একটি জলবায়ু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসকারী ১৫ লক্ষ অস্ট্রেলিয়ান ২০৫০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকিতে রয়েছেন।
সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রথম জাতীয় জলবায়ু ঝুঁকি মূল্যায়নে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, তাপপ্রবাহ, খরা এবং দাবানলের মতো আরও ঘন ঘন এবং তীব্র জলবায়ু ঝুঁকির পূর্বাভাস দিয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী ক্রিস বোয়েন বলেন, “অস্ট্রেলিয়ানরা ইতিমধ্যেই আজ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। তবে আমরা এখন যে পরিমাণ উষ্ণতা রোধ করব, ভবিষ্যত প্রজন্মকে আগামী বছরগুলোতে তার সবচেয়ে খারাপ প্রভাব এড়াতে সাহায্য করবে।”
এই প্রতিবেদনে তিনটি বৈশ্বিক উষ্ণায়নের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে, যা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে, ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে এবং ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের মাথাপিছু বৃহত্তম দূষণকারী দেশ অস্ট্রেলিয়া ইতিমধ্যেই ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে উষ্ণায়নে পৌঁছেছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সিডনিতে তাপজনিত মৃত্যু ৪০০ শংতাশেরও বেশি এবং মেলবোর্নে প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেতে পারে।
২০৩৫ সালের জন্য সরকার কর্তৃক নির্গমন হ্রাস লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণার কয়েকদিন আগে প্রকাশিত ৭২ পৃষ্ঠার এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অস্ট্রেলিয়ার কোনও সম্প্রদায়ই জলবায়ু ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকবে না, যা ক্রমবর্ধমান, জটিল এবং সমসাময়িক হবে।
এতে আরও দেখা গেছে, তাপপ্রবাহজনিত মৃত্যু, তীব্র বন্যা এবং দাবানলের কারণে পানির গুণমান খারাপ হওয়া এবং সম্পত্তির মূল্য ৬১১ বিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলার (৪০৬ বিলিয়ন; ৩০০ বিলিয়ন) হ্রাসের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০৫০ সালের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় উঁচু এবং অধিক উঁচু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত উপকূলীয় সম্প্রদায়ের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। যদি জনসংখ্যার মাত্রা বর্তমান স্তরে থাকে, তাহলে ১ দশমিক ৫ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ ঝুঁকির মধ্যে থাকবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর অস্ট্রেলিয়ার অঞ্চলগুলো, বিশেষ করে প্রত্যন্ত সম্প্রদায় এবং প্রধান শহরগুলোর বাইরের শহরতলির সাথে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, “এটি স্বাস্থ্য, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, প্রাকৃতিক প্রজাতি এবং বাস্তুতন্ত্র এবং প্রাথমিক শিল্পের উপর চাপ সৃষ্টি করবে।” পাশাপাশি জরুরি প্রতিক্রিয়াশীলদের জন্য অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।
প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, কুইন্সল্যান্ডের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ এবং পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার নিঙ্গালু রিফের মতো প্রবাল প্রাচীর ইতিমধ্যেই রেকর্ড ব্লিচিং ঘটনার শিকার। উষ্ণ সমুদ্রের কারণে ব্লিচিং এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি এই ঝুঁকির সম্মুখীন হবে।
বোয়েন বলেন, “এই জলবায়ু মূল্যায়ন থেকে একটি বিষয় খুব স্পষ্ট যে, আমাদের পুরো দেশ অনেক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।”
বোয়েনের মতে, এই প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় সরকার একটি জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, যাতে জলবায়ু সমস্যা মোকাবেলায় ফেডারেল, রাজ্য এবং স্থানীয় সরকারগুলো কীভাবে একসাথে কাজ করতে পারে তা বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।
তিনি জলবায়ু নীতি সম্পর্কে পরামর্শ প্রদানকারী সংস্থার কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমরা একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং অর্জনযোগ্য ২০৩৫ লক্ষ নির্ধারণ করব, যা স্বাধীন জলবায়ু পরিবর্তন কর্তৃপক্ষের পরামর্শ অনুসারে জানানো হবে।”
অস্ট্রেলিয়া ২০৩০ সালের মধ্যে ৪৩ শতাংশ নির্গমন কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু জীবাশ্ম জ্বালানির উপর তার অবিরাম নির্ভরতার জন্য সমালোচিত হচ্ছে।
জলবায়ু কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী আমান্ডা ম্যাকেঞ্জি বলেন, প্রতিবেদনের ফলাফলগুলো ভয়াবহ এবং সরকারকে উচ্চ নির্গমন হ্রাসের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।









