২০২২ এর অগাস্টে যুক্তরাষ্ট্রের এক সভায় সালমান রুশদির উপর ছুরি নিয়ে আক্রমণ করেন এক ব্যক্তি। সেই আক্রমণের আঘাতে সাহিত্যিক এক চোখে আংশিক দৃষ্টিশক্তি হারান।
মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার নিউ ইয়র্কের এক কোর্টে সেই ব্যক্তি হাদি এম-এর শুনানি শুরু হয়। ওই দিনের ছবি, ভিডিও ফুটেজ-সহ অন্যান্য প্রমাণ আদালতে জুরিদের সামনে তুলে ধরা হবে।
বিচারের প্রস্তুতি
আক্রমণকারী ২৪-বছরের হাদি এমকে সেকেন্ড ডিগ্রি মার্ডার এবং সেকেন্ড ডিগ্রি আক্রমণের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। হাদি নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেন।
গত এক সপ্তাহে জুরি বাছাইয়ের কাজ চলেছে। আততায়ী সে সময় কোর্টে উপস্থিত ছিলেন এবং তার উকিলের সঙ্গে পরামর্শ করেছেন বলে জানা গেছে। সাক্ষ্যপ্রমাণ পেশ করা হলে শুনানি এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিন চলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
আক্রমণের ঘটনাপ্রবাহ
আক্রমণের দুবছর পরে এই প্রথম তার আততায়ীর মুখোমুখি হতে পারেন রুশদি। ঘটনার দিন রুশদি যখন মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন তখন হঠাৎই আক্রমণকারী এগিয়ে আসেন এবং বেপরোয়া ছুরি চালান সাহিত্যিকের ঘাড়ে, পেটে। পুলিশকেও তাকে থামাতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়।
এরপর রক্তাক্ত রুশদিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বেশ কয়েক ঘণ্টার অস্ত্রোপচার চলে। এই আক্রমণে এক চোখে আংশিক দৃষ্টিশক্তি খোয়ান বুকার পুরস্কার-প্রাপ্ত সাহিত্যিক। অভ্যন্তরীণ আঘাতের পাশাপাশি এক হাতেও তিনি আঘাতপ্রাপ্ত হন।
ফিরে আসেন রুশদি
২০২২ এর ১২ অগস্টে নিউ ইয়র্কের প্রখ্যাত শটকুয়া ইন্সটিটিউশনে একটি সভায় বক্তব্য রাখতে যান সালমান রুশদি। বিষয় ছিল লেখকদের নিরাপত্তা। বক্তৃতা শুরুর ঠিক আগেই আক্রান্ত হন তিনি।
চিকিৎসার কারণে বহুদিন লোকচক্ষুর আড়ালে থাকলেও পরবর্তীকালে নিউ ইয়র্কের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ফিরতে দেখা যায় তাকে। এই আক্রমণের অভিজ্ঞতাকে জড়ো করে রুশদি লেখেন ‘নাইফ: মেডিটেশন আফটার অ্যান অ্যাটেম্পটেড মার্ডার’। ২০২৪-এর এপ্রিলে প্রকাশিত হয় সেই বই।
বিতর্কিত স্যাটানিক ভার্সেস এবং ফতোয়া
দীর্ঘকাল ধরেই রুশদিকে ফতোয়া বাঁচিয়ে চলতে হয়। ১৯৮৯-তে ইরানের আয়তোল্লা রূহোল্লা খোমেনি তার নামে ফতোয়া জারি করেন। লেখকের উপন্যাস স্যাটানিক ভার্সেসকে ‘ব্লাসফেমাস’ বলে অভিহিত করেন ইরানের নেতৃত্ব। একাধিক প্রাণনাশের হুমকির পর আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হন সাহিত্যিক।
এমনকি তার নিজের দেশেও স্যাটানিক ভার্সেসকে ১৯৮৮-তে নিষিদ্ধ করে রাজীব গান্ধী সরকার। গতবছর নভেম্বরে দিল্লির একটি আদালত বইটির উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়।
কারণ হিসেবে বলা হয়, সরকার আদালতের কাছে ১৯৮৮ এর নিষেধাজ্ঞাটি পেশ করতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রায় তিন দশকেরও বেশি সময় পর বইটির ভারতে আবার বিক্রি শুরু হয়।









