অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করে একটি আইন পাস করেছে। এই আইন অনুযায়ী, টিকটক, ফেসবুক, ইনস্টগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্ম ১৬ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের প্রবেশ বন্ধ করবে।
আজ ২৯ নভেম্বর শুক্রবার একটি প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছে, আইনটি কার্যকর হবে এক বছরের মধ্যে। বিলটি মাত্র সাত দিন আগে পার্লামেন্টে উত্থাপন করা হয়। এক ঘণ্টার বিতর্ক এবং তিন ঘণ্টার শুনানির পর এটি পার্লামেন্টের দুই কক্ষেই অনুমোদিত হয়েছে।
সরকার এই পদক্ষেপকে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য জরুরি বলে বর্ণনা করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে বুলিং, মানসিক চাপ, প্রতারণা এবং অনলাইন শিকারিদের হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করে এটি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৭৭ শতাংশ অস্ট্রেলিয়ান এই নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার তরুণদের মধ্যে ব্যাপক হারে বেড়েছে। পিউ রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, ১৩-১৭ বছর বয়সী কিশোরদের ৯৫% কোনো না কোনো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এবং তাদের এক-তৃতীয়াংশ প্রায় সবসময় প্ল্যাটফর্মে যুক্ত থাকে।
এই আইন অমান্য করলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কোম্পানিগুলোর জন্য সর্বোচ্চ ৫০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে শিশু বা তাদের অভিভাবকদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। মেসেজিং অ্যাপ, অনলাইন গেমিং এবং স্বাস্থ্য বা শিক্ষার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত প্ল্যাটফর্মগুলো এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।
এছাড়া ইউটিউব এর মতো প্ল্যাটফর্, যেখানে লগইন না করেও কনটেন্ট দেখা যায় তা নিষিদ্ধ হবে না। তবে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কোম্পানিগুলো বয়স যাচাইয়ের জন্য সরকারী পরিচয়পত্র বা ডিজিটাল আইডি চাইতে পারবে না।
আইনটি সমর্থন করে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ড্যানিয়েল আইনস্টাইন বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য কোনো উপকার বয়ে আনে না। আইনটি অস্ট্রেলিয়ার বিরোধী দল লিবারেল পার্টির সমর্থনেও পাস হয়েছে। লিবারেল সেনেটর মারিয়া কোভাচিক একে দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত বলে অভিহিত করেছেন।









