বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরামের সাবেক সভাপতি, চলচ্চিত্র আন্দোলন কর্মী, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও শিক্ষক জাহিদুর রহিম অঞ্জনের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তাঁর মরদেহ বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে রাখা হবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমনটাই জানিয়েছে বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরাম।
বুধবার সন্ধ্যায় পাঠানো ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টা ৩০ মিনিট থেকে ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য চলচ্চিত্র নির্মাতা অঞ্জনের মরদেহ জাতীয় জাদুঘরের সামনে রাখা হবে। এরপর আজিমপুর কবরস্থানে মায়ের কবরে তাকে দাফন করা হবে।
এই গুণী নির্মাতা বেঙ্গালুরুর স্পর্শ হাসপাতালে লিভার ট্রান্সপ্যান্টের পর অপারেশনপরবর্তী জটিলতায় ২৪ ফেব্রুয়ারি মারা যান। বুধবার বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে অঞ্জনের মরদেহ ঢাকা নিয়ে আসা হয়। রাতে ইস্কাটন বিয়াম স্কুল মসজিদে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় নেয়া হবে সিদ্ধেশ্বরী স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে, সেখানে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মরদেহ নেয়া হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদে, এখানে বাদ যোহর তৃতীয় জানাজা শেষে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে।
জাহিদুর রহিম অঞ্জন ২০১৪ সালে কথা সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ‘রেইনকোট’ গল্প অবলম্বনে নিজের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মেঘমল্লার’ নির্মাণ করেন। এই চলচ্চিত্রের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ পরিচালক ও শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর মনসমীক্ষামূলক উপন্যাস অবলম্বনে তাঁর পরবর্তী পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘চাঁদের অমাবস্যা’ মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
জাহিদুর রহিম অঞ্জনের জন্ম ১৯৬৪ সালের ২৭ নভেম্বর। ১৯৮৭ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি এবং ১৯৯০ সালে ভারতের পুনে ফিল্ম ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট থেকে ডিরেকশন এন্ড স্ক্রিপ্ট রাইটিং-এর উপর স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা অর্জন করেন। তিনি স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। এছাড়াও তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ সিনেমা এন্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (বিসিটিআই) এবং পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইন্সটিটিউটে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে যুক্ত ছিলেন।









