দেবী দুর্গার বোধন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে আজ। শরৎকালের এই পূজায় বোধনের মাধ্যমে দেবীর নিদ্রা ভেঙে তাকে আহ্বান জানানো হয়।
আজ (২৭ সেপ্টেম্বর) শনিবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে দেবীর বোধন। পুরাণ মতে, দক্ষিণায়নে নিদ্রিত দেবী দুর্গাকে জাগ্রত করতেই পঞ্চমী তিথির সন্ধ্যায় বন্দনা ও পূজা অনুষ্ঠিত হয়। ‘বোধন’ শব্দের অর্থই হলো জাগরণ বা চৈতন্যপ্রাপ্তি। ভগবান রামচন্দ্র রাবণবধের উদ্দেশ্যে শরৎকালে দুর্গাকে আহ্বান করেছিলেন—এই কারণেই এ পূজাকে ‘অকালবোধন’ বলা হয়।
সাধারণত ষষ্ঠী তিথির সন্ধ্যায় দেবীর বোধন অনুষ্ঠিত হয়। তবে এবার পঞ্জিকার হিসাবে ষষ্ঠী শুরু হবে বেশ রাত থেকে, ফলে সন্ধিকাল পাওয়া যাচ্ছে না। শাস্ত্রীয় নিয়ম অনুযায়ী এমন পরিস্থিতিতে পঞ্চমীর সন্ধ্যাতেই বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাস সম্পন্ন করতে হয়। সেই নিয়ম মেনেই আজ সন্ধ্যায় হবে দেবী দুর্গার বোধন।
বোধনের পর আগামীকাল রোববার হবে ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ ও ষষ্ঠী বিহিত পূজা। এরপর পর্যায়ক্রমে সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীর পূজা অনুষ্ঠিত হবে। পাঁচ দিনের এই পূজা উৎসব শেষ হবে ২ অক্টোবর বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে। এবার দেবী দুর্গা হাতির পিঠে চড়ে আগমন করছেন, যা সমৃদ্ধি ও শুভ বার্তার প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। আর দশমীতে দেবী বিদায় নেবেন দোলা বা পালকিতে, যা শোক ও বেদনার ইঙ্গিত বহন করে।
রাজধানী ঢাকায় এবার মোট ২৫৯টি মন্দির ও মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় সাতটি বেশি। সারা দেশে মোট ৩৩ হাজার ৩৫৫টি মন্দির-মণ্ডপে পূজা হবে—এ সংখ্যাটিও গতবারের তুলনায় প্রায় এক হাজার বেশি।









