মেয়েদের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের গত আসরে সেমিফাইনালে ভুটানকে পেয়েছিল বাংলাদেশ। তাদের ৮-০তে হারিয়ে ফাইনালে এসে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সাবিনা খাতুনের দল। এবারও সেমিতে ভুটান, এবারও তাদের জালে গোল উৎসব করেছে বাংলাদেশ। তহুরা খাতুনের হ্যাটট্রিকে ভুটানকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা নির্ধারণী মঞ্চে গেছে পিটার জেমস বাটলারের দল।
নেপালের কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে রোববার সেমিফাইনালে ভুটানকে ৭-১ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। তহুরার তিন গোলের সঙ্গে জোড়া গোল এসেছে অধিনায়ক সাবিনা খাতুনের থেকে। একটি করে গোল করেছেন ঋতুপর্ণা চাকমা ও মাসুরা খাতুন। ভুটানের একমাত্র গোলটি করেছেন ডেকি লাজন।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে বাংলাদেশ। টাইগ্রেসদের সামনে প্রথম সুযোগ আসে পঞ্চম মিনিটে। সাবিনার থেকে তহুরা বল পেয়ে শট নেয়ার আগেই রুখে দেন ভুটানের দুই ডিফেন্ডার। সাফল্য আসে দুই মিনিট পরই। ডি-বক্সের বাইরে থেকে বুলেট গতিতে নেয়া শটে ভুটানের জালে বল পাঠান ঋতুপর্ণা চাকমা।
১৫ মিনিটে দূরপাল্লার শটে গোল করেন তহুরা। এবারও ডি-বক্সের বাইরে থেকে গোল পায় বাংলাদেশ। ১৮ ও ২৩ মিনিটে ভুটান ফরোয়ার্ড পেমা ছোদেনের দারুণ দুটি শট রুখে দেন বাংলাদেশ গোলরক্ষক রূপনা চাকমা।
২-০তে এগিয়ে থেকে আক্রমণের ধার বাড়ায় সাবিনাবাহিনী। পরের সাফল্য আসে ২৬ মিনিটে। ডানপ্রান্ত থেকে মনিকার বাড়ানো বল জালে পাঠাতে ভুল করেননি অধিনায়ক সাবিনা। ৩-০তে এগিয়ে গিয়ে আক্রমণ অব্যাহত রাখে বাংলাদেশ।
তহুরা নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ৩৫ মিনিটে। ভুটানের একজনকে কাটিয়ে শট নেন বক্সের বাইরে থেকে। তহুরার দৃষ্টিনন্দন শট বাংলাদেশকে ৪ গোলে এগিয়ে দেয়। ৩৭ মিনিটে আবারও আঘাত হানেন সাবিনা। এবার গোলরক্ষক রূপনার বাড়ানো বল মধ্যমাঠ থেকে নিয়ে এগিয়ে যান বাংলাদেশ অধিনায়ক। বক্সে ঢুকে গোলরক্ষককে কাটিয়ে দারুণভাবে জালে পাঠান বল।
৪১ মিনিটে এক গোল শোধ করে ভুটানের মেয়েরা। ডেকি লাজনের শট পা বাড়িয়েও ঠেকাতে পারেননি রূপনা। শেষঅবধি সেমির প্রথমার্ধে ৫-১ গোলে এগিয়ে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বজায় রাখে বাংলাদেশ। ৫৮ মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তহুরা। মনিকার পাসে ভুটানের জালে বল পাঠিয়ে স্কোরলাইন ৬-১ করে দেন ২১ বর্ষী ফরোয়ার্ড।
৭২ মিনিটে সানজিদা আক্তারের কর্নার কিক থেকে আসা বল মাসুরা পারভীন হেডে ভুটানের জালে পাঠান, ৭-১ গোল ব্যবধান তখন। মিনিটে পাঁচেক পর বল নিয়ে আক্রমণে যাওয়ার পথে তহুরার সঙ্গে ধাক্কা লেগে পড়ে যান কেলজাং শেরিং ওয়াংমো। মুখের পাশে চোট লাগায় স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়েন ভুটান তারকা।
৮৬ মিনিটে সুমাইয়ার শট গোলবারের সামান্য উপর দিয়ে যায়, তখন অষ্টম গোলের দেখা পেতে পেতে পায়নি বাংলাদেশ। শেষপর্যন্ত ৭-১ গোল ব্যবধানে জয় নিয়ে ফাইনালে উঠে যায় পিটার জেমস বাটলারের দল।
৩০ অক্টোবর বাংলাদেশ সময় ৫টা ৪৫ মিনিটে দশরথেই গড়াবে শিরোপা নির্ধারণী মহারণ। ফাইনালে বাংলাদেশের সঙ্গী হবে দ্বিতীয় সেমিতে নেপাল ও ভারতের মধ্যকার জয়ী দলটি। গ্রুপপর্বে ভারতকে ৩-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপচ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিতে এসেছিল বাংলাদেশ। পাকিস্তানের সাথে করেছিল ১-১ গোলে ড্র।









