রাতভর বৃষ্টির পর সকালে আবহাওয়া একইরকম থাকায় পঞ্চম দিনে মাঠে গড়ায়নি কোনো বল। অজিদের সঙ্গে দুর্দান্ত লড়াই করেও শেষপর্যন্ত বৃষ্টির সঙ্গে আর পেরে ওঠেনি ইংল্যান্ড। দুদিনের খেলা ভেস্তে যাওয়ার পর ঐতিহ্যবাহী অ্যাশেজ সিরিজ জয়ের স্বপ্ন বিসর্জন দিতে হয়েছে বেন স্টোকসের দলের। চতুর্থ টেস্টে পুরোপুরি চালকের আসনে থেকে বৃষ্টিতে জয় হাতছাড়া হলেও ইংল্যান্ডের এই দলটিকে অনেকদিন মানুষ মনে রাখবে, বিশ্বাস স্টোকসের।
ওল্ড ট্রাফোর্ড টেস্টের পঞ্চম ও শেষদিনের খেলা পুরোটাই ভেসে যায় বৃষ্টিতে। চতুর্থ টেস্টে ড্রয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-১এ এগিয়ে অ্যাশেজ ধরে রাখল অস্ট্রেলিয়া। প্রথম দুই ম্যাচে হেরে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল স্বাগতিক দল। তৃতীয় ম্যাচে দুর্দান্ত জয়ের পর চতুর্থটির প্রথম ইনিংসে দারুণ বোলিং, দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও অস্ট্রেলিয়াকে চাপে রেখেছিল স্টোকস বাহিনী।
সিরিজের শেষ ম্যাচে যদি ইংল্যান্ড জয়ও পায়, তাতে বড়জোর সিরিজ ড্র হবে। অ্যাশেজ ধরে রাখা নিশ্চিত তো করেই ফেলেছে অস্ট্রেলিয়া। সবশেষ সিরিজ জেতা অস্ট্রেলিয়ার কাছেই তাই থাকবে ছাইদানি।
ইংলিশ অধিনায়ক স্টোকসের আক্ষেপটা একটু বেশি হচ্ছে। বলেছেন, ‘দেখুন, যদি খেলার দিকে নজর দেন, বুঝবেন আমরা জয়ের জন্য সম্ভাব্য সবকিছুই করেছি। এখানে আসলে আমাদের হাতে কিছুই নেই, আমরা যা-ই করতাম না কেনো, একই পরিস্থিতিতে পড়তাম।’
৩২ বর্ষী অলরাউন্ডার বলেছেন, ‘আমরা এমন একটি দলে পরিণত হয়েছি যা অনেকের কাছেই অনুকরণীয়। এই দলটি সমর্থকদের স্মৃতিতে দীর্ঘকাল বেঁচে থাকব। একজন অধিনায়ক হিসেবে অ্যাশেজ জিততে যতটা মরিয়া, চাই এই দলটিও সে বিষয়টি উত্তরাধিকারী সূত্রে মনে ধারণ করুক।’
টেস্টের চতুর্থ দিনেও বৃষ্টির কারণে গড়ায়নি প্রথম সেশন। দ্বিতীয় সেশনে খেলা শুরু হলে চা বিরতিতে যাওয়ার পর আবারও বৃষ্টির হানা দিলে বন্ধ হয়ে যায় লড়াই। বৃষ্টিবিঘ্নিত দিনে সেঞ্চুরি করেন মার্নাশ লাবুশেন। ৬১ রানে পিছিয়ে থেকে চতুর্থ দিনের খেলা শেষ করেছিল অস্ট্রেলিয়া। ৪ উইকেটে ১১৩ রানে ব্যাট করতে নামা অস্ট্রেলিয়া খেলা বন্ধ হওয়ার আগে ৫ উইকেটে তোলে ২১৪ রান।
এর আগে প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ৩১৭ রানে থামায় ইংল্যান্ড। জবাবে নেমে প্রথম ইনিংসে ২৭৫ রানের লিড নিয়ে তৃতীয় দিনে ৫৯২ রানে অলআউট হয় স্বাগতিক দল। এমন অবস্থা থেকে স্টোকসদের স্বপ্ন কেড়েছে ম্যানচেস্টারের বেরসিক বৃষ্টি।








