা লিবারু নির্বাচিত হয়েছেন শাওন। ২০২১ সালে ছেলেদের বঙ্গবন্ধু এশিয়ান সেন্টাল জোন ভলিবল চ্যালেঞ্জ কাপে বাংলাদেশ রানার্সআপ হয়েছিল, রাজশাহীর ছেলে শাওন সেরা লিবারু নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০২২ সালে বাংলাদেশ-মালদ্বীপ ফ্রেন্ডশিপ সিরিজে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের সদস্য তিনি। একই বছর সেন্ট্রাল এশিয়ান ভলিবল চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ তৃতীয় স্থান অর্জন করে। সে আসরেও শাওন সেরা লিবারু হয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু এশিয়ান সেন্ট্রাল জোন অনূর্ধ্ব-২৩ আন্তর্জাতিক ভলিবল প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, আসরের সেরা লিবারু’র নাম ছিল শাওন আলী।

বাবার অনুপ্রেরণায় ভলিবল বেছে নেয়া শাওনের বাড়ি রাজশাহীর কাঠাখালী থানার কাপাসিয়া গ্রামে। পরিবারে মা ও ভাই আছেন, সবাই সমর্থন দিয়ে চলেছেন। পাশাপাশি বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন এবং প্রতিবেশিরাও কমবেশি সমর্থন দিয়ে চলেছেন। কাভা কাপের আসরে সর্বোচ্চটা দিয়ে সন্তুষ্ট তিনি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩-২ সেটের দুর্দান্ত জয়ে তার অবদান ছিল। এসএ গেমসে খরা ঘুচিয়ে আনতে চান পদক। ভলিবলের নবজাগরণে ফেডারেশনের কাছে চান দীর্ঘমেয়াদি ক্যাম্প।
রাতুল আহমেদ: বয়সভিত্তিক জাতীয় ভলিবলে অভিষেক ২০২৪ সালে, জাতীয় দলে অভিষেক ২০২৫ সালে। কাভা কাপে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচে মালদ্বীপের বিপক্ষে নজরকাড়া পারফরম্যান্স দিয়ে আলো নিজের করে নিয়েছেন রাতুল। মালদ্বীপের বিপক্ষে বাংলাদেশের উদ্বোধনী ম্যাচে হয়েছেন সেরা খেলোয়াড়। রাতুল জাতীয় দলে খেলেন অপোজিট অ্যাটাকার হিসেবে।

পাওয়ার স্ম্যাশে প্রতিপক্ষের নাভিশ্বাস তুলে ফেলা রাতুলের উচ্চতা ৬ ফুট ১ ইঞ্চি। গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডে। অন্য খেলায় যাওয়ার সুযোগ থাকলেও ভলিবল বেছে নিয়েছেন। বাড়িতে মা-বাবা আছেন, তারা সবসময় সমর্থন যুগিয়ে চলেছেন। ভলিবলের বাইরে কাজ করছেন পিডিবিতে।
বাংলাদেশ ভলিবল দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক আসরের বাইরে ছিল, তাই রাতুলের সাফল্যও তেমন ধরা দেয়নি। ২০২২ সালে বাহরাইনে অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের ২১তম আসরে পঞ্চম হয়েছিল বাংলাদেশ। সেটাই তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সাফল্য।

নেপাল ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ম্যাচের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে বাংলাদেশের জয়ে অবদান ছিল রাতুলের। আসরে সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করেছেন এ এ্যাটাকার, নিজের পারফরম্যান্সে খুশিও। ভবিষ্যতের কর্মপরিকল্পনায় রেখেছেন ভলিবলকে, খেলাটাকে ছড়িয়ে দিতে চান, এগিয়ে নিতে চান। সেজন্য বাংলাদেশ ভলিবল ফেডারেশনকে ভূমিকা নিতে হবে। বাংলাদেশকে দলকে বেশি করে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে হবে, সুযোগটা করে দিতে হবে ফেডারেশনকে, বললেন রাতুল।
সিফাত হোসেন: কাভা কাপে বাংলাদেশ দলের অন্যতম সদস্য তিনি। ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি উচ্চতার সিফাত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য। জাতীয় দলে খেলছেন অপোজিট অ্যাটাকার হিসেবে। ২০২৫ সালে অর্থাৎ, এবছর জাতীয় দলে অভিষেক। গ্রামের বাড়ি লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার পশ্চিমকাদমা থানায়।

ভলিবল ছাড়াও তার জাতীয় বাস্কেটবল দলে খেলার সুযোগ ছিল। মা-বাবা এবং ভাইয়ের অনুপ্রেরণা আছে। নিজের বেশ ইচ্ছে ছিল ভলিবল খেলায়। সবমিলে দুইয়ে দুইয়ে চার মিলিয়েছেন এ অপোজিট অ্যাটাকার। নামের পাশে এখনও কোন সাফল্যের পালক যোগ হয়নি।

