অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যে ভয়াবহ দাবানলে শতাধিক বাড়িঘর পুড়ে গেছে। বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়েছে ৩৮ হাজার বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এখনো ১০টির বেশি বড় আগুন সক্রিয় রয়েছে। ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে হাজার হাজার দমকলকর্মী মাঠে কাজ করেছেন। তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে এসব আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানা গেছে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যে কর্তৃপক্ষের বরাতে বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।
দাবানল গ্রাস করেছে ৩৬ হাজার হেক্টর বনভূমি। নিখোঁজ আছেন অন্তত তিনজন। প্রত্যন্ত এসব অঞ্চলে প্রবাসী বাংলাদেশিরা স্থায়ীভাবে বসবাস করেন না বলে জানা গেছে। নতুন বছরের শুরুতেই ভয়াবহ দাবানলের কবলে অস্ট্রেলিয়া। স্থানীয় সময় গত বুধবার মেলবোর্ন ও এর আশপাশের তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যায়। তীব্র গরম আর শুষ্ক দমকা হাওয়ায় ভিক্টোরিয়া রাজ্যের বনভূমিতে দেখা দেয় দাবানল। নিয়ন্ত্রণহীন আগুনে মেলবোর্ন থেকে ১৭৫ কিলোমিটার উত্তরের লংউড ও রাফি উপশহর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। কয়েকজন নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সপ্তাহের মাঝামাঝি দক্ষিণ পূর্ব অস্ট্রেলিয়ায় তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে এসব আগুনের সূত্রপাত হয়। তারা আরও জানিয়েছে, দাবানলে এখন পর্যন্ত ৩ লাখ হেক্টরের বেশি বনভূমি পুড়ে গেছে এবং রাজ্যজুড়ে এখনো ১০টি বড় আগুন সক্রিয় রয়েছে।
এই আগুনে বাড়িঘরসহ অন্তত ১৩০টির বেশি স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। পাশাপাশি আগুনের কারণে ৩৮ হাজার বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। কর্তৃপক্ষের মতে, এটি ২০১৯-২০২০ সালের ভয়াবহ ব্ল্যাক সামার দাবানলের পর ভিক্টোরিয়ায় সবচেয়ে মারাত্মক অগ্নিকান্ড। সেই সময় তুরস্ক দেশের সমান এলাকা পুড়ে গিয়েছিল এবং প্রাণ হারিয়ে ছিল ৩৩ জন।
শনিবার অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ ক্যানবেরা থেকে টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে বলেছেন, অস্ট্রেলিয়া চরম ও বিপজ্জনক অগ্নিঝুঁকির দিনের মুখোমুখি, বিশেষ করে ভিক্টোরিয়ায়। দেশটির বড় একটি অংশকে দুর্যোগপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই কঠিন সময়ে আঞ্চলিক এলাকার অস্ট্রেলীয়দের সঙ্গে আমার সমবেদনা রয়েছে।
রয়টার্সের সংবাদে বলা হয়েছে, দাবানলের ঝুঁকিতে থাকা বহু এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্যের অনেক পার্ক ও ক্যাম্পগ্রাউন্ড বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।









