বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ক্রিকেট কনফারেন্সের উদ্বোধনী দিনে ফুটবল নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন বিসিবি পরিচালক ও বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ আকবর। জেলা স্টেডিয়ামগুলোতে ফুটবলের জন্য ক্রিকেট খেলা হচ্ছে না বলে জানান তিনি। আসিফের এমন মন্তব্যকে ‘অবমাননাকর’ বলছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। এর ব্যাখ্যা চেয়ে বিসিবিতে চিঠি পাঠিয়েছেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল।
সোমবার বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বরাবর চিঠি পাঠান তাবিথ আউয়াল।
বাফুফের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট কনফারেন্সে ফুটবল খেলাকে নিয়ে অত্যন্ত অবমাননাকর, অপমানজনক ও উদ্বেগজনক মন্তব্য করা হয়, যা শুধু ফুটবল নয়, পুরো ক্রীড়া সমাজের জন্যই হতাশাজনক। আমরা এই মন্তব্যের প্রতি তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং এই পত্রকে আমাদের আনুষ্ঠানিক আপত্তি হিসেবে বিবেচনা করার অনুরোধ জানাচ্ছি। ক্রিকেট কনফারেন্স থেকে এমন মনোভাব প্রকাশ পাওয়া সত্যিই দুঃখজনক এবং উদ্বেগজনক।’
‘আমরা সবাই খেলাধুলাকে একটি ঐক্যের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এমন একটি প্ল্যাটফর্ম যা আমাদের জাতিকে একত্রিত করে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মাঝে গর্ব ও অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করে। আমরা উভয়েই প্রতিশ্রুতি দিয়েছি যে দেশের সব ক্রীড়া ফেডারেশন একসঙ্গে কাজ করবে একটি সুস্থ, দৃঢ় ও ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে। কিন্তু যখন ক্রিকেট বোর্ডের কনফারেন্সে ‘অভিজাত’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, আমরা কি সত্যিই জুলাইয়ের ছাত্র-জনতা বিপ্লবে ঘোষিত বৈষম্যহীন ও সমতাভিত্তিক বাংলাদেশের আদর্শে অটল আছি? আর যখন ‘মারামারি’ শব্দটি উচ্চারিত হয়, তখন আরো গুরুতর প্রশ্ন জাগে, এটি কি কোনো ধরনের হুমকি?’
‘এমন দৃষ্টিকটু ও অশোভন বক্তব্য ফুটবল ও ফুটবল খেলোয়াড়দের প্রতি চরম অসম্মানজনক, যা ক্রীড়ার মৌলিক মূল্যবোধ ও চেতনার পরিপন্থী। গণমানুষের প্রাণের খেলা ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, কোটি মানুষের আবেগ, ঐক্য ও গৌরবের প্রতীক।’
বিসিবির কাছে আসিফের মন্তব্যের ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘এই ফুটবল ও ফুটবল খেলোয়াড়রাই মুক্তিযুদ্ধ, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, দুর্যোগ মোকাবেলাসহ দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিপ্লবে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। আপনি নিশ্চয়ই অবগত যে বাংলাদেশে ফুটবলের অভিভাবক হিসেবে আমি ও আমার নির্বাচিত নির্বাহী কমিটি, হাজার হাজার খেলোয়াড় এবং কোটি কোটি ভক্তের প্রতিনিধিত্ব করি। তাই এই ঘটনায় আমি আপনার কাছে একটি আনুষ্ঠানিক ও জনসম্মুখে ব্যাখ্যা প্রত্যাশা করছি।’
‘আপনার প্রতি আমার ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা ও সম্মান অটুট। আমি বিশ্বাস করি, আপনি একজন জাতীয় ক্রীড়াবিদ ও সম্মানিত ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব হিসেবে আপনার প্ল্যাটফর্মকে কোনো ভুল উদ্দেশ্যে ব্যবহার হতে দেবেন না; বরং আপনি এখনই এই বিষয়টি স্পষ্ট করে দেশের কোটি ক্রীড়ামোদি মনে সৃষ্ট আঘাত ও বিভ্রান্তি দূর করবেন।’

এর আগে রোববার ক্রিকেট কনফারেন্সে আসিফ বলেছেন, আমরা যেটা বড় সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি, ফুটবলারদের জন্য (ক্রিকেট) খেলা যাচ্ছে না, সারা দেশে। এরা উইকেট ভেঙে ফেলে, উইকেট নষ্ট করে ফেলে। যে কারণে, কুমিল্লার ক্রিকেট লিগ ১২ তারিখ থেকে শুরু হবে, প্রাগৈতিহাসিক যুগের ক্রিকেট হবে, ম্যাটে। যেগুলো খেলিনি আমরা কখনও।’
‘আগামী ২৪ তারিখ আবাহনী-মোহামেডান ফুটবল খেলা আছে, কুমিল্লা স্টেডিয়ামে। এই সমস্যা শুধু কুমিল্লার নয়, প্রতিটি জেলার স্টেডিয়াম অকুপাই করে রেখেছে ফুটবল। যেখানে ফুটবলের কাজ নেই, সেখানেও স্টেডিয়াম অকুপাই করে রেখেছে। ফুটবলারদের ব্যবহার খুব খারাপ, এটা আমি সরাসরি বলতে চাই। কারণ, ক্রিকেট একটা ডিসিপ্লিনড খেলা, আভিজাত্যের খেলা এটি, এখানে অনেক নিয়মকানুন আছে, রেকর্ডের খেলা।’
‘আমাদের বোর্ড সভাপতিকে অনুরোধ করব, সিনিয়র বোর্ড সদস্য যারা আছেন, তাদেরকে অনুরোধ করব, আপনারা অনতিবিলম্বে বাফুফের সঙ্গে বসেন। আমরা তো মারামারি করতে যাব না, তবে প্রয়োজন হলে করব। কারণ হচ্ছে, আমাদেরকে খেলতে হবে। আমাদের বাচ্চাদের খেলতে হবে। আমাদের শপথ আছে, আমাদের ছেলেমেয়েরা খেলবে।’
প্রয়োজনে ফুটবলের সঙ্গে লড়াই করতেও প্রস্তুত জানিয়ে আসিফ বলেছেন, ‘ক্রিকেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানুষজন একটু ভদ্র স্বাভাবিকভাবেই, আভিজাত্যের ইস্যু আছে এখানে। আমার আবার একটু সমস্যা আছে। আমি আবার অত ভদ্র না। যেহেতু আমি অবসরপ্রাপ্ত ক্রিকেটার, অনেক আগের.. সুযোগ পাইনি নিজেকে ফোকাস করার… যদি ফুটবল মারপিট করে, আমিও মারপিট করব, নো প্রোবলেম…যে যেমন, তার সঙ্গে তেমন করতে হবে। আমরা তো চাঁদা চাচ্ছি না, কিডনি চাচ্ছি না, হার্ট-চোখ চাচ্ছি না, আমরা চাচ্ছি খেলার অধিকার।









