ভারতের ইতিহাসে মোগল শাসনামল একটি সোনালী অধ্যায় হিসেবে স্বীকৃত। তবে এবার সেই ইতিহাসের পরিবর্তন করতে চলেছে নরেন্দ্র মোদির বিজেপি সরকার। এনসিইআরটির উদ্যোগে প্রকাশিত ‘এক্সপ্লোরিং সোসাইটি : ইন্ডিয়া অ্যান্ড বিয়ন্ড’ শীর্ষক পাঠ্যবইয়ে মোগল সম্রাটদের পরিচয় দেওয়া হয়েছে নতুন ভাবে।
ভারতের জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই কাউন্সিল (এনসিইআরটি) কর্তৃক প্রকাশিত অষ্টম শ্রেণির নতুন ইতিহাস বইয়ে মোগল সম্রাটদের চিত্রায়নে এসেছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। ‘এক্সপ্লোরিং সোসাইটি: ইন্ডিয়া অ্যান্ড বিয়ন্ড’ শীর্ষক বইয়ের সাম্প্রতিক সংস্করণে আগের তুলনায় সম্পূর্ণ নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করা হয়েছে মোগল শাসনকে।
হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, বইটির একটি অধ্যায়—‘নোট অন সাম ডার্কার পিরিয়ডস ইন হিস্ট্রি’—তে মোগল যুগকে তুলে ধরা হয়েছে দমন-পীড়ন, যুদ্ধ ও সহিংসতার এক অধ্যায় হিসেবে। একসময় ইতিহাসে ‘মহামতি’ হিসেবে খ্যাত সম্রাট আকবরকে এই বইয়ে আখ্যা দেওয়া হয়েছে একযোগে ‘সহনশীল’ এবং ‘বর্বর’ হিসেবে। বাবরকে বর্ণনা করা হয়েছে ‘নিষ্ঠুর নির্মম বিজেতা’ হিসেবে, যিনি দখলকৃত শহরগুলোতে গণহত্যা চালান এবং মৃতদের খুলি দিয়ে তোরণ নির্মাণ করেন।
এনসিইআরটির পাঠ্যক্রম পর্যালোচনা কমিটির সদস্য মাইকেল ড্যানিনো জানিয়েছেন, এই বই কারও ভাবমূর্তি ধ্বংসের উদ্দেশ্যে লেখা হয়নি; বরং ইতিহাসের বাস্তব দিক শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরাই এর মূল লক্ষ্য। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিএল ভার্মাও বলেন, মোগল শাসন নিয়ে সত্য জানা নতুন প্রজন্মের অধিকার।
বইটিতে জোর দেওয়া হয়েছে যুদ্ধের নৃশংসতা, কর ব্যবস্থার ধর্মীয় দিক এবং সংখ্যালঘুদের অবস্থানের ওপর। আকবরের আমলের চিতোরগড় হত্যাকাণ্ড এবং অমুসলিমদের ওপর আরোপিত জিজিয়া করকে তুলে ধরা হয়েছে ধর্মীয় বৈষম্যের নিদর্শন হিসেবে। আর আওরঙ্গজেবকে চিহ্নিত করা হয়েছে ‘নির্মম সামরিক শাসক’ হিসেবে, যিনি মন্দির ও গুরুদ্বার ধ্বংস করেন এবং সংখ্যালঘুদের ওপর কঠোর দমননীতি চালান।
তবে শুধু মোগলদের দমননীতিই নয়, বইটিতে গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরা হয়েছে প্রতিরোধ ও বীরত্বগাথাও। ছত্রপতি শিবাজিকে বর্ণনা করা হয়েছে একজন দক্ষ ও দূরদর্শী হিন্দু নেতা হিসেবে, যিনি সব ধর্মের প্রতি সম্মান দেখিয়েছেন। পাশাপাশি আলোচনায় এসেছে আহিল্যাবাঈ হোলকার, তারাবাঈর মতো প্রভাবশালী নারী নেত্রীদের অবদান এবং উপজাতীয় গোষ্ঠী যেমন জাট, কোচ, ভিল ও সাঁওতালদের ভূমিকা, যারা নিজেদের অঞ্চল রক্ষায় সবসময় প্রস্তুত ছিলেন।









