উত্তরপ্রদেশের সম্ভলের একটি প্রাচীন মসজিদের সমীক্ষা শুরুর পর সংঘর্ষে উত্তাল হয়ে পড়েছে পুরো অঞ্চল। পুলিশ-জনতার সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
রোববার (২৪ নভেম্বর) হিন্দুস্তান টাইমস এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে।
স্থানীয় সূত্রে প্রতিবেদনে বলা হয়, আজ উত্তরপ্রদেশের সম্ভল এলাকায় নতুন করে শাহি জামে মসজিদের সমীক্ষার কাজ শুরু করা হয়। এদিন সকাল ৬টার দিকে এলাকায় পৌঁছে যান সমীক্ষক দলের সদস্যরা।
সেই দলে ছিলেন- জেলাশাসক রাজেন্দ্র পানসিয়া, পুলিশ সুপার কৃষ্ণ বিষ্ণোই, মহকুমাশাসক বন্দনা মিশ্রা, সার্কেল অফিসার অনুজ চৌধুরী এবং তহসিলদার রবি সোনকার।
সমীক্ষা চলাকালীন যাতে কোনও অশান্তি না ছড়ায়, তা নিশ্চিত করতে পুলিশের একটি দল এবং ব়্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের সদস্যদেরও আগে থেকেই এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও সমীক্ষকরা এলাকায় পৌঁছতেই পরিবেশ অশান্ত হয়ে ওঠে।
পুলিশের একটি সূত্রের তরফে দাবি করা হয়েছে, মুহূর্তে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। উন্মত্ত ও মারমুখী জনতার একাংশ পুলিশকে লক্ষ করে পাথর ছুড়তে শুরু করে। এমনকী, সেই সময় হামলাকারীদের কেউ কেউ গুলিও চালায় বলে অভিযোগ করে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, হামলাকারীদের রুখতে পালটা অভিযানে নামতে হয় তাদেরও। পুলিশের বিরুদ্ধে জনতাকে লাঠিপেটা করার অভিযোগ ওঠে। অন্যদিকে, পুলিশের দাবি, ক্ষুব্ধ জনতা একের পর এক গাড়িতে আগুন লাগাতে শুরু করে। যার ফলে একটা সময় পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়।
এরপর পাশের জেলা থেকে অতিরিক্ত পুলিশবাহিনী চেয়ে খবর পাঠানো হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান মোরাদাবাদের ডিআইজি মুনিরাজ জি। এভাবেই অশান্তির মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় কেটে যায়। তারপর শুরু হয় সমীক্ষার কাজ। কিন্তু তখনও সেখানে কিছু বিক্ষোভকারী জমায়েত করে পুলিশকে লক্ষ করে পাথর ছুড়তে থাকেন বলে অভিযোগ। তাতে বেশ কয়েকজন আহত হন।
আহত এক পুলিশকর্মী এবং জনতার মধ্যে আহত দু’জনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে পুলিশের আরও সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তারা ব্যাপক লাঠিচার্জ শুরু করে। তাতে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। ইতোমধ্যে সেই সংঘর্ষের ভিডিও সংবাদমাধ্যম ও সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে।
একইসঙ্গে, উত্তরপ্রদেশ পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ করে লাগাতার গুলি ছোড়ারও অভিযোগ উঠেছে। তাতে এখন পর্যন্ত তিন যুবকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
মসজিদের সমীক্ষা কেন করা হচ্ছে?
স্থানীয় একটি আদালতের নির্দেশ অনুসারে সম্ভলের ওই মসজিদে সমীক্ষার কাজ শুরু করা হয়েছে। গত ১৯ নভেম্বর কেলা দেবী মন্দির কমিটির তরফ থেকে চনদৌসির একটি আদালতে মামলা রুজু করা হয়।
মামলাকারীদের দাবি, সম্ভলের শাহি জামে মসজিদ আসলে শ্রী হরিনাথ মন্দির। যা সম্রাট বাবরের শাসনকালে, ১৫২৯ সালে মসজিদে রূপান্তরিত করা হয়েছিল।
এই আবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট বিচারক আদিত্য সিং ওই দিনই মসজিদের ভিডিওগ্রাফি সমীক্ষা করার নির্দেশ দেন।









