কথায় আছে যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে। তেমনি যেন যে খেলে সে সুন্দর সুন্দর ছবিও তোলে! বলা হচ্ছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের দুই তারকা নওশিন জাহান নীতি ও আনিকা তানজুমের কথা। বয়সভিত্তিক নারী দলের মিডফিল্ডার নীতি ও ফরোয়ার্ড আনিকা মাঠে প্রতিপক্ষকে সামাল দেয়ার সঙ্গে সমানতালে চালান ক্যামেরাও।
গত সেপ্টেম্বরে নেপালকে হারিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ জাতীয় দলের মেয়েরা। পাঁচ মাস পর শিরোপা এসেছে বয়সভিত্তিক দলের হাত ধরে। মেয়েদের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে ঘরের মাঠে নেপালকেই হারিয়ে শিরোপা জিতেছে লাল-সবুজের দল। সেই দলের অন্যতম সদস্য নীতি ও আনিকা।
ফুটবলের পাশাপাশি দুজনেরই নেশা ছবি তোলায়। মঙ্গলবার চ্যানেল আইতে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসে তারা জানালেন প্রফেশনাল ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলার অনুভূতি। মিডফিল্ডার নীতি বললেন, ‘দুই বছর ধরে ক্যামেরা ব্যবহার করি। কোনো অনুষ্ঠানে গেলে ক্যামেরাটা নিয়ে যাই, কারণ আমাদের হাতে কোনো মোবাইল থাকে না।’
‘সবধরনের ছবি তুলতে পছন্দ করি। আমার বন্ধু(আনিকা) আমার ছবি তুলে দেয়। ঘুরতে যাওয়া বা অনুষ্ঠানের ছবি তুলতেই বেশি পছন্দ করি। সময় নিয়ে ছবি তুলতে বেশি ভালো লাগে।’
ফুটবলে ক্যারিয়ারের শুরুটা নিছক খেলাকে ভালোবেসে। খেলতে পছন্দ করতেন বলে স্কুলে ছেলেদের সঙ্গেও ফুটবল ম্যাচ খেলতেন নীতি, ‘ছোট সময় থেকেই ফুটবল খেলছি। আগে ছেলেদের সঙ্গে খেলতাম। প্রাইমারি স্কুলে বেশি ফুটবল খেলতাম। এরপর বঙ্গমাতা থেকে ফুটবলের সঙ্গে আমার পথচলা শুরু।’
ফুটবলে যুক্ত হতে মেয়েদের অনেককেই পড়তে হয়েছে নানা বাধার মুখে। সেদিক থেকে ভিন্ন ছিল নীতির পরিবার। বাবা ও বোনের সহযোগিতায় এসেছেন এতদূর।
‘পরিবারের কাছ থেকে অনেক সহযোগিতা পেয়েছি। বিশেষ করে আমার বাবা ও আপু বেশি সাপোর্ট করেছে। আমরা দেখেছি অন্যান্য মেয়েদের ফুটবলে আসতে পরিবার থেকে অনেক বাধা আসে, আসলে আমার ক্ষেত্রে তেমন কিছুই হয়নি। আমাকে আমার স্যাররা ও গ্রামের মানুষজনও অনুপ্রেরণা দিয়েছেন।’
অনূর্ধ্ব-২০ দলের আরেক সদস্য ও নীতির ঘনিষ্ঠ বন্ধু আনিকা তানজুম। ১৫ নম্বর জার্সিতে খেলেন ফরোয়ার্ড হিসেবে। তিনিও পছন্দ করেন ছবি তুলতে। সতীর্থের ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুললেও আক্ষেপ নেই আনিকার।
‘ছবি তোলার থেকে তুলে দিতে বেশি ভালো লাগে। আমার ক্যামেরা নেই তাতে কোনো আক্ষেপ নেই। ক্যামেরা থাকলেও হয়ত এত ছবি তুলতাম না। নীতির ক্যামেরা দিয়েই প্রচুর ছবি তোলা হয়।’







