দীর্ঘ ৪৪ বছর পর ঠাকুরগাঁওয়ে পরিত্যক্ত থাকা বিমানবন্দরটি হঠাৎ করেই নতুনভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান-এর আকস্মিক পরিদর্শনের পর এই বিমানবন্দরটির ভবিষ্যৎ নিয়ে স্থানীয় মানুষ থেকে শুরু করে সব জায়গায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ১৯৪০ সালের এই বিমানবন্দর ১৯৮০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিত্যক্ত ঘোষিত হয়। এই স্থাপনাটির সম্ভাব্য পুনরুজ্জীবন নিয়ে নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন উত্তর জনপদের মানুষ।
গত বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান একটি ডলফিন হেলিকপ্টারযোগে সরাসরি বিমানবন্দরের রানওয়েতে অবতরণ করেন।এরপর তিনি বিমানবন্দরটির সামগ্রিক পরিস্থিতি, অবকাঠামো ও ভৌগোলিক কৌশলগত অবস্থান সরেজমিনে ঘুরে দেখেন।
একটি সূত্র দাবি করেছে, সেনাপ্রধান নাকি বিমানবন্দরটি পুনরায় চালুর বিষয়ে গুরুত্বআরোপ করেছেন। বিমানবন্দর পরিদর্শনের পর সেনাপ্রধান পার্শ্ববর্তী সেনা ক্যাম্পের হলরুমে প্রায় এক ঘণ্টা বৈঠক করেন। তবে সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এ পরিদর্শনের মূল কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
দায়িত্বপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তারা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তাদের মিডিয়া কভারেজের অনুমতি নেই এবং সেনাপ্রধান কোনো মন্তব্য করবেন না। জেলা প্রশাসনের এনডিসি নাজমুল আশরাফও এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানাতে পারেননি। দায়িত্বশীল মহলের এই নীরবতা কৌশলগত জল্পনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি ও আদালতের নির্দেশে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরটি পুনরায় চালুর বিষয়ে স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি রয়েছে।
ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষ মনে করেন, এটি চালু হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে এবং রাজধানী ঢাকার সঙ্গে ১৪-১৫ ঘণ্টার সড়ক পথের দূরত্ব কমে আসবে। ব্যবসায়ী কাজে জরুরিভাবে ঢাকা যাতায়াতের ক্ষেত্রে এটি বিপুল হয়রানি লাঘব করবে বলে তাদের প্রত্যাশা।
নাগরিক সমাজের নেতা মাসুদ আহমেদ সুবর্ণ জানান, বিমানবন্দরটি চালুর জন্য তারা দীর্ঘদিন ধরে সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে আসছেন।
ঔষধ ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম জানান, এই অঞ্চলের মানুষের প্রতি সরকারের দায়িত্বের অংশ হিসেবে বিমানবন্দর চালুর দাবিতে আগামী ২৮ অক্টোবর নাগরিক কর্মসূচি পালন করা হবে।
গুরুত্বপূর্ণভাবে এই বিমানবন্দরটি চালুর বিষয়ে উচ্চ আদালত থেকে নির্দেশ জারি করা হয়েছে। একজন আইনজীবীর আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২০ জুলাই বিচারপতি ফাহমিদা কাদেরের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠনে কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে নির্দেশ জারি করেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বিমান ও পর্যটন সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে নির্দেশের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এর আগে, আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. কামরুজ্জামান সরকারে উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠনের দাবিতে লিগ্যাল নোটিশও পাঠিয়েছিলেন।
উক্ত লিগ্যাল নোটিশে বিমানবন্দরটি চালু না থাকার ফলে এই এলাকার ৪৫ লাখ মানুষ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং নেপাল-ভুটান-বাংলাদেশ ক্রসবর্ডার বাণিজ্য-পর্যটনের সম্ভাব্যতা ও এই এলাকার ভৌগলিক কৌশলগত দিক বিবেচনায় বিমানবন্দরের সম্ভাব্য ব্যবহার বিষয়ে প্রতিবেদন প্রস্তুত ও প্রকাশের দাবি জানানো হয়।
সেনাপ্রধানের এই আকস্মিক ও গোপনীয় সফর দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত বিমানবন্দরটি পুনরায় চালুর বিষয়ে সামরিক-বেসামরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি কার্যকর উদ্যোগের জন্ম দিতে পারে বলে পর্যবেক্ষক মহলের ধারণা।









