ভারতের দ্বিতীয় ইনিংসের পরই পার্থ টেস্টের ফলাফল অনেকটা ঠিক হয়ে গিয়েছিল। অপেক্ষা ছিল ভারতের জয়ের ব্যবধানটা কেমন হতে পারে। চতুর্থ দিনে নেমে ট্র্যাভিস হেড ছাড়া ভারতের বোলারদের পরীক্ষা নিতে পারেননি আর কেউ। জাসপ্রীত বুমরাহ-মোহাম্মদ সিরাজদের তোপে স্বাগতিকদের গুটিয়ে ২৯৫ রানের বড় ব্যবধানে জিতেছে ভারত।
পার্থে শুক্রবার টসে জিতে আগে ব্যাটে নেমে শুরুতে খেই হারায় ভারত। লোকেশ রাহুল-রিশভ পান্টের ব্যাটে ভর করে ৪৯.৪ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে প্রথম ইনিংসে ১৫০ রানে থামে টিম ইন্ডিয়া। জবাবে নেমে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৫১.২ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ১০৪ রানে থামে প্যাট কামিন্সের দল।
দ্বিতীয় ইনিংসে ভারত ঘুরে দাঁড়িয়ে কোহলি (১০০*) ও জয়সওয়ালের (১৬১) শতকে ৬ উইকেটে ৪৮৭ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। ৫৩৪ রানের পাহাড়সম লক্ষ্যে নেমে ৫৮.৪ ওভারে ২৩৮ রানে অলআউট হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। অজিদের মাঠে এটিই ভারতের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ের কীর্তি। ১৯৭৮ সালে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ভারত ২২২ রানে হারিয়েছিল স্বাগতিকদের।
১২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে সোমবার চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। দিনের প্রথম সেশনে ৭৯ রান তুলতে আরও দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে প্যাট কামিন্সের দল। অজিদের চার টপঅর্ডার নাথান ম্যাকসুইনি শূন্য, প্যাট কামিন্স ২, মার্নাস লাবুশেন ৩ ও উসমান খাজার ব্যাট থাকে আসে ৪ রান।
৬০ বলে ১৭ রান করে স্টিভেন স্মিথ ফেরেন পান্টের গ্লাভসে ক্যাচ দিয়ে। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে হেড ও মিচেল মার্শ ৮২ রান যোগ করেন। দ্রুত রান তুলছিলেন হেড। এগিয়ে যাচ্ছিলেন সেঞ্চুরির দিকে। বুমরাহ তাকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন।
উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেয়ার আগে ১০১ বলে ৮ চারে ৮৯ রান করে যান হেড। কিছুপর মার্শও বিদায় নেন। নীতীশ কুমার রেড্ডির বলে বোল্ড হওয়ার আগে ৬৭ বলে ৩ চার ও ২ ছয়ে ৪৭ রান করেন মার্শ।
শেষদিকে অ্যালেক্স ক্যারি একাই লড়ে যান। তাতেও বড় হার এড়াতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। শেষ ব্যাটার হিসেবে হার্ষিত রানার বলে আউট হওয়ার আগে ৩৬ রান করেন ক্যারি।
প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট শিকার করা বুমরাহ দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেট নেন। সিরাজের শিকারও ৩ উইকেট। ওয়াশিংটন সুন্দর ২টি, নীতীশ কুমার ও হার্শিত রানা নেন একটি করে উইকেট।









