বৃহস্পতিবার দুপুরে আজিমপুর কবরস্থানে মায়ের কবরে সমাহিত হবেন চলচ্চিত্র অ্যাক্টিভিস্ট, নির্মাতা ও শিক্ষক জাহিদুর রহিম অঞ্জন। এমনটাই জানিয়েছেন তার ছোট ভাই সাজ্জাদুর পান্থ।
তিনি জানান, বুধবার বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে অঞ্জনের মরদেহ নিয়ে আসা হবে। ঢাকায় পৌঁছুতে সন্ধ্যা হবে। বিমান বন্দরে তার মরদেহ গ্রহণ করবেন অঞ্জনের বন্ধু-আত্মীয়-প্রিয়জন। রাতে ইস্কাটন (বিয়াম স্কুলের পাশে) বোনের বাসায় গোসলের পর বাদ এশা স্থানীয় মসজিদে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
পান্থ জানান,বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় নেয়া হবে সিদ্ধেশ্বরী স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে, সেখানে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মরদেহ নেয়া হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদে, এখানে বাদ যোহর তৃতীয় জানাজা শেষে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে।
মায়ের কবরে সমাহিত হবেন অঞ্জন, এমনটা জানিয়ে পান্থ বলেন,“সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজিমপুর কবরস্থানে মায়ের কবরে দাফন করা হবে আমাদের বড় ভাইকে।”
কথা সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ‘রেইনকোট’ গল্প অবলম্বনে ২০১৪ সালে নিজের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা ‘মেঘমল্লার’ নির্মাণ করেন অঞ্জন। যে ছবির জন্য তিনি ‘শ্রেষ্ঠ পরিচালক’ ও ‘শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা’ হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।
১৯৬৪ সালের ২৭ নভেম্বর জন্ম নেয়া অঞ্জন ১৯৮৭ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১৯৯০ সালে ভারতের পুনে ফিল্ম ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট থেকে ‘ডিরেকশন এন্ড স্ক্রিপ্ট রাইটিং’-এর উপর স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা অর্জন করেন। স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের শিক্ষক ছিলেন তিনি। এছাড়াও বাংলাদেশ ও চলচ্চিত্র টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (বিসিটিআই), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে চলচ্চিত্র শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র আন্দোলন কর্মী, শর্টফিল্ম ফোরামের সাবেক সভাপতি ও চলচ্চিত্র শিক্ষকের মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোক ও স্মৃতিচারণ করছেন চলচ্চিত্রের সহকর্মী থেকে অগনিত মানুষ। অঞ্জনের দাম্পত্য সঙ্গী জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক শাহীন আখতার।









