‘প্রিয়তমা’ ও ‘রাজকুমার’ এই দুটি আলোচিত ছবির প্রযোজক ভার্সেটাইল মিডিয়ার কর্ণধার আরশাদ আদনান। শেষ এক বছরে সিনেমা অঙ্গনে অন্যতম আলোচিত নাম। এটি তিনি নিজেও অনুধাবন করেছেন। গত একবছরে এই দুই ছবি নিয়ে সবচেয়ে আলোচিত হয়েছেন তিনি। ফলে শাকিব খানের সঙ্গে বারবার আরশাদ আদনান নামটি এসেছে।
এ কারণে নামী এই প্রযোজক চলচ্চিত্রের উন্নয়নে সময় উপযোগী এক উদ্যোগ নিয়েছেন। এ বিষয়ে চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে সাধারণ প্রযোজক বাঁচবে, হলে টিকেট বিক্রির সঠিক হিসেব আসবে।
আরশাদ আদনান নিজ উদ্যোগে ৩০টি সিনেমা হলে (সিঙ্গেল স্ক্রিন) ই-টিকেটিং চালু করছেন। এ কারণে অন্যসব প্রযোজকদের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যতদিন পর্যন্ত সিঙ্গেল স্ক্রিনে ই-টিকেটিং চালু না হবে, ততদিন যেন প্রযোজকরা ছবি না দেয়। যত ভালো ছবি বানান না কেন, ই-টিকেটিং ছাড়া কোনো প্রযোজক সিঙ্গেল স্ক্রিন থেকে সঠিকভাবে লাভের মুখ দেখবে না। এক লাখ, দুইলাখ টাকায় ছবি দেয়ার পর কত টাকা বিক্রি হচ্ছে সেটার সঠিক হিসেব নাই, এটা কোনো ব্যবসায় সিস্টেম হলো? পৃথিবী কোনো দেশে এভাবে ব্যবসা হয় না। কিন্তু আমাদের দেশে এই বুর্জোয়া প্রথা এখনো চলে আসছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের প্রযোজকরা বাঁচবে না, আর প্রযোজক না বাঁচলে সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি শেষ হবে।
আরশাদ আদনান বলেন, এফডিসি চাইলেই পারে সিঙ্গেল স্ক্রিনে সেন্ট্রাল সার্ভারের মাধ্যমে ছবি ডিস্ট্রিবিউট করতে। সরকারও চায়, তাই এফডিসির জন্য এটি খুবই পসিবল। এফডিসি থেকে ই-টিকেটিংও সম্ভব। অথচ অপারেটর নেই, এফডিসি থেকে দামি দামি ক্যামেরা কেনা হচ্ছে। এতে টাকা নষ্ট হচ্ছে। এ জন্য ব্যক্তি মালিকানায় আমি উদ্যোগ নিচ্ছি। প্রথমে ৩০ সিঙ্গেল স্ক্রিন নিয়ে আমি একটি পাইলট প্রজেক্ট করতে যাচ্ছি। যেখানে হলগুলো রেনোভেশনের পাশাপাশি ই-টিকেটিং সিস্টেম চালু করবো। এর আগে আমার প্রযোজিত কোনো ছবি আর রিলিজ দেব না। রোজার ঈদে ভার্সেটাইল মিডিয়া থেকে ছবি মুক্তি দেব, তার আগে ই-টিকেটিং নিশ্চিত করে আমি ছবি মুক্তি দেব। এই সিস্টেম চালু করা আমাদের ইন্ডাস্ট্রির ক্ষেত্রে জটিল, আবার জটিলও না। এখানে ইচ্ছেশক্তিই মুখ্য। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রথমে ৩০টি হলে চালু করা হচ্ছে।
হিমেল আশরাফ পরিচালিত সুপারস্টার শাকিব খানের ‘প্রিয়তমা’ ছবির গ্রস কালেকশন ৪১ কোটি টাকা। আরশাদ আদনান বলেন, ই-টিকেটিং থাকলে আরও বেশি হিসেব পেতাম। কম করে হলেও আরও ৪/৫ কোটি টাকার ফাঁকি আছে। ই-টিকেটিং না থাকলে প্রযোজকের ঘরে টাকা আসবে না। মাল্টিপ্লেক্স তুলনামূলক কম রেশিও (অনুপাত) দিচ্ছে। তারা কোনো নীতিমালার আওতায় নেই। তারা অ্যাডমিশন ফি হিসেবে শুরুতে চুক্তি করে। এরপর ৪০০, ৭০০, ১২০০ টাকাতেও টিকেট বিক্রি করে। কিন্তু সব কেটে অ্যাডমিশন ফি থেকে প্রথম সপ্তাহে ৫০ শতাংশ, ৪৫ শতাংশ দ্বিতীয় সপ্তাহে, পরের সপ্তাহে ৪০ শতাংশ টাকা দেয়। দুনিয়ার কোনো দেশে এই সিস্টেম চলে না। ইন্ডিয়াকে সবক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে রাখলেই এই সিস্টেম সেখানেও নেই। তারা মনোপলি করছে, প্রতিযোগী কেউ নেই। এর বাইরে সিঙ্গেল স্ক্রিন থেকে টাকা পাওয়া সম্ভব না।
আরশাদ আদনান জানান, তার ভার্সেটাইল মিডিয়া থেকে মাল্টিকাস্টে লেডি অ্যাকশন ছবি হচ্ছে। আরেকটি সাইফ চন্দন পরিচালিত শরিফুল রাজ ও ইধিকা পালকে নিয়ে ‘সাহেব’ নামে ছবির শুটিং হবে জুলাইতে। এছাড়া শাকিব খানকে নিয়ে নতুন একটি ছবির গল্পের কাজ চলছে।








