মাঠের জমজমাট প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে বারবার ছাড়িয়ে যাচ্ছিল শরীরী লড়াই। দুদলের খেলোয়াড়দের ভেতর ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল ফাউলের প্রবণতা। ডাগ আউটেও ছড়িয়েছে উত্তাপ। লাল কার্ড দেখেন অতিথি দলের হেড কোচ ও স্বাগতিক দলের সহকারী কোচ। পিছিয়ে পড়েও অবশ্য শেখ মোরসালিনের গোলে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ফিফা প্রীতি ম্যাচে ১-১ ব্যবধানে ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে বাংলাদেশ। চারদিন আগে দুদল আরেক ম্যাচে গোলশূন্য ড্র করেছে।
বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় বৃহস্পতিবার বিকেলে ৪-১-৩-২ ফরমেশনে খেলতে নামে জামাল ভূঁইয়ার দল। দ্বিতীয় মিনিটে শেখ মোরসালিন আক্রমণে উঠলেও অফসাইডের ফাঁদে পড়েন। সোহেল রানাকে ফাউল করায় সপ্তম মিনিটে ম্যাচের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন আফগান মিডফিল্ডার জেলফাগার নাজারি।
ম্যাচের ১৩ মিনিটে শুরু হয় উত্তেজনা। ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষের সঙ্গে অতিথি অধিনায়ক ফারশাদ নূরের তর্ক চলতে থাকে। দুদলের খেলোয়াড়দের মধ্যস্থতায় ঘটনা বেশিদূর গড়ায়নি।
পরে রাকিব থ্রো ইন করতে গেলে প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড় বাধা দিতে যান। তা নিয়ে মাঠে উত্তাপ ছড়ায়। আফগানিস্তান কোচ আবদুল্লাহ আল মুতাইরি রীতিমত চড়াও হন। স্বাগতিকদের সহকারী কোচ হাসান আল মামুনও উত্তেজিত হন। রেফারি প্রাজওল ছেত্রী ১৮ মিনিটে মুতাইরিকে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেন। একইসঙ্গে হাসান আল মামুনও দেখেন লাল কার্ড।
ক্ষিপ্ত মুতাইরি লাল কার্ড দেখে ফুটবলারদের মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন। তবে আফগান দলের বাকি কর্মকর্তারা তাকে বাধা দেন। ফুটবলারদের শরীরী ভাষায় বোঝা গিয়েছে, তারা খেলতেই আগ্রহী ছিলেন।
ম্যাচের ২২ মিনিটে প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়কে কড়া ট্যাকল করে সোহেল রানা হলুদ কার্ড দেখেন। ৩৬ মিনিটে নামে বৃষ্টি। এসময় বক্সের কাছে আফগানদের ১০ নম্বর ফ্রি কিক নেন। বক্সে ঢোকা রাকিবের শট ৪০ মিনিটে প্রতিহত করেন আফগান গোলরক্ষক।
বাজে ট্যাকল করায় ৪৪ মিনিটে হলুদ কার্ড দেখেন স্বাগতিক ডিফেন্ডার তারেক কাজী। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে সোহেল রানা নেন কর্নার কিক। জটলার ভেতরে বল পাওয়া জামাল ভূঁইয়ার কিক গোললাইনের কাছ থেকে বিপদমুক্ত করেন ডিফেন্ডার মাহবুব হানিফি। গোলশূন্য শেষ হয় প্রথমার্ধ।
দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর আগে ডিফেন্ডার ইসা ফয়সালের পরিবর্তে মধ্যমাঠের শক্তি বাড়াতে সাদ উদ্দিনকে নামান বাংলাদেশ কোচ হাভিয়ের ক্যাবরেরা। ৪৯ মিনিটে রাকিবের নেয়া দারুণ ক্রসে কেউ মাথা ছোঁয়াতে না পারায় বাংলাদেশ লিড পায়নি।
তিন মিনিট পর অমিড পোপালজাইয়ের কর্নার কিক থেকে উড়ে আসা বলে হেডে লক্ষ্যভেদ করে আফগানিস্তানকে লিড এনে দেন ফরোয়ার্ড জাবার শারজা। ৫৭ মিনিটে তৌফি স্কানদারির দূরপাল্লার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পরে বক্সের সামান্য বাইরে থেকে ফ্রি কিক নেন জামাল। ৬১ মিনিটে তার শট পোস্টের অনেক উপর দিয়ে বেরিয়ে যায়।
কিংস অ্যারেনার দর্শকরা ৬২ মিনিটে আনন্দের জোয়ারে ভাসে। রাকিবের থেকে বল পান বিশ্বনাথ। তার বাড়িয়ে দেয়া বল নিয়ে পোস্টের সামনে থাকা মোরসালিন ডান পায়ের শটে বল জালে জড়ান। উত্তাল হয়ে ওঠে গ্যালারি।
পাঁচ মিনিট পর বক্সে থাকা জামালের শট প্রতিপক্ষের এক ফুটবলারের হাতে লাগলেও রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজাননি। এ নিয়ে রেফারির সঙ্গে খানিক তর্কেও স্বাগতিক দলের খেলোয়াড়রা জড়ান। গায়ের জোরে চলতে থাকা ম্যাচের ৭২ মিনিটে হলুদ কার্ড দেখেন সফরকারী মিডফিল্ডার ফয়সাল।
মোরসালিন ৭৮ মিনিটে পেয়েছিলেন আবারও দারুণ এক সুযোগ। সতীর্থের পাসে আসা বলে ঠিক সময়ে কিক নিতে ব্যর্থ হন। মিডফিল্ডার হৃদয় ফাউলের শিকার হয়ে ৮১ মিনিটে মাঠ ছাড়েন। তার পরিবর্তে নামেন ফয়সাল আহমেদ ফাহিম।
শেষদিকে একের পর এক আক্রমণে উঠে আফগানিস্তানের উপর চাপ বাড়ায় বাংলাদেশ। ৮৪ মিনিটে জামালের কর্নার কিকে বিশ্বনাথ হেড নিলে পোস্টের খানিক উপর দিয়ে যায়। খানিক পর তপু বর্মণের হেড প্রতিহত করেন আফগান গোলরক্ষক হামিদি।
জামালকে যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে বেঞ্চে বসান কোচ, খেলতে নামেন মোহাম্মাদ ইব্রাহিম। কিছুক্ষণ পর তপুর হেড লক্ষ্যে থাকেনি। পঞ্চম মিনিটে আফগান ফুটবলার ফয়সাল রেফারির সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন। পরে মোরসালিনের বদলে নামেন মজিবুর রহমান জনি। সঙ্গে সঙ্গে রেফারি শেষ বাঁশি বাজিয়ে দেন।







