অনিয়ম, লুটপাট ও দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনায় বিপর্যস্ত ছয়টি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) অবসায়নের (বন্ধ) সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে আর্থিক অবস্থার উন্নতির সুযোগ দিতে আরও তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ছয় মাস সময় দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে আমানতকারীর টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থতা, অতিমাত্রায় খেলাপি ঋণ এবং মূলধন ঘাটতির ভিত্তিতে নয়টি এনবিএফআইকে ‘অব্যবহারযোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর মধ্যে ফাস ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, অ্যাভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের অবসায়ন প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। তবে জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি) এখনই বন্ধ করা হচ্ছে না; আর্থিক সূচকে উন্নতি প্রমাণের জন্য এসব প্রতিষ্ঠানকে সময় দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্বল শাসনের ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে খেলাপি ঋণের হার ৭৫ থেকে ৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে। এর আগে গত বছরের মে মাসে ২০টি এনবিএফআইকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়। সন্তোষজনক পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় নয়টি প্রতিষ্ঠানকে অবসায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সিদ্ধান্তের আগে গত সপ্তাহে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, আগের সরকারের সময় ব্যাপক অনিয়ম ও আর্থিক কেলেঙ্কারির কারণে এসব এনবিএফআই সংকটে পড়ে। আলোচিত পিকে হালদারের বিরুদ্ধে পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, ফাস ফাইন্যান্স ও বিআইএফসি থেকে অন্তত সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানান, অবসায়নের তালিকায় থাকা নয়টি এনবিএফআইয়ের ব্যক্তি আমানতকারীরা আগামী ফেব্রুয়ারিতে, রমজানের আগেই, তাদের জমা দেওয়া মূল অর্থ ফেরত পাবেন। এ লক্ষ্যে সম্পদ মূল্যায়ন কার্যক্রম শুরু হবে। সরকার মৌখিকভাবে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা অনুমোদন দিয়েছে, তবে আমানতকারীরা শুধু মূল টাকা পাবেন, কোনো সুদ নয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সমস্যাগ্রস্ত নয়টি প্রতিষ্ঠানে মোট আমানত ১৫ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। বর্তমানে দেশে ৩৫টি এনবিএফআই রয়েছে, যার মধ্যে ২০টি সমস্যাগ্রস্ত। গত সেপ্টেম্বর শেষে এনবিএফআই খাতে মোট ঋণের ৩৭ দশমিক ১১ শতাংশই খেলাপি, যা তিন মাসে বেড়েছে ১ হাজার ৮৬৭ কোটি টাকা।






