ইনিংসটা ৫০ ওভারের হলেও মূলত লড়াইটা ছিল ৩৭.১ ওভারের। আফগানদের সুপার ফোরে যেতে হলে শ্রীলঙ্কার দেয়া লক্ষ্য তাড়া করতে হত ৩৭.১ ওভারে। তাহলে রানরেটে লঙ্কানদের পেছনে ফেলে সুপার ফোরে পা রাখতে পারত আফগানিস্তান। সম্ভবনা জাগিয়ে শেষ অবধি দুই রানে হেরেছে আফগানবাহিনী। জয়ে সুপার ফোর নিশ্চিত করেছে শ্রীলঙ্কা।
লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে এশিয়া কাপে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাটের সিদ্ধান্ত নেন লঙ্কান অধিনায়ক দাসুন শানাকা। ওপেনারদের ভালো শুরুর পর কুশল মেন্ডিসের ৯২ রানে নির্ধারিত ওভারে ৮ উইকেটে ২৯১ রান সংগ্রহ করে লঙ্কানবাহিনী। জবাবে নেমে ৩৭.৪ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২৮৯ রানে থামে আফগানিস্তান।
৩৭.১ ওভারে ২৯২ রান তাড়ার লক্ষ্যে শুরুটা ভালো হয়নি আফগানদের। ২৭ রানেই হারায় দুই ওপেনার ব্যাটার গুরবাজ ও ইব্রাহিম জাদরানকে। দলীয় ৫০ রানে ফেরেন তৃতীয় ব্যাটার গুলবাদিন নাইব। চতুর্থ উইকেট জুটিতে দলের বিপর্যয় কাটিয়ে তোলেন রহমত শাহ ও অধিনায়ক হাসমতুল্লাহ শাহিদী।
৭১ রানের জুটি গড়ে ১৮.৪ ওভারে দলীয় ১২১ রানে ফেরেন রহমত শাহ। ৪০ বলে ৪৫ রানের ইনিংস খেলে ফেরেন কাসুন রাজিথার শিকার হয়ে। এরপর ব্যাটে নেমে আফগানদের সুপার ফোরে খেলার আশা জাগিয়ে তোলেন মোহাম্মদ নবী। দ্রুত গতিতে রান তুলতে থাকেন।
হাসমতুল্লাহ শাহিদীকে নিয়ে ৮০ রানে জুটি গড়ে ২৬.৩ ওভারে দলীয় ২০১ রানে ফেরেন নবী। ৩২ বলে ছয়টি চার ও পাঁচটি ছক্কা হাঁকিয়ে ৬৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন আফগান অলরাউন্ডার।
৩১.১ ওভারে দলীয় ২৩৪ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারায় আফগানরা। করিম জানাত ফেরেন ১৩ বলে ২২ রান করে। চার বল পরেই ফেরেন শাহিদী।
এরপর দ্রুত গতিতে রান তুলতে থাকেন নাজিবুল্লাহ জাদরান ও রশিদ খান। ৩৪.৪ ওভারে দলীয় ২৭৬ রানে ফিরে যান নাজিবুল্লাহ। ১৫ বলে ২৩ করেন তিনি। নাজিবুল্লাহ ফেরার পরেই রানের গতি থেমে যায় আফগানদের।
যদিও রশিদ খানের ব্যাটে আশা পুনরায় জেগে ওঠে আফগানদের। ৩৭তম ওভার শেষে ২৮৯ রান করে তারা। সুপার ফোরের পথে আফগানদের দরকার ছিল এক বলে ৩ রান। স্ট্রাইকে যান মুজিব উর রহমান। ধনাঞ্জয়া ডে সিলভার বলে লং অনে উড়িয়ে মারেন মুজিব। তবে বাউন্ডারি লাইনের কিছুটা সামনে সামারা বিক্রমের হাতে ধরা পড়েন তিনি।
দুই বল পরেই লেগ বিফোরের ফাঁদে পা দেন ফজলহক ফারুকী। আফগানরা হেরে যায় দুই উইকেটে। ১৬ বলে ২৭ রান করে অপরাজিত ছিলেন রশিদ খান।
লঙ্কানদের হয়ে সর্বোচ্চ চারটি উইকেট নিয়েছেন মাথিশা পাথিরানা। দুনিথ ওয়েল্লাগে ও ধনাঞ্জয়া ডে সিলভা নিয়েছেন দুটি করে উইকেট। এছাড়া মাহেশ থিকসানা ও দাসুন শানাকা নেন একটি করে।
এর আগে ব্যাটে নেমে আফগানদের বিপক্ষে শুরুটা ভালোই হয়েছিল শ্রীলঙ্কার। দুই ওপেনার দিমুথ করুণারত্নে ও পাথুম নিশাঙ্কা প্রথম উইকেট জুটিতে তোলেন ৬৩ রান। ১০.২ ওভারে গুলবাদিন নাইবের বলে মোহাম্মদ নবীর ক্যাচ হয়ে ফেরেন করুণারত্নে। ৩৫ বলে ৩২ রান করে যান এ ওপেনার।
তিনে ব্যাটে নামেন কুশল মেন্ডিস। জুটি গড়ার চেষ্টা করেন আরেক ওপেনার নিশাঙ্কার সঙ্গে। ১৪.৪ ওভারে নাইবের দ্বিতীয় শিকার হন নিশাঙ্কা। নাজিবুল্লাহ জাদরানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৪০ বলে ৪১ রান করে।
এক ওভার পর দলীয় ৮৬ রানে ফেরেন সাদিরা সামারাবিক্রমা। নাইবের তৃতীয় শিকার হন গুরবাজের হাতে ধরা দিয়ে। ৮ বলে ৩ রান করেন।
চারিথ আশালাঙ্কাকে নিয়ে চতুর্থ উইকেট জুটিতে ১০২ রান তোলেন মেন্ডিস। ৩৩.২ ওভারে দলীয় ১৮৮ রানে রশিদ খানের শিকার হন আশালাঙ্কা। ৪৩ বলে ৩৬ রান করে ফেরেন তিনি। ৩৮.১ ওভারে লঙ্কানরা পঞ্চম উইকেট হারায়। দলীয় ২২১ রানে ফেরেন ধনঞ্জয়া ডে সিলভা। ১৯ বলে ১৪ রান করেন সিলভা।
এক ওভার পর রানআউট হন কুশল মেন্ডিস। সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়ে ফেরেন হতাশ হয়ে। ৮৪ বলে ৯২ করেন লঙ্কান উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। দুই বল পর রশিদের দ্বিতীয় শিকার হন দাসুন শানাকা। ফেরেন ৮ বলে ৫ রান করে।
এরপর দুনিথ ওয়াল্লাগে ও মাহেশ থিকসানা ইনিংস শেষ করেন। যদিও ইনিংসের শেষ বলে বোল্ড হন থিকসানা। ২৪ বলে ২৮ রান করে ফেরেন গুলবাদিনের চতুর্থ শিকার হয়ে। ৩৯ বলে ৩৩ রানে অপরাজিত থাকেন দুনিথ ওয়াল্লাগে।
আফগানদের হয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নিয়েছেন গুলবাদিন নাইব। রশিদ খান নিয়েছেন দুটি। এছাড়া মুজিব উর রহমান নেন একটি।








