১২০ রান ছিল দুই উইকেটে, এরপর ১৪৩ রানে অলআউট। শারজায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে ভালো শুরু এনে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের টপঅর্ডার ব্যাটাররা। ১২০ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। আফগান বোলিং তোপে সেখান থেকে ধস নামে, আর ২৩ রান যোগ করতেই গুটিয়ে যায় টাইগার ইনিংস। ৯২ রানের হার দিয়ে সিরিজ শুরু করেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচ সিরিজে প্রথম ওয়ানডেতে টসে জিতে আগে ব্যাটের সিদ্ধান্ত নেয় আফগানিস্তান। ৪৯.৪ ওভারে ২৩৫ রান তুলে থামে দলটি। জবাবে ৩৪.৩ ওভারে ১৪৩ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ।
উদ্বোধনীতে ভালো শুরু পায়নি বাংলাদেশ। ১২ রানে তানজিদ তামিমকে হারানোর পর শান্ত ও সৌম্য ভালো করেছিলেন। ৬৫ রানে সৌম্য ফিরে যান ৪৫ বলে ৩৩ রান করে। পরে শান্ত আর মিরাজ জুটিতে বাংলাদেশের রান পৌঁছে যায় ১২০ রানে।
২৫.৫ ওভারে শান্ত ফিরে যান ৬৮ বলে ৪৭ রান করে। টাইগার অধিনায়ক ফেরার পর ধস নামে। ১৩২ রানে মিরাজ ২৮ রান করে ফেরার পর পুরো ছন্দ হারায় বাংলাদেশ। ১১ রান যোগ করতে বাকি ৬ উইকেট হারিয়ে গুটিয়ে যায়। ব্যর্থ হয়েছেন তাওহীদ হৃদয়, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মশফিকুর রহিমরা। একে একে পথ ধরেন সাজঘরের। রিশাদ-তাসকিন-মোস্তাফিজ ও শরিফুলও পারেননি অবদান রাখতে।
আফগানদের হয়ে দারুণ করেন আল্লাহ মোহাম্মদ গজনাফর। ৬.৩ ওভার বল করে ২৬ রান খরচায় ৬ উইকেট নেন। রাশিদ খান ৮ ওভারে ২৮ রান খরচায় নেন ২ উইকেট।
এর আগে আফগান ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে সাফল্য এনে দেন তাসকিন আহমেদ। ১.৫ ওভারে উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিমের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান রহমানুল্লাহ গুরবাজকে, ৫ রান করেন।
অষ্টম ওভারে দ্বিতীয় সাফল্য এনে দেন মোস্তাফিজ। মুশফিকের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান রহমত শাহকে। ১৩ বলে ২ রান আফগান ব্যাটারের। ৯.২ ওভারে নিজের দ্বিতীয় সাফল্যের দেখা পান ফিজ। অটলকে ফেরান লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে। ৩০ বলে ২১ রান করে যান আফগান ওপেনার।
একই ওভারের পঞ্চম বলে ৩৫ রানে চতুর্থ উইকেট তুলে নেয় টিম টাইগার্স। মোস্তাফিজের কাটারে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। ৩ বল মোকাবেলা করলেও রানের খাতা খুলতে পারেননি।
১৩.২ ওভারে শাহিদী ও নাইবে নির্ভর করে দলীয় ফিফটি পূর্ণ করে দলটি। ৩৬ রানের জুটি গড়েছিলেন তারা। ২০তম ওভারের শেষ বলে জুটি ভাঙেন তাসকিন। শর্ট লেন্থের ডেলিভারিতে বড় শট খেলতে যান গুলবাদিন। মিডঅনে তানজিদ তামিমের দুর্দান্ত ক্যাচে সাজঘরে ফেরেন। ৩২ বলে ২২ রান করে যান।
ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে ১০৪ রান তোলেন শাহিদী ও নবী। ৪১তম ওভারে এসে জুটি ভাঙেন মোস্তাফিজ। শাহিদীকে বোল্ড করে নিজের চতুর্থ উইকেট তুলে নেন টাইগার পেসার। আফগান অধিনায়ক ৯২ বলে ৫২ রান করেন। ১৭৬ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারায় আফগানিস্তান।
নিজের অষ্টম ওভারে এসে প্রথম সাফল্যের দেখা পান শরিফুল ইসলাম। ৪২.৪ ওভারে টাইগার পেসারের শর্ট লেন্থের বলে মিডউইকেটে মোস্তাফিজের হাতে ক্যাচ দেন রশিদ খান। ১১ বলে ১০ রান করেন।
৪৭.৩ ওভারে মোহাম্মদ নবীকে ফেরান তাসকিন আহমেদ। বড় শট খেলতে গিয়ে ডিপ স্কয়ার লেগে তানজিদের হাতে ক্যাচ দেন। ৭৯ বলে ৮৪ রানের ইনিংসে ছিল চারটি চার ও তিনটি ছক্কার মার।
পরের বলেই আল্লাহমোহাম্মদ গজনাফরকে ফেরান তাসকিন। টাইগার পেসারের বল বুঝে উঠার আগেই বোল্ড হয়ে যান। ইনিংসের দু’বল বাকী থাকতে ফজলহক ফারুকী রানআউট হয়ে গেলে আফগানরা থামে। নাঙ্গোলিয়া খারোটে ২৮ বলে ২৭ রানে অপরাজিত থাকেন।
তাসকিন ১০ ওভারে ৫৩ রান এবং মোস্তাফিজ ৫৮ রান খরচায় ৪টি করে উইকেট নেন। শরিফুল নেন ১ উইকেট।