কাভা কাপ দিয়ে প্রথম সাফল্য যোগ করতে চেয়েছিলেন ক্যারিয়ারে। সিফাত নিজের পারফরম্যান্সে বেশ খুশি। ভলিবলের পরবর্তী আন্তর্জাতিক আসরে দেশের হয়ে পদক জিততে চান। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় রেখেছেন তৃণমূলে খেলাটাকে ছড়িয়ে দিতে চান। বাংলাদেশে ভলিবলের জাগরণ ঘটাতে চান ফেডারেশনের সমর্থন।
মো. আল আমিন: বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) ভলিবল খেলা শুরু করেন জাতীয় দলের সিটার মো. আল আমিন। পরে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি উচ্চতার আল আমিন চাকরি করছেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে। ২০১৮ সালে জাতীয় দলে অভিষেক। কাভা কাপে নেপালের বিপক্ষে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে জয়ের ম্যাচে সেরা খেলোয়াড় হন। বাড়ি সাতক্ষীরার দেবহাটায়।
আল আমিনের মা-বাবা, বড় ভাই এবং ছোট বোন আছে। বাবা-মা খেলার আগে সবসময় নামাজ পড়ে দোয়া করেন এবং স্ত্রী মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়ামে খেলা দেখতে আসেন। সবাই তার খেলা উপভোগ করেন এবং বাংলাদেশ জিতলে তাদের অনুভূতি অন্যরকম থাকে।

জাতীয় পর্যায়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে চ্যাম্পিয়ন করেছেন আল আমিন। ঝুলিতে আছে বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবস চ্যাম্পিয়নের শিরোপা। ২০২১ ও ২০২২ সালে স্বাধীনতা কাপ চ্যাম্পিয়নশিপের তকমা ওঠে নৌবাহিনীর পকেটে, আসরের সেরা সিটার হয়েছিলেন আল আমিন। ২০ বছর পর আন্তঃবাহিনী ভলিবলে চ্যাম্পিয়ন নৌবাহিনীর সদস্য তিনি।
আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সাফল্য আছে আল আমিনের। অনূর্ধ্ব-২৩ ইন্টারন্যাশনাল গেমসে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। আসরে অধিনায়ক ছিলেন আল আমিন, নির্বাচিত হয়েছিলেন সেরা সিটার। ২০২৩ সালে পাকিস্তানে কাভা কাপে তৃতীয় হয়েছিল বাংলাদেশ, ওই দলের সদস্য তিনি। ২০২২ সালে কাভা কাপে দ্বিতীয় হয়েছিল বাংলাদেশ, সদস্য তিনি।
এ আসরে নিজের পারফরম্যান্সে খুশি আল আমিন। বাংলাদেশের খেলা শুরুর তিন ম্যাচের তিনটিতেই জয়ে অবদান রাখতে পেরেছেন। তবে সেখানেই থেমে থাকতে চাননি, পরেরগুলোতে উন্নতি করার তাগিদ ছিল, আরও ভালো খেলতে চেয়েছেন। দলের জন্য সর্বোচ্চটা দিতে চান। তবে ভলিবলের পরবর্তী আন্তর্জাতিক আসর নিয়ে পরিকল্পনা নেই, এ খেলায় আপাতত নিজের ভবিষ্যতও জানেন না তিনি।

আল আমিনের মতে বাংলাদেশে ভলিবলের ভবিষ্যৎ অনেক ভালো। খেলাটাকে এগিয়ে নেয়ার জন্য সৎ লোকের দরকার। জাতীয় দল বা বয়সভিত্তিক দলের জন্য প্রতিবছর অন্তত ৩/৪টি আন্তর্জাতিক আসরের প্রয়োজন। এভাবে পরিকল্পনা করে এগোতে পারলে বাংলাদেশের ভলিবলের জন্য ভালো হবে, বললে তারকা সিটার।
মো. তিতাস আহমেদ: তার অন্যান্য খেলাতেও আগ্রহ আছে, তবে ছোটবেলা থেকে ভলিবল খেলাই বেশি ভালো লাগতো। ভালোলাগা জাতীয় দল পর্যন্ত নিয়ে এসেছে। দলে আউটসাইড হিটার হিসেবে খেলা তিতাসের জাতীয় দলে অভিষেক ২০২২ সালে। উচ্চতা পুরোপুরি ৬ ফুট। চাকরি করছেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে।

