মেলবোর্ন টেস্টে প্রযুক্তিগত সিদ্ধান্তের বিপরীতে গিয়ে ভারত ওপেনার যশস্বী জয়সওয়ালকে আউট দেন বাংলাদেশি আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত। যা নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে শুরু হয়েছে তোলপাড়। কেউ কেউ সাহসী সিদ্ধান্ত বললেও মুদ্রার উল্টো পিঠও দেখতে হচ্ছে সৈকতকে। ম্যাচ শেষে স্বয়ং ভারত-অস্ট্রেলিয়া অধিনায়কই পক্ষ নিয়েছেন সৈকতের। তবে সুনীল গাভাস্কার বলছেন উল্টোটা।
তৃতীয় আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করা সৈকত সোমবার মেলবোর্ন টেস্টে কঠিন এক সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। যে সিদ্ধান্তটি প্রযুক্তিও নিশ্চিত করতে পারেনি। স্নিকো প্রযুক্তি কট বিহাইন্ড না ধরতে পারলেও জয়সওয়ালকে আউটের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন শরফুদ্দৌলা।
ঘটনার সূত্রপাত প্যাট কামিন্সের ৭১তম ওভারে। টেস্ট জিততে অস্ট্রেলিয়ার দরকার তখন ৪ উইকেট। ভারতের ২০০ রান। এমন সময়ে বাউন্সারে ফাইন লেগে খেলতে চেয়েছিলেন জয়সওয়াল। বল জমা পড়ে উইকেটকিপার অ্যালেক্স ক্যারির গ্লাভসে। ক্যাচের আবেদন করেন অজিরা। মাঠ আম্পায়ার আউট দেননি। কামিন্স রিভিউ নিলে সিদ্ধান্ত যায় তৃতীয় আম্পায়ার শরফুদ্দৌলার দুয়ারে।
রিভিউ নেয়ার পর রিপ্লেতে দেখা যায় বল ব্যাট ও গ্লাভস ছুঁয়েছে। শরফুদ্দৌলাও সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় জানান, স্পষ্ট করেই দেখতে পেয়েছেন বলের গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে। তবে আরও নিশ্চিত হওয়ার জন্য তিনি স্নিকোর সাহায্য চান। তখন বাধে বিপত্তি। বল ব্যাটে লাগার ফলে স্নিকোতে যে লাইনগুলো বড় হয়ে ওঠার কথা, তা দেখা যায়নি। তাতে অবশ্য বাংলাদেশি আম্পায়ারের মন গলেনি। আউটের সিদ্ধান্তই দেন তিনি। যে সিদ্ধান্তে পাশে পাচ্ছেন অনেককেই।
স্নিকো প্রযুক্তি কট বিহাইন্ড না ধরতে পারলেও জয়সওয়ালকে আউটের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন শরফুদ্দৌলা। ম্যাচ শেষেও আলোচনায় মূল বিষয় হয়ে দাঁড়ায় প্রসঙ্গটি। ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মা বলেছেন, ‘জানি না এ নিয়ে কী বলব। কারণ, প্রযুক্তিতে কিছু দেখা যায়নি। কিন্তু খালি চোখে দেখে মনে হয়েছে, সে (জয়সওয়াল) কিছু একটাতে (ব্যাট) লাগিয়েছে। আম্পায়াররা প্রযুক্তি কীভাবে ব্যবহার করতে চান, তা জানি না। তবে ন্যায়পরায়ণতার খাতিরেই বলছি, আমার মনে হয়েছে, সে বলটা ছুঁয়েছে। আমরা জানি, প্রযুক্তি সবসময় শতভাগ সঠিক নয়। বেশিরভাগ সময় আমরাই এর ভুল সিদ্ধান্তের শিকার হচ্ছি, এখানে এটা আমাদের দুর্ভাগ্য।’
তৃতীয় আম্পায়ার সৈকতের দেয়া সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল মনে করছেন অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও। বলেছেন, ‘মনে হচ্ছে তিনি এটিকে আঘাত করেছেন, একটি শব্দ শুনেছেন, একটি বিচ্যুতি দেখেছেন, তাই পুরোপুরি নিশ্চিত যে তিনি এটিকে আঘাত করেছেন। আমরা রিভিউ নেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে মাথা নামতে দেখেছেন। মূলত তিনি স্বীকার করেছেন যে, সে আঘাত করেছে। স্ক্রিনে, আপনারা দেখেছেন এটি স্পর্শ করেছে। ভাবার কোনো কারণ নেই যে আল্ট্রা এজ সবসময় আপনাকে সঠিক আত্মবিশ্বাস দেবে। কিন্তু সৌভাগ্যবশত এখানে পরিষ্কারভাবে দেখা গেছে এর যথেষ্ট অন্যান্য প্রমাণ ছিল।’
ভারতের কিংবদন্তি সাবেক সুনীল গাভাস্কার অবশ্য শরফুদ্দৌলার সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট হতে পারেননি। বলেছেন, ‘আমরা অনেকবার দেখেছি, বল সিমে পড়ে ব্যাটে না লেগে খুব কাছ দিয়ে গিয়ে দেরিতে সুইং করেছে। দূর থেকে মনে হয়, বল ব্যাটের কানায় লেগেছে। সামনের পায়ে ডিফেন্সের কথা বলছি, (জয়সওয়ালের) হুক শটের কথা নয়। দেখার ভুলের কারণে মনে হয় বল ব্যাটে লেগেছে। এখানেও দেখার ভুলই হয়েছে। প্রযুক্তি যদি বলে এটা আউট নয়, তাহলে আউট দেয়ার সুযোগ নেই।’
এই আউটকে সমর্থন জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিং, ‘তারা এটা নিয়ে যা খুশি তাই-ই বলতে পারে। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে ওটা (বল) তার হাতে লেগেছে। আর তখনই খেয়াল করেছি জয়সওয়াল হাঁটতে শুরু করেছে।’
ধারাভাষ্যকারদেরও অবশ্য পাশে পেয়েছেন শরফুদ্দৌলা। হার্শা ভোগলে ও মার্ক নিকোলাসরা এটাকে সাহসী ও ন্যায্য সিদ্ধান্ত বলেছেন।









