কক্সবাজারের উখিয়ায় অভিযান চালিয়ে আরসা’র শীর্ষ কমান্ডার রহিমুল্লাহ ওরফে মুছাসহ চারজনকে আটক করেছে র্যাব। এসময় তাদের কাছ থেকে ৪৩ কেজি ৩১০ গ্রাম বিস্ফোরক দ্রব্য, ম্যাগজিনসহ ১টি বিদেশি পিস্তল, ২টি দেশীয় তৈরি বন্দুক ও ৭টি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের তেলখোলা-বরইতলীর গহীন পাহাড়ি এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়েছে। আজ বুধবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে র্যাব-১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সদর দপ্তরের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার আল মঈন এসব তথ্য জানান।
তিনি জানান, মঙ্গলবার মধ্যরাতে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের তেলখোলা-বরইতলী গহীন পাহাড়ি এলাকায় র্যাব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মো. শফিক ও মো. সিরাজ নামের দুই বাংলাদেশী নাগরিককে আটক আটক করে। পরে আটকদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৬ কেজি ৫৩০ গ্রাম বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করা হয়। এরপর একই তথ্যের ভিত্তিতে পৃথক অভিযান চালিয়ে আটক করা হয় আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মীর শীর্ষ কমান্ডার ও উখিয়ার ঘোনারপাড়া ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কমান্ডার রহিমুল্লাহ ওরফে মুছা এবং ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অন্যতম কমান্ডার শামছুল আলম ওরফে মাস্টার শামসু। এসময় আটকদের আস্তানা থেকে উদ্ধার করা হয় ৩৬ কেজি ৭৮০ গ্রাম বিস্ফোরক দ্রব্য, দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি। উদ্ধার করা বিস্ফোরক দ্রব্যের মধ্যে রয়েছে ক্লোরেটস, ব্রোমোটস, পটাশিয়াম ও হেক্সামিথাইলিন টেট্রামাইন জাতীয় রাসায়নিক দ্রব্য। এসব রাসায়নিক দ্রব্য গান পাউডার বা উচ্চ বিস্ফোরক হিসেবে ব্যবহারের নজির রয়েছে।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার আল মঈন জানান , আটকদের মধ্যে রহিমুল্লাহ ওরফে মুছা ও শামছুল আলম ওরফে শামসু আরসা’র শীর্ষ নেতা এবং অপর দুইজন বাংলাদেশি নাগরিক ও আরসা’র সন্ত্রাসী দলের সহযোগী। গ্রেপ্তারকৃত আরসা সন্ত্রাসীরা বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকায় খুন, অপহরণ, ডাকাতি, মাদক, চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন অপরাধ সংঘটন করতো। তারা পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারের দুর্গম সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে অস্ত্র ও বিস্ফোরক চোরাচালান করতো। এছাড়া গ্রেপ্তার বাংলাদেশি নাগরিক শফিক ও সিরাজ উদ্ধার করা কৌশলে সীমান্ত এলাকা দিয়ে এনে নিজেদের হেফাজতে রাখতো এবং পরে সুবিধাজনক সময়ে আরসা সন্ত্রাসীদের কাছে সরবরাহ করে আসছিল।
অভিযানে উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকদ্রব্যের মাধ্যমে বোমা প্রস্তুত করে আধিপত্য বিস্তারের জন্য রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও সংঘাতে ব্যবহার করার উদ্দেশে মজুদ করা হয়েছিল গ্রেপ্তাররা স্বীকারোক্তিতে জানিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে খন্দকার আল মঈন জানান, গ্রেপ্তার রহিমুল্লাহ ওরফে মুছা বোমা তৈরি ও অস্ত্র চালনায় পারদর্শী হওয়ায় আরসা’র গান কমান্ডার ও ঘোনারপাড়া ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জিন্মাদারের দায়িত্ব পায়। সে আরসা’র সদস্যদের বোমা তৈরি ও অস্ত্র চালনায় প্রশিক্ষণও দিত। রহিমুল্লাহর সঙ্গে আরসা’র প্রধান আবু আম্মা জুননীসহ শীর্ষ নেতাদের ঘনিষ্ট যোগাযোগ রয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আলোচিত প্রায় সবক’টি হত্যাকান্ডসহ গত বছর নভেম্বরে সীমান্তে মাদকবিরোধ যৌথ অভিযানের সময় সন্ত্রাসী হামলায় গোয়েন্দা সংস্থার একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিহতের ঘটনায় তার সরাসরি অংশগ্রহণ রয়েছে।
এছাড়া গ্রেপ্তার অন্যরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নানা সংঘাত ও সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগে উখিয়া ও টেকনাফ থানায় তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।