তিতাসের গ্রামের বাড়ি মাগুরা জেলার চাঁদপুর গ্রামে। পরিবারে সবাই আছেন: মা-বাবা, বোন। সবাই তার খেলাকে সমর্থন করেন, তবে বাবার জন্যই ভলিবল খেলায় আসা। ২০২৩ সালে বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু কাপ ভলিবলের আসর বসেছিল। চ্যাম্পিয়নের তকমা পরা বাংলাদেশ দলের সদস্য তিতাস।
অন্যদের মতো কাভা কাপে নিজের পারফরম্যান্স ভালো দেখছেন তিতাস। এখানেই থেমে যেতে চান না, আরও ভালো করার প্রবল আকাঙ্ক্ষা তার। ভলিবলে এ হিটারের লক্ষ্য অনেক বিস্তৃত। বাংলাদেশে ভলিবলকে অনেকদূরে এগিয়ে নিতে চান। সেজন্য ভলিবল ফেডারেশনকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। তিতাস বললেন, বাংলাদেশ ভলিবল ফেডারেশনকে অনেক টুর্নামেন্টের আয়োজন করতে হবে। জাতীয় দলকে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক আসরে অংশগ্রহণ করাতে হবে। তাহলেই বাংলাদেশে ভলিবল এগিয়ে যাবে।
রিদওয়ানুর রহমান: জাতীয় ভলিবল দলের সবচেয়ে লম্বা খেলোয়াড়দের একজন তিনি। ২০১৮ সালে জাতীয় দলে অভিষেক রিদওয়ানের। এখনও পড়াশোনার পাঠ শেষ করতে পারেননি। আপাতত কোথাও চাকরি করছেন না। ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার রিদওয়ানের বাড়ি পাবনা সদর থানার শালগাড়িয়ায়।
মিডল ব্লকার রিদওয়ানের বাবা এবং মা সমর্থন করেন এবং করে চলেছেন। ভলিবলের পরের আন্তর্জাতিক আসর যদি সাউথ এশিয়ান গেমস হয়, সেখানে ফাইনাল খেলতে চান। ভবিষ্যতে ভলিবলেই থাকতে চান, হতে চান ভালো মানের কোচ।

এবারের কাভা কাপে নিজের পারফরম্যান্সে মোটেও খুশি হতে পারছেন না মিডল ব্লকার রিদওয়ান। দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক আসরের বাইরে থাকা বাংলাদেশ দলের এ সদস্যের সাফল্য আছে বেশকিছু। জাতীয় পর্যায়ে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- ২০২২ সালে অনূর্ধ্ব-২৩ চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা জেতা। পাকিস্তানের লাহোরে ২০২২ সালে হওয়া কাভা চ্যালেঞ্জ কাপে তৃতীয় হওয়া বাংলাদেশ দলের সদস্য তিনি। বাংলাদেশ ভলিবল ফেডারেশন আরও বেশি খেলার আয়োজন করবে, এমন পদক্ষেপ আশা করেন।
মো. পারভেজ মোশাররফ: জাতীয় ভলিবল দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য তিনি। পরিবারে মা-বাবা এবং দুই ভাই আছেন। বড় ভাইয়ের জন্যই ভলিবল খেলায় আসা। ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি উচ্চতার পারভেজ জাতীয় দলে খেলেন মিডল ব্লকার হিসেবে এবং অভিষেক হয়েছে ২০২২ সালে। অন্যান্য খেলার প্রতিও বেশ আগ্রহ ছিল তার।
বাংলাদেশের ঐতিহাসিক, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রথম সরকারের শপথ গ্রহণের স্থান মেহেরপুরের গাংনীর সন্তান পারভেজ। জাতীয় দলে খেলার পাশাপাশি চাকরি করছেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে। আসরে নিজের পারফরম্যান্সকে ভালো বলেছেন তিনি। তবে পারফরম্যান্স আরও ভালো করার ইচ্ছা আছে।

পারভেজের সাফল্যের ঝুলিতে আছে ২০২৩ সালে বাংলাদেশে হওয়া বঙ্গবন্ধু কাপ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা। ভলিবলের পরবর্তী আন্তর্জাতিক আসরে বাংলাদেশকে অনেকদূর এগিয়ে নিতে চান। বাংলাদেশের মিডল ব্লকার বললেন, ভলিবল ফেডারেশনকে অনেক টুর্নামেন্টের আয়োজন করতে হবে। জাতীয় প্রতিযোগিতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অনেক আসরে অংশগ্রহণ করলে বাংলাদেশের উন্নতি হবে।

এছাড়া দলে লিবারু হিসেবে আছেন রিসালাত আল রিফাত, সিটার মো. তানভীর হোসেন তন্ময়, আউটসাইড হিটার সাদি মোহাম্মদ শাফিন, মিডল ব্লকার মো. সুজন এবং আলী আল মুরাম্মার রাকেশ। বাংলাদেশ জাতীয় দলের বর্তমান কোচ রায়ান মাসাজেদী, ইরানি বংশোদ্ভূত জাপানি কোচ তিনি।









