দ্রুত নির্বাচন চায় বিএনপি। তবে সরকারকে এজন্য কোনো সময় বেঁধে দিতে চায় না। তারেক জিয়ার একটি মামলা ইতোমধ্যে বাদী প্রত্যাহার করেছেন৷ এখন বাকিগুলোর আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্নের অপেক্ষা৷
শনিবার (৩১ আগস্ট) ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়। এতে বলা হয়, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া কবে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে পারবেন সেই বিষয়টিও আপাতত অনিশ্চিত৷
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যেটুকু সংস্কার দরকার, তার জন্য সর্বোচ্চ ছয় মাস লাগতে পারে বলে আমি মনে করি। সংস্কারের টার্গেট হতে হবে নির্বাচন।
তবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা এবং চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি দলটি। এই দুইটি বিষয়কে তারা এখনো ‘প্রক্রিয়াধীন’ বলছে।
রাজনীতির মাঠে খালেদা জিয়া এবং তারেক জিয়া না থাকায় নতুন পরিস্থিতির মুখোমুখি বিএনপি। বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের এখন আর কোনো রাজনৈতিক জোট নেই। এটা বিএনপি নেতারাই বলেছেন। এরই মধ্যে জামায়াতের সঙ্গে বিনএনপির দূরত্ব বাড়তে শুরু করেছে। অন্যদিকে গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দানকারী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সম্ভাব্য নতুন রাজনৈতিক দল গড়ার বিষয়টিও বিএনপিকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
বিএনপি দ্রুত নির্বাচন চাইলেও জামায়াত ধীরে চলো নীতিতে আছে। আর তা দেখেই ২৮ আগস্ট বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জামায়াতকে লক্ষ্য করে বলেন, যাদের জনসমর্থন নেই, জনগণ মনে করে না যে এরা সরকার চালাতে পারবে, তারা এ ধরনের বিভিন্ন চিন্তা-ভাবনা করে। সবচেয়ে বড় জিনিস হচ্ছে, আমাদের লড়াইটা গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য। সেটার জন্যই তো নির্বাচন। এটা তো আমাদের অধিকার। আমরা তো নির্বাচনের জন্যই এতদিন লড়াই করেছি, সংগ্রাম করে এসেছি।
ওই সময় জামায়াতের বেশি মিডিয়া কাভারেজেরও সমালোচনা করেন মির্জা ফখরুল। আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এক এগারোর মতো বিরাজনীতিকরণ প্রক্রিয়ার সম্ভাবনা নিয়ে।
বিএনপির নেতারা এর আগে সাড়ে তিন মাসের মধ্যে নির্বাচনের কথা বলেছিলেন। কিন্তু এখন সেখান থেকে কিছুটা সরে এসেছেন। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ তিন নেতা প্রধান উপদেষ্টা ও অন্য উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তারা প্রধান উপদেষ্টাকে নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্রুত সংলাপ শুরুর তাগিদ দেন। তাদের সেই তাগিদের ফলেই শনিবার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসছে অন্তর্বর্তী সরকার।
বৃহস্পতিবারে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিএনপির যে তিনজন নেতা বৈঠক করেন, তাদের একজন হলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে আলোচনায় স্পষ্ট হয়েছে যে, প্রধান উপদেষ্টা সংস্কারের ব্যাপারে একটি পরিকল্পনা করেছেন। তার মধ্যে নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বিচার বিভাগ, দুদকসহ আরো কিছু সংস্থা আছে। এগুলো করে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কতটা সময় লাগতে পারে তার একটি রোডম্যাপ তিনি হয়ত প্রকাশ করবেন। আমরাও তাকে বলেছি, ‘আপনি যেহেতু নির্বাচনী রোডম্যাপ প্রকাশের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, তাহলে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে একটু আলাপ করেন।’ তার প্রেক্ষিতেই শনিবার থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু হয়েছে। আমরা তো কথা বলেছি। তারপর আবারো ডাকলে আমরা যাব।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনকে টার্গেট করে প্রয়োজনীয় সংস্কার করে গণতান্ত্রিক নির্বাচন শেষ করতে ছয় মাসের বেশি সময় লাগার কথা নয় বলে আমি মনে করি।
তারেক রহমানের দেশে ফেরা প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, তার নামে কিছু মামলা-মোকদ্দমা এবং আইনি বিষয় আছে। এগুলো আমরা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিরসন করতে চাই। তারপর আমার মনে হয় তিনি দেশে ফিরে আসার প্ল্যান করবেন।
বেগম খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে পাঠানোর বিষয়ে তিনি বলেন, তার মুভ করা বা লং ফ্লাই করার মতো বডি ফিটনেস আছে কিনা তা চিকিৎসকরাই বলতে পারবেন।
খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং বিনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, আমরা ইংল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি হাসাপাতালের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছি। কিন্তু লম্বা সময় ফ্লাই করার মতো শারীরিক ফিটনেস এখনো তার আসেনি। তিনি সুস্থ আছেন। কিন্তু ফ্লাই করার মতো ফিটনেস তার নেই। যুক্তরাষ্ট্রে নিতে হলে তাকে ১৮-২০ ঘণ্টা ফ্লাই করতে হবে। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে নিলে ফ্লাই করার সময় তো চাপ পড়বে। সেই চাপ তিনি নিতে পারবেন কিনা, আবার ওঠা নামার ধকলও আছে।
তিনি জানান, মেডিকেল বোর্ডই এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে। আমরা তাদের গ্রিন সিগন্যালের অপেক্ষায় আছি।
বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, তারেক রহমান এই মাটির সন্তান। তিনি এখানে বড় হয়েছেন, লেখাপড়া করেছেন। তিনি অবশ্যই তার নিজ দেশে ফিরে আসবেন। আমরা ফ্যাসিষ্ট হাসিনা সরকারের দেওয়া মিথ্যা মামলাগুলো আইনগতভাবেই মোকাবেলার প্রক্রিয়া শুরু করেছি।
তিনি বলেন, এর মধ্যে বেশ কিছু মিথ্যা মামলা এখন বাদীরাই প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন। ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল উচ্চ আদালত। কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞার জন্য যিনি আবেদন করেছিলেন, এরই মধ্যে উচ্চ আদালত তা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। আর তথাকথিত ২১-এ আগস্টের মামলাসহ চারটি মামলায় তাকে দণ্ড দেয়া হয়েছে নিম্ন আদালত থেকে। এর মধ্যে দুর্নীতির মিথ্য মামলাও আছে। সেগুলো আমরা আইনগত প্রক্রিয়ায় দেখছি।
তার কথা, আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলেই তিনি দেশে ফিরে আসবেন।
সূত্র: ডয়চে ভেলে









