ইংল্যান্ডের সময়টা ভালো যাচ্ছে না। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে ভারতের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ারও শেষ সিরিজটা নিজেদের পক্ষে ছিল না। আসর গড়ানোর পাঁচদিন আগে শ্রীলঙ্কার কাছে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে তারা। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিজেদের মিশন শুরু ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে দল দুটি।
শনিবার লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে ‘বি’ গ্রুপের লড়াইয়ে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নামবে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড। সবশেষ সিরিজে দুদলই পরাজয়ের স্মৃতি নিয়ে পাকিস্তানে এসেছে। তা ভুলে প্রথম ম্যাচেই জয় তুলে নিতে মুখিয়ে দুদল।
অস্ট্রেলিয়া অবশ্য সেরা তিন পেসারকে পাচ্ছে না। প্যাট কামিন্স, হ্যাজেলউড ও মিচেল স্টার্ক কেউই নেই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে। তারপরও আশাহত নন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয় দিয়ে শুরু করতে চান তিনি।
বলেছেন, ‘শুরু করতে দেরি করা যাবে না (জয়ে)। শুরু থেকেই আপনার কাজে লেগে যেতে হবে। এটাই দলের প্রতি বার্তা এবং ছেলেরা আগামীকাল রাতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জেতার জন্য মুখিয়ে।’
‘ইংল্যান্ড দুর্দান্ত দল। তারা অনেকদিন ধরেই সাদা বলের ক্রিকেটে খুব ভালো দল এবং আমরা তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান শুরু করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। আশা করি এটি দুর্দান্ত হবে।’
অন্যদিকে ম্যাচের দুদিন আগে একাদশ ঘোষণা করেছে ইংল্যান্ড। মার্ক উড, জফরা আর্চার ও ব্রাইডন কার্সদের মতো পেসার নিয়ে একাদশ সাজিয়েছে তারা। ফিল সল্ট, বেন ডাকেট ও জো রুট, হ্যারি ব্রুক ও জস বাটলারের মতো তারকারা আছেন। তবে অস্ট্রেলিয়া বিপক্ষে লড়াই কঠিন হবে বলছেন ইংলিশ অধিনায়ক জো রুট।
বলেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়া সবসময় আইসিসি টুর্নামেন্টে খুব ভালো পারফর্ম করেছে। সত্যিই কঠিন চ্যালেঞ্জ হবে। ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে সবসময়ই প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ থাকে। স্পষ্টতই, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে প্রতিটি খেলাই বড় ম্যাচ। আমরা এটির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’
নিজেদের প্রস্তুতি নিয়ে ইংল্যান্ড অধিনায়ক বলছেন, ‘ক্রিকেট খেলায় প্রতিদিনই আপনাকে মাঠে নেমে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে হবে, সেই অনুযায়ী খেলতে হবে এবং সেই অনুযায়ী কাজ করতে হবে। ফলাফলের পাশাপাশি, দলের পরিবেশও দুর্দান্ত। ক্যাম্পে মেজাজ সত্যিই দারুণ এবং প্রত্যাশায় আশাবাদী। আমরা জানি আমাদের অনেক প্রতিভা আছে, সেরকম পারফর্ম করতে চাই যা আমরা করতে পারি। তা করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছি এবং আমরা জানি ফলাফল আসবেই।’
দুদলের পরিসংখ্যানে অবশ্য অস্ট্রেলিয়া বেশ এগিয়ে ইংল্যান্ড থেকে। এপর্যন্ত ওয়ানডেতে দুদল মুখোমুখি হয়েছে ১৬০ ম্যাচে। ৯০টিতে জিতেছে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড জিতেছে ৬৫টিতে। তিনটি ম্যাচে কোনো ফলাফল আসেনি, আর ড্র হয়েছে দুটিতে। দেশের বাইরে দুদলের নয়বারের মুখোমুখিতে অস্ট্রেলিয়া জিতেছে ৭টিতে এবং ইংল্যান্ড জিতেছে দুটিতে।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে এপর্যন্ত দুদল মুখোমুখি হয়েছে পাঁচবার। সেখানে অবশ্য ইংল্যান্ড জিতেছে ৩টি, আর অস্ট্রেলিয়া জিতেছে দুটিতে। তবে গতবছর সেপ্টেম্বরে নিজেদের মাঠে ৩-২ ব্যবধানে অজিদের কাছে ৫ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ হেরেছে ইংল্যান্ড।
ইংল্যান্ড একাদশ: ফিল সল্ট, বেন ডাকেট, জেমি স্মিথ, জো রুট, হ্যারি ব্রুক, জস বাটলার (অধিনায়ক), লিয়াম লিভিংস্টোন. ব্রাইডন কার্স, জফরা আর্চার, আদিল রশিদ ও মার্ক উড।
অস্ট্রেলিয়ার সম্ভাব্য একাদশ: ট্রাভিস হেড, ম্যাথিউ শর্ট, স্টিভেন স্মিথ (অধিনায়ক), জশ ইংলিশ, মার্নাশ লাবুশেন, অ্যালেক্স ক্যারি, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, শন অ্যাবট, নাথান এলিস, অ্যাডাম জাম্পা, ও স্পেন্সার জনসন।









