ভারতের সংবিধানে স্বায়ত্বশাসন সম্পর্কিত ৩৭০ ধারা বাতিলের পর প্রথমবারের মতো বিধানসভা নির্বাচন হতে যাচ্ছে জম্মু ও কাশ্মীরে। বুধবার ১৮ সেপ্টেম্বর প্রথম ধাপে অঞ্চলটির ৯০টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ২৪টিতে ভোটগ্রহণ হবে।
বিবিসি জানিয়েছে, ৯০ আসনের বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ১৩টি প্রধান দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। ন্যাশনাল কনফারেন্স, পিডিপি, বিজেপি, কংগ্রেসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্র মিলিয়ে প্রার্থীর সংখ্যা ৯০৯ জন। প্রথম পর্বের নির্বাচনে দক্ষিণ কাশ্মীরের চার জেলা, পুলওয়ামা, কুলগাম, অনন্তনাগ ও শোপিয়ানের ১৬টি এবং জম্মুর চন্দ্রভাগা উপত্যকার জেলা ডোডা, কিস্তওয়ার ও রামবনের আটটি বিধানসভা আসনে ভোটগ্রহণ হবে।
২৫ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় দফায় ২৬ আসনে এবং ১ সেপ্টেম্বর তৃতীয় দফায় ৪০ আসনে ভোটগ্রহণ হবে জম্মু ও কাশ্মীরে। ভোটগণনা হবে ৮ অক্টোবর।
নির্বাচনে প্রধান দুই দল হল মেহবুবা মুফতির নেতৃত্বাধীন পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি (পিডিপি) এবং ওমর আবদুল্লাহর নেতৃত্বে ন্যাশনাল কনফারেন্স (এনসি)। মুফতি এবং আবদুল্লাহ দু’জনই এই অঞ্চলের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী। এনসি ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের সঙ্গে জোট গঠন করেছে।
সবশেষ ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিজেপি জম্মুতে জয়লাভ করে পিডিপির সাথে জোট করে সরকার গঠন করেছিল। বছরের পর বছর মতবিরোধের পর ২০১৮ সালে জোট ভেঙে যায়।
১৯৪৭ সাল থেকে কাশ্মীরে ১২টি নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু ভোটারদের উপস্থিতি প্রায়ই কম দেখা গেছে এবং সহিংস ঘটনা ঘটেছে। জঙ্গিরা ভোটকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে ভোটারদের বাইরে এসে ভোট দিতে বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে। ১৯৯০ এর দশক থেকে শত শত রাজনৈতিক কর্মীকে জঙ্গি গোষ্ঠীর হাতে অপহরণ বা হত্যার শিকার হতে হয়েছে।
অঞ্চলটির বেশ কয়েক তরুণ-তরণী বলেছেন, তারা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, দুর্নীতি এবং সর্বোপরি, বেকারত্বের মতো বিষয়গুলো নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেছেন, আমরা আমাদের দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানের জন্য আমাদের ভোট দিতে চাই। কাশ্মীর বিরোধের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।









