বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জয়ের রেকর্ড গড়ল অস্ট্রেলিয়া। নেদারল্যান্ডসকে ৩০৯ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে তারা। একইভাবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পরাজয়ের রেকর্ড সঙ্গী হল নেদারল্যান্ডসের। আগের বড় হারের রেকর্ডটি ছিল আফগানিস্তানের দখলে, প্রতিপক্ষ ছিল অজিরা।
৪০০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৯০ রানে গুটিয়ে যায় স্কট এডওর্য়াডসের নেদারল্যান্ডস। ইনিংসে ডাচদের ছয় ব্যাটার দুই অঙ্কই ছুঁতে পারেননি। শেষের দিকে অজি লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পার তোপে পড়েন বিক্রম-ও’ডাউডরা।
বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ব্যবধানে হারের আগের রেকর্ডটি ছিল আফগানিস্তানের দখলে। ২০১৫ বিশ্বকাপে পার্থে অস্ট্রেলিয়া ২৭৫ রানে হারিয়েছিল আফগানদের। এবার সেই ব্যবধানকেও ছাড়িয়ে গেল নেদারল্যান্ডস। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নেদারল্যান্ডস সবচেয়ে বড় হার দেখেছে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২০২২ সালে। আমসটিলভেনে ২৩২ রানে বাটলারদের কাছে হেরেছিল দলটি।
বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের সবচেয়ে বড় পরাজয় ২৩১ রানের। ভারতে অনুষ্ঠিত ২০১১ বিশ্বকাপে সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে বিশ্বকাপে নিজেদের সবচেয়ে বড় হারটি দেখেছিল ডাচরা। বিশ্বকাপে তাদের দ্বিতীয় বড় হার অজিদের বিপক্ষে ২০০৭ সালে। সেবার ২২৯ রানে হেরেছিল স্কট এডওয়ার্ডসের পূর্বসুরীরা।
ডাচদের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৫ রান করেন ওপেনার বিক্রম সিং। এছাড়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৪ রান আসে তেজা নিদামানুরুর থেকে। অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস ১২ রানে অপরাজিত থাকেন।
অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ৪টি উইকেট নিয়েছেন স্পিনার অ্যাডাম জাম্পা। পেস অলরাউন্ডার মিচেল মার্শ নিয়েছেন ২টি এবং একটি করে উইকেট নিয়েছেন মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজেলউড ও প্যাট কামিন্স।
দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে টসে জিতে ব্যাটিং নিয়েছিলেন প্যাট কামিন্স। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে বিশাল সংগ্রহ গড়ে তার সিদ্ধান্তের যথার্থতা প্রমাণ করেছেন সতীর্থরা, চারশর এক রান আগে থেমেছে অস্ট্রেলিয়া। ডাচ বোলারদের বিধ্বস্ত করে ৮ উইকেটে ৩৯৯ রানের হিমালয়সম পুঁজি গড়েছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলটি। বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় সর্বাধিক দলীয় স্কোর গড়েছে অস্ট্রেলিয়া। ২০১৫ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে তারা ৬ উইকেটে ৪১৭ রান করেছিল।
শেষ ১০ ওভারে অজিরা তুলেছে ১৩১ রান। গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ওয়ানডে বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েছেন। মাত্র ৪০ বলে তুলে নেন শতক। ওয়ানডে ফরম্যাটে এটি চতুর্থ দ্রুততম সেঞ্চুরি। ডেভিড ওয়ার্নারও পেয়েছেন সেঞ্চুরির দেখা।

দ্বিতীয় উইকেটে ডেভিড ওয়ার্নার ও স্টিভেন স্মিথ ১৩২ রানের জুটি গড়ে বড় সংগ্রহের ভিত আনেন। জুটির পথে দুজনই তোলেন ফিফটি। ৬৯ রানে অল্পের জন্য সাজঘরে ফেরা থেকে বেঁচে যান ওয়ার্নার। সেঞ্চুরির আশা জাগিয়ে তুলতে পারেননি স্মিথ। ৬৮ বলে ৯ চার ও এক ছক্কায় ৭১ রান করে ফাইন লেগে আরিয়ান দত্তের হাতে ধরা পড়লে ভাঙে জুটি।
মার্নাস লাবুশেনকে নিয়ে ওয়ার্নার আরেকটি বড় জুটি গড়েন। তৃতীয় উইকেট জুটিতে আসে ৮৪ রান। আগ্রাসী ভঙ্গিতে ব্যাট করা লাবুশেনও পান ফিফটি। ৪৭ বলে ৭ চার ও ২ ছক্কায় করেন ৬২ রান। ডে লেডের বলে মিডঅনে আরিয়ানের হাতে ক্যাচ দিয়ে থামেন।
ওয়ার্নার ৩৯তম ওভারে বাউন্ডারি মেরে ওয়ানডেতে ২২তম সেঞ্চুরির দেখা পান। উদযাপনের শুরুতে লাফিয়ে শূন্যে ঘুষি মেরে পরে পুষ্পার ভঙ্গি করেন। ওয়ানডে বিশ্বকাপে তিনি শচীন টেন্ডুলকারের সমান ছয় সেঞ্চুরির দেখা পেলেন। তার সামনে কেবল সাত সেঞ্চুরি পাওয়া রোহিত শর্মা।

১৪ রান করা জশ ইংলিশের উইকেটও শিকার করেন ডে লেডে। সেঞ্চুরি পাওয়ার পর ফন বিকের বল ফাইন লেগ দিয়ে উড়িয়ে মারতে গিয়ে আরিয়ানের তালুবন্দি হন ওয়ার্নার। ক্যাঙ্গারুদের ব্যাটার ৯৩ বলে ১১ চার ও ৩ ছক্কায় খেলেন ১০৩ রানের ইনিংস।
পরে সাইব্র্যান্ড এঙ্গেলব্রেখটের সরাসরি থ্রোয়ে ড্রেসিংরুমে ফেরেন ৮ রান করা ক্যামেরন গ্রিন। অস্ট্রেলিয়া ২৯০ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর ঝড় তোলেন ম্যাক্সওয়েল। ২৭ বলে তুলে নেন হাফ-সেঞ্চুরি। একের পর এক চার-ছক্কার ফুলঝুরিতে ৪০ বলে তুলে নেন সেঞ্চুরি। চলতি আসরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৪৯ বলে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েছিলেন প্রোটিয়া ব্যাটার এইডেন মার্করাম। ১৮ দিন পর ম্যাক্সওয়েল সেটি ভাঙলেন।
ফন বিকের করা শেষ ওভারে বাউন্ডারি লাইনের কাছে এঙ্গেলব্রেখট ক্যাচ নিলে থামেন ম্যাক্সওয়েল। ক্রিজ ছাড়ার আগে ৪৪ বলে ৯ চার ও ৮ ছক্কায় করেন ১০৬ রান। ম্যাক্সওয়েলের পর মিচেল স্টার্ক আউট হলে ফন বিক হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগালেও ধরা পাননি।
ডাচদের হয়ে বিব্রতকর এক বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন ডে লেডে। ১০ ওভারে ২ উইকেট পেলেও রান দেন ১১৫। ওয়ানডে ইতিহাসে তিনিই এখন সবচেয়ে খরুচে বোলার। ফন বিক ৭৪ রান খরচায় নেন ৪ উইকেট।








