ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট খেলতে নামার আগে বেশ দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন ডেভিড ওয়ার্নার। টেস্টের বিশেষ টুপি ‘ব্যাগি গ্রিন’ হারিয়ে বিমর্ষ হয়ে পড়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার তারকা ব্যাটার। ঘটনা গড়িয়েছিল অজি প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত। শেষপর্যন্ত ক্যাপটি খুঁজে পেলেও অজানা ছিল কীভাবে বা কোথায় পাওয়া যায় সেটি। এবার সেই রহস্যও উন্মোচন হল। হারানো ‘ব্যাগি গ্রিন’ নাকি ওয়ার্নারের রাখা জায়গা থেকেই নড়েনি।
সিডনি ম্যাচ ছিল ওয়ার্নারের বিদায়ী টেস্ট। যেখানে মাঠের আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার কথা ছিল তার বিদায়ী ম্যাচ, সেখানে আলোচনার মূলে চলে আসে ২০১১ সালে টেস্ট অভিষেকে পাওয়া ‘ব্যাগি গ্রিন’, যা হারিয়ে বিচলিত হয়ে ওঠেন তিনি। সেই ক্যাপের সঙ্গে আরও দুটি ক্যাপসহ পুরো ব্যাকপ্যাকই হারিয়ে বসেন ৩৭ বর্ষী তারকা ব্যাটার।
‘ব্যাগি গ্রিন’ রহস্য উন্মোচন করে অস্ট্রেলিয়ান পত্রিকা ‘দ্য এইজ’ এক প্রতিবেদনে জানাচ্ছে, ওয়ার্নারের যে ব্যাকপ্যাকে ‘ব্যাগি গ্রিন’ ছিল, সেটি জায়গা থেকে নড়েইনি। মেলবোর্ন থেকে সিডনিতে আসা পর্যন্ত ছিল জায়গামতোই।
এয়ারলাইন্স কোম্পানি কোয়ানটাস, টিম সিকিউরিটি এবং মেলবোর্ন ও সিডনির হোটেলের স্টাফরা যখন ওয়ার্নারের ব্যাকপ্যাক খুঁজে হয়রান, সেটি আসলে সিডনির ডাবল বের ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের টিম রুমে অন্য ব্যাগগুলোর সঙ্গেই ছিল।
৩১ ডিসেম্বর মেলবোর্ন থেকে সিডনিতে এসেছিল মোট ৬৪টি ব্যাগ। সেখানে ছিল ওয়ার্নারেরটিও। তাহলে প্রশ্ন জাগতে পারে, ওয়ার্নার কেনো নিজের ব্যাগ খুঁজে পাননি? মূলত ক্রিকেটারদের সরঞ্জাম বহনের জন্য দুই ধরনের ব্যাগ ব্যবহার করা হয়। ‘হাফ কফিন’ ও ‘ফুল কফিন’। ওয়ার্নারের ব্যাকপ্যাকটি ছিল ‘হাফ কফিন’ ক্রিকেট ব্যাগে।
দলের এক সাপোর্ট স্টাফ ওয়ার্নারের ব্যাগটি দেখেছিলেনও। বিপত্তি বাধে অন্য জায়গায়, ওয়ার্নার যখন ঘোষণা দেন যে ব্যাকপ্যাক হারিয়ে গেছে, তখন সেটি খুঁজে পাওয়ার জন্য অভিযান চালায় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)।
সেসময় ওয়ার্নারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে জানান, তার ব্যাগপ্যাকটি ‘ফুল কফিন’ ক্রিকেট ব্যাগে থাকতে পারে। আর সেখানে যে কয়টি ওয়ার্নারের ব্যাগ ছিল, সবকটিতেই তার নামের লেবেল লাগানো ছিল। কিন্তু ওয়ার্নারের ব্যাকপ্যাক মূলত ছিল ‘হাফ কফিনে’। যে কারণে হন্যে হয়ে খুঁজেও সেটি পাওয়া যায়নি।
এরমধ্যে আবার ‘হাফ কফিন’ ব্যাগটি অন্যরুমে এবং নাম লেখা অংশটি ছিল দেয়ালের দিকে মুখ করা। এরপর সেটি নজরে না পড়ায় লেগে যায় তুলকালাম।







