ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে আগামী ১-১০ সেপ্টেম্বর বসছে সাফ অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপের আসর। শিরোপা জয়ে চোখ রেখে বুধবার সকালে চার্টার্ড বিমানে দেশ ছাড়বে লাল-সবুজের দল। আসরের জন্য দেয়া হয়েছে ২৩ জনের স্কোয়াড।
বাফুফে ভবনে মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে দল দেয়ার পাশাপাশি টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরা হয়। স্কোয়াডের ২১ জনই বাফুফের এলিট একাডেমির ফুটবলার। তৃতীয় বিভাগে খেলা ফুটবলার আছেন দুজন।
মিডফিল্ডার নাজমুল হুদা ফয়সাল অধিনায়কত্ব করবেন। সহ-অধিনায়ক হিসেবে থাকছেন আশিকুর রহমান। সাইফ যুব দল আর গোপালগঞ্জ একাডেমির সাবেক কোচ সাইফুর রহমান মনি অনূর্ধ্ব-১৬ দলের হেড কোচ হিসেবে দায়িত্ব সামলাবেন। সহকারী কোচ হয়ে ভুটান যাবেন আবুল হোসেন। গোলরক্ষক কোচ থাকছেন শাহ আলম টুটুল। টিম ম্যানেজার মহিদুর রহমান মিরাজ।
যুব টাইগারদের কোচ সাইফুর রহমান মনি বললেন, ‘লক্ষ্য একটাই, চ্যাম্পিয়ন হওয়া। ছেলেরা সবাই জোরালভাবে চেষ্টা করেছে। আমি আশাবাদী, কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব। সবাই শীর্ষ পর্যায়ে যেতে চেষ্টা করে। চেষ্টা চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশে ফিরব।’
মাত্র দুসপ্তাহ আগে দলের দায়িত্ব নিলেও সেটাকে সমস্যা দেখছেন না সাবেক ফুটবলার মনি। যুব কোচের ভাষ্য, ‘নিজেও ডেভেলপমেন্ট কমিটির মেম্বার। এলিট কীভাবে কাজ করে সেই বিষয়ে অবগত আছি। সব খেলোয়াড়কে চিনি। অনেকেই বিসিএল খেলেছে। আমার যোগদান হয়তো দুই সপ্তাহ আগে হয়েছে। কিন্তু দুই বছর ধরেই আমার সাথে খেলোয়াড়দের যোগাযোগ আছে।’
‘কোচিংয়ের কাজ সবসময় চ্যালেঞ্জিং। আমার ছেলেরা কষ্ট করছে। চেষ্টা দেশে ট্রফি নিয়ে আসব। এলিট একাডেমির ৮ জন বিসিএলে খেলেছে। আশাবাদী না হওয়ার কারণ দেখি না। ফরোয়ার্ড, লেফট ব্যাক, রাইট ব্যাক, মিডফিল্ডার, সবার গোল স্কোরিংয়ের সামর্থ্য আছে।’
বাংলাদেশ ‘এ’ গ্রুপে প্রতিপক্ষ হিসেবে ভারত ও নেপালকে পাচ্ছে। ভারতকে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ মেনেই প্রথম ম্যাচে মাঠে নামার প্রতিশ্রুতি দিলেন কোচ।
‘ম্যাচটা নিয়ে বিশ্লেষণ করতেই হবে। আমার নিজের অনূর্ধ্ব- ১৬, ১৯ ও ২৩ দলে খেলার অভিজ্ঞতা আছে। জানি জায়গাটা কতটা কঠিন। চাইলেই জিততে পারবেন না। পরিশ্রম করতে হবে। সামনে ভারত ম্যাচ ভেবেই কাজ করছি।’
জাতীয় কিংবা বয়সভিত্তিক দল যেখানেই হোক না কেনো, ভারত বাধা পেরোনো বাংলাদেশের জন্য হয়ে যায় কঠিন কাজ। অধিনায়ক ফয়সাল এ নিয়ে দিলেন সরল স্বীকারোক্তি।
‘মন মানসিকতায় ভারত নামটাকে আমরা ভয় পাই। আমাদের শিক্ষা নেয়া উচিৎ। কেন আমরা ভয় পাবো? আমরা মানসিকভাবে অনেকে প্রস্তুত হতে পারি না। আসলে ভয় পাওয়ার কিছু নাই। কোচ আমাদের সেভাবেই তৈরি করেছে। জেতার সামর্থ্য আমাদের আছে।’
সহ-অধিনায়ক আশিকুর বললেন, ‘নিজেদের উপর প্রবল আস্থা আছে। নিজেদের সবলতা-দুর্বলতা জানি। একসাথে অনেকদিন অনুশীলন করছি। ট্রফিটা নিতে চাই। আমরা লড়াই করব। ম্যাচ বাই ম্যাচ জিতে ট্রফিটা দেশকে দিতে চাই।’
বাংলাদেশ দল
গোলরক্ষক: নাহিদুল ইসলাম, আব্দুর রহমান, আলিফ রহমান ইমতিয়াজ।
ডিফেন্ডার: আশিকুর রহমান (সহ-অধিনায়ক), ইসমাইল হোসেন, আবু রায়হান শাওন, মোহাম্মাদ দেলোয়ার।
রাইট ব্যাক: ইমাদুল হক, ইমরান খান।
লেফট ব্যাক: সিয়াম অমিত, শেখ সংগ্রাম, মিঠু চৌধুরী।
মিডফিল্ডার: কামাল মৃধা, আব্দুল্লাহ জুনায়েদ চিশতী, আরমান মিয়া, নাজমুল হুদা ফয়সাল (অধিনায়ক)।
ফরোয়ার্ড: আনু সাইদ, মোহাম্মাদ রিপন, মুরশেদ আলী, মহিববুল্লাহ, মোহাম্মাদ মানিক, সালাহ উদ্দিন সাহেদ, মং সিং মারমা।







